বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

সাত বছর পর জমকালো আয়োজনে গকসুর চতুর্থ অভিষেক অনুষ্ঠিত

সানজিদা খানম ঊর্মি, গবি প্রতিনিধি: দীর্ঘ সাত বছর পর গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ গকসুর ৪র্থ অভিষেক অনুষ্ঠান। রবিবার (৩০ নভেম্বর) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে জাতীয় সংগীত, কুরআন তেলাওয়াত এবং প্রয়াত শিক্ষক মো. আখতার-উল-আলম ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সঙ্গীত পরিচালক এনায়েত এ মাওলা জিন্নাহর স্মরণে এক মিনিট নীরবতার মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। […]

সাত বছর পর জমকালো আয়োজনে গকসুর চতুর্থ অভিষেক অনুষ্ঠিত

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৯:৩২

সানজিদা খানম ঊর্মি, গবি প্রতিনিধি:

দীর্ঘ সাত বছর পর গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ গকসুর ৪র্থ অভিষেক অনুষ্ঠান।

রবিবার (৩০ নভেম্বর) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে জাতীয় সংগীত, কুরআন তেলাওয়াত এবং প্রয়াত শিক্ষক মো. আখতার-উল-আলম ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সঙ্গীত পরিচালক এনায়েত এ মাওলা জিন্নাহর স্মরণে এক মিনিট নীরবতার মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উদ্বোধন করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।

ড. সিরাজুল চৌধুরী বলেন, ‘জাফরুল্লাহর হাত ধরেই গড়ে উঠেছে এই প্রতিষ্ঠান। তিনি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ই নয়, অসংখ্য জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান গড়েছেন। ছাত্র সংসদ কী, তার গুরুত্ব তিনিই সবচেয়ে ভালো জানতেন। বিশ্ববিদ্যালয় কোনো কারিগরি স্থাপনা নয়; এটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান, যেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মিলনে জ্ঞানচর্চা দাঁড়ায়। ছাত্র সংসদ ছাড়া কোনো বিশ্ববিদ্যালয় স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে গণ বিশ্ববিদ্যালয় পথপ্রদর্শক। ছাত্র সমাজ দেশের ইতিহাসে যে ভূমিকা রেখেছে, ৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, তা আজও অনুকরণীয়।’

পুঁজিবাদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বর্তমান উন্নয়ন কাঠামো মুনাফাকেন্দ্রিক। এর কারণে পৃথিবী জুড়ে মহামারি, অগ্নিকাণ্ড, ভূমিকম্পের মতো প্রতিশোধমূলক সংকট দেখা দিচ্ছে। পুঁজিবাদ চরম সংকটে রয়েছে। প্রশ্ন হলো, ব্যক্তিমালিকানার এই কাঠামোই কি চলবে, নাকি সামাজিক মালিকানার দিকে সমাজ এগোবে?’

বিশেষ অতিথি অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, ‘ছাত্র সংসদ মূলত শিক্ষার্থীদের নিজস্ব সরকার। তাদের সুবিধা-অসুবিধার বিষয়গুলো প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সমাধান করাই সংসদের দায়িত্ব। শৃঙ্খলা বজায় রাখা, প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি—এসব দায়িত্বও এই সংসদ পালন করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, একদিন গণ বিশ্ববিদ্যালয় দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় হবে। উন্নয়ন, নিষ্ঠা ও অগ্রগতির মাধ্যমে এমন অবস্থানে যেতে হবে, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী গর্ব করে বলতে পারে, এটাই তার বিশ্ববিদ্যালয়।’

সম্প্রতি র‍্যাগিং ঘটনাটি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমরা জানি। প্রশাসন তদন্ত কমিটি করেছে। আইনানুগ ব্যবস্থা দ্রুত নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।’

গকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) বলেন, ‘আজ আমাদের ৪র্থ ছাত্র সংসদের অভিষেক। আমি স্মরণ করছি গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী স্যারকে। দীর্ঘ সাত বছর ছাত্র সংসদ বন্ধ ছিল, এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ভবিষ্যতে যেন আর কখনো এত বছর নির্বাচন বন্ধ না থাকে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন মানে অংশগ্রহণের সুযোগ, কাজ করার সুযোগ। সব প্রার্থীর ইশতেহার আমরা এক করে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।’

অনুষ্ঠানের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন বলেন, ‘প্রথমেই স্মরণ করছি আমাদের স্বপ্নদ্রষ্টা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী স্যারকে। তিনি গণমানুষের চিকিৎসার কথা ভেবে গণস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন; বিশ্ববিদ্যালয়েও নেতৃত্ব সৃষ্টির লক্ষ্যে গড়ে তুলেছিলেন ছাত্র সংসদ।’

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রচেষ্টায় বিশ্ববিদ্যালয় আরও ভালো অবস্থানে যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি, অধিকার রক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করাই হবে এই সংসদের মূল দায়িত্ব।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ওয়ালিউল ইসলাম, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, কর্মচারী, গকসুর নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দ এবং জাকসুর সাবেক উপাচার্য মো. আমিরুল ইসলামসহ জাকসু নেতারা।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।