জাতীয় ছাত্র আন্দোলনের সময় দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আগুন দেওয়ার পেছনে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ছিল—এমন বক্তব্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন স্থানীয় সরকার ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
তিনি বলেছেন, ওই জুন–জুলাই আন্দোলনকে দমন ও আন্দোলনকারীদের দোষারোপ করার অজুহাতে পরিকল্পিতভাবে বেশ কিছু স্থাপনায় আগুন দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে তা আন্দোলনকারীদের ওপর চাপানো হয়েছিল।
বুধবার (৯ অক্টোবর) ট্রাইব্যুনাল-১-এ পিডব্লিউ-১৯ (প্রসিকিউশন উইটনেস) হিসেবে অংশগ্রহণ করে সজীব ভূঁইয়া তার ধারাবাহিক জবানবন্দি শুরু করেন। তিনি ওই সময় আন্দোলনের সূত্রপাত, বাড়তি উত্তেজনা ও সরকার-সহযোগিতায় সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনার সময়রেখা বিস্তারিত তুলে ধরেন এবং বলেন,
আন্দোলন চলাকালে বহু মিথ্যা মামলা দায়ের ও ব্যাপক গ্রেফতারের মাধ্যমে আন্দোলনকে সংকুচিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। ট্রাইব্যুনাল ওই দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ অসম্পূর্ণ রেখেই পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
সজীব জানান, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে চলা আন্দোলনকে ১৪ জুলাই রাতে একটি উস্কানিমূলক বক্তব্যের পর নতুন মাত্রা যোগ করা হয়; এরপরই ছাত্রলীগ ও বহিরাগতদের হামলায় শতাধিক আন্দোলনকারী আহত হন।
অন্যান্য দিনগুলিতে পুলিশি পরিস্থিতি তীব্র হয়ে ওঠে এবং কয়েকটি বড় শহরে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর গুলি চালানো হয়—যার খবর সংগ্রহ করা হয়েছে এবং নিহতের সংখ্যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট তথ্যে রেফারেন্স দেওয়া হয়েছে।
ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালে আদালত আগামী ১৬ অক্টোবর সাক্ষ্য গ্রহণ পুনরায় চালানোর দিন ধার্য করেছেন। প্রসিকিউশন দল ও ট্রাইব্যুনালের সদস্যরা মামলার প্রাসঙ্গিক দলিল-প্রমাণ যাচাই এবং ঘটনার ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নেয়ার মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ মামলায় সরাসরি ও পরোক্ষভাবে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে—তাদের দায়প্রমাণ কিংবা যুক্তিতর্ক শেষ না হওয়া পর্যন্ত সকল পক্ষকে নীরিক্ষা ও আইনি প্রক্রিয়ার সম্মান বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পরবর্তী দিন ধার্য ১৬ অক্টোবরের শুনানিতে সজীবের বাকি জবানবন্দি ও সংযুক্ত প্রমাণ উপস্থাপন ট্রাইব্যুনালের বিরুদ্ধে ও সমাজে ব্যাপক মনোযোগ ধরে রাখছে।