দক্ষিণ এশিয়ার আকাশে আবারও যুদ্ধের আশঙ্কা ঘনিয়ে এসেছে। শনিবার (১১ অক্টোবর) রাতে আফগান বাহিনীর হামলায় অন্তত ৫৮ পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে তালেবান সরকার। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সীমান্তে সংঘর্ষের পুনরাবৃত্তি দুই দেশের সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে, যা পুরো দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
বৃহস্পতিবার ও শনিবারের ধারাবাহিক সংঘর্ষে উভয় দেশই সীমান্তচৌকি দখল ও ধ্বংসের দাবি করেছে। পাকিস্তান বিমান বাহিনী কাবুলসহ পাকটিকা প্রদেশে বিমান হামলা চালায়, যার জবাবে আফগান বাহিনী পাল্টা হামলা চালিয়ে পাকিস্তানি সেনা হত্যার দাবি তোলে। তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সংঘর্ষ সীমান্ত উত্তেজনাকে বৃহত্তর যুদ্ধে রূপ দিতে পারে। প্রায় ১,৬০০ মাইল দীর্ঘ দুর্গম সীমান্তে নিয়মিত সংঘর্ষ কূটনৈতিক সম্পর্ককেও জটিল করে তুলেছে। পাকিস্তান অভিযোগ করছে, আফগানিস্তান তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানকে (টিটিপি) আশ্রয় দিচ্ছে, যারা পাকিস্তানি সেনাদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। ইসলামাবাদ আরও দাবি করছে, ভারতের সহায়তায় টিটিপি শক্তিশালী হচ্ছে।
চীন পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে উভয় দেশকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যস্থতার আগ্রহ প্রকাশ করে বলেছেন, “আমি ফিরে এলে এই যুদ্ধের ভালো সমাধান দিতে পারব।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি সংঘাত চলতে থাকে, তবে এটি শুধু পাকিস্তান ও আফগানিস্তান নয়—পুরো দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?