সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সোশ্যাল মিডিয়া

ন্যায়বিচারের পথে এক ধাপ এগোল বাংলাদেশ: এইচআরডব্লিউ

“সেই সময় তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ওই প্রতিবেদনকে ‘অপপ্রচার’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, নিখোঁজরা আসলে পলাতক অপরাধী বা প্রতারক।”

নিউজ ডেস্ক

১০ অক্টোবর ২০২৫, ২২:২৩

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বাংলাদেশে গুম, গোপন আটক ও নির্যাতনের অভিযোগে ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে আদালত, যা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)

বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানসহ সাবেক ও বর্তমান বেশ কয়েকজন সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার পর সংস্থাটি এক প্রতিক্রিয়া জানায়।

এইচআরডব্লিউয়ের এশিয়া অঞ্চলের উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলী তার প্রতিক্রিয়ামূলক প্রতিবেদনের শিরোনাম দিয়েছেন—
“ন্যায়বিচারের পথে এক ধাপ এগোল বাংলাদেশ”

প্রতিবেদনের শুরুতেই তিনি স্মরণ করান ২০১৭ সালে এইচআরডব্লিউ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের কথা, যেখানে বাংলাদেশের গোপন আটক, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছিল। মীনাক্ষী লেখেন,

“সেই সময় তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ওই প্রতিবেদনকে ‘অপপ্রচার’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, নিখোঁজরা আসলে পলাতক অপরাধী বা প্রতারক।”

তিনি আরও বলেন,

“তখন তিনি তদন্তের আশ্বাস দিয়েছিলেন, কিন্তু কখনোই কোনো তদন্ত হয়নি।”

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত শেখ হাসিনার আমলে বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এবং গুমের ঘটনা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। সরকারের প্রতিক্রিয়া সাধারণত অস্বীকার বা সময়ক্ষেপণেই সীমিত ছিল।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে টানা তিন সপ্তাহের আন্দোলনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হন, এবং শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে। পরে নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা নেয় এবং গুমের ঘটনার তদন্তে একটি স্বাধীন কমিশন গঠন করে।

কমিশনে ১,৮৫০টিরও বেশি অভিযোগ জমা পড়ে, যার মধ্যে অন্তত তিন শতাধিক ব্যক্তি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হয়।
সম্প্রতি কমিশন ‘আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথ’ শিরোনামে একটি তথ্যচিত্র প্রকাশ করেছে, যাতে এসব ঘটনার ভয়াবহতা ও মানবিক বিপর্যয়ের বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগ আমলে সংঘটিত গুম, গোপন আটক ও নির্যাতনের এসব ঘটনার বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে করার সিদ্ধান্ত নেয়।

বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খানসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিলের পর আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করেন।

মীনাক্ষী গাঙ্গুলী প্রতিবেদনে বলেন,

“অভিযোগ ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন সেইসব পরিবারের সদস্যরা, যাদের ঘটনা আমরা নথিভুক্ত করেছিলাম। তাদের মধ্যে একজন মীর আহমদ বিন কাসেম (আরমান নামে পরিচিত), যিনি ২০১৬ সালে নিখোঁজ হওয়ার কয়েক দিন আগে আমাকে উদ্বেগ জানিয়ে চিঠি লিখেছিলেন। তাকে আট বছর ধরে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার গোপন আটককেন্দ্রে রাখা হয়েছিল এবং হাসিনা সরকারের পতনের পরই মুক্তি পান।”

তিনি আরও লেখেন,

“এই দীর্ঘ বছরগুলোতে তার স্ত্রী প্রায়ই আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতেন, খবরের আশায় ব্যাকুল হয়ে থাকতেন। আরমানের মুক্তি নিখোঁজ পরিবারগুলোর জন্য আশার প্রতীক। তিনি এখন সুস্থ আছেন এবং একটি বইও লিখেছেন।”

তবে মীনাক্ষী সতর্ক করে বলেন,

“মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার শুরু হলেও এখনো সুষ্ঠু বিচারের মানদণ্ড ও মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে। অভিযুক্তদের বিচার অবশ্যই ন্যায়বিচারের মানদণ্ড মেনে হতে হবে।”

আন্তর্জাতিক মহল এই পদক্ষেপকে বাংলাদেশের গুম ও রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের দায়মুক্ত সংস্কৃতি ভাঙার প্রথম দৃশ্যমান পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।

সোশ্যাল মিডিয়া

পাটওয়ারী-সারজিসের গাড়ি বহরে লীগের জয় বাংলা হয়েছে,আরও বেশি বেশি আ.লীগের পাশে থাকুন, দোচন খান: ইলিয়াস

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের সফরকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি পোস্টে দাবি করা হয়েছে, এনসিপির নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমের গাড়িবহরকে লক্ষ্য করে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া হয়েছে। পোস্টে আরও বলা হয়, এ ঘটনাকে আওয়ামী লীগের প্রতি জনসমর্থনের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ওই পোস্টে […]

পাটওয়ারী-সারজিসের গাড়ি বহরে লীগের জয় বাংলা হয়েছে,আরও বেশি বেশি আ.লীগের পাশে থাকুন, দোচন খান: ইলিয়াস

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৮ জুলাই ২০২৬, ২২:৪১

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের সফরকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি পোস্টে দাবি করা হয়েছে, এনসিপির নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমের গাড়িবহরকে লক্ষ্য করে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া হয়েছে। পোস্টে আরও বলা হয়, এ ঘটনাকে আওয়ামী লীগের প্রতি জনসমর্থনের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ওই পোস্টে লেখক আওয়ামী লীগের সমর্থকদের উদ্দেশে দলটির পাশে থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, প্রায় দেড় বছর আগেই এমন পরিস্থিতির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন বলে তার দাবি।

সোশ্যাল মিডিয়া

‘সুযোগ-সুবিধার জন্য দল পরিবর্তনকারীরা রাজনৈতিক পতিতা’: নুরের পোস্টে আমিরের ‘সহমত’

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের একটি পুরোনো পোস্ট শেয়ার করেছেন মুফতি আমির হামজা। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে নুরুল হক নুরের ওই পোস্টটি শেয়ার করেন তিনি। শেয়ার করা পোস্টে নুর লিখেছেন, ‘সুযোগ-সুবিধার জন্য দল পরিবর্তনকারীরা রাজনৈতিক পতিতা! যারা পতিতার মতো টাকা/সুযোগ-সুবিধায় বিক্রি হয়, এদের থেকে ভালো কিছু পাওয়ার আছে?’ শেয়ার […]

‘সুযোগ-সুবিধার জন্য দল পরিবর্তনকারীরা রাজনৈতিক পতিতা’: নুরের পোস্টে আমিরের ‘সহমত’

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪১

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের একটি পুরোনো পোস্ট শেয়ার করেছেন মুফতি আমির হামজা।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে নুরুল হক নুরের ওই পোস্টটি শেয়ার করেন তিনি।

শেয়ার করা পোস্টে নুর লিখেছেন, ‘সুযোগ-সুবিধার জন্য দল পরিবর্তনকারীরা রাজনৈতিক পতিতা! যারা পতিতার মতো টাকা/সুযোগ-সুবিধায় বিক্রি হয়, এদের থেকে ভালো কিছু পাওয়ার আছে?’

শেয়ার করা পোস্টটি দেখা যায়, নুরুল হক নুরের ওই পোস্টটি ২০২৫ সালের ১৩ জুলাই প্রকাশ করা হয়েছিল। পরে মুফতি আমির হামজা সেটি নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে শেয়ার করেন।

নুরুল হক নুরের পোস্ট শেয়ার আমির হামজা লেখেন ‘সহমত’।

সোশ্যাল মিডিয়া

হুজুররা হাসনাতের বেলায় চেতছে, বিএনপির বেলায় চুপ, ‘ওপেন শত্রুতা সহ্য হয়, মোনাফেকি না!: মাদানী

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহকে নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাম্প্রতিক বিতর্কের মধ্যে বিএনপির নেতাদের বক্তব্যের সঙ্গে আলেমদের প্রতিক্রিয়ার তুলনা টেনেছেন শিশুবক্তা হিসেবে পরিচিত রফিকুল ইসলাম মাদানী। তিনি দাবি করেছেন, হাসনাতের সঙ্গে সম্পর্ক ও জুলাইয়ের আন্দোলনে একসঙ্গে থাকার কারণেই তার বক্তব্যে কষ্ট পেয়েছেন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও আলেমরা। রোববার (৩০ আগস্ট) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে […]

হুজুররা হাসনাতের বেলায় চেতছে, বিএনপির বেলায় চুপ, ‘ওপেন শত্রুতা সহ্য হয়, মোনাফেকি না!: মাদানী

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩০ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫২

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহকে নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাম্প্রতিক বিতর্কের মধ্যে বিএনপির নেতাদের বক্তব্যের সঙ্গে আলেমদের প্রতিক্রিয়ার তুলনা টেনেছেন শিশুবক্তা হিসেবে পরিচিত রফিকুল ইসলাম মাদানী।

তিনি দাবি করেছেন, হাসনাতের সঙ্গে সম্পর্ক ও জুলাইয়ের আন্দোলনে একসঙ্গে থাকার কারণেই তার বক্তব্যে কষ্ট পেয়েছেন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও আলেমরা।

রোববার (৩০ আগস্ট) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন রফিকুল ইসলাম মাদানী।

পোস্টে তিনি লেখেন, যারা বলার চেষ্টা করছেন—এই হুজুররা হাসানাতের বেলায় এত চেতছে, অথচ ফজলুর রহমান, রুমিন ফারহানা বা অন্য কেউ বললে তো এত চেতে না। এর মাধ্যমে তারা ‘ফান্ডিং আন্দোলন’ করেন—এমন ধারণা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এর জবাবে মাদানী প্রশ্ন তোলেন, বাই রাজুতে আসেন বলার পর রুমিন ফারহানা বা ফজলুর রহমানের ডাকে কোন মাদ্রাসা ছাত্ররা গিয়েছিল শাহবাগে? কিংবা আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার আন্দোলনে কার ডাকে স্কুলের পাশাপাশি মাদ্রাসা ছাত্ররা গিয়েছিল?

হাসনাত আবদুল্লাহর সঙ্গে নিজের যোগাযোগের প্রসঙ্গ তুলে মাদানী বলেন, একদিন হাসনাত তাকে ফোন করে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলনের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় আসতে বলেছিলেন। এতে তিনি অবাক হয়েছিলেন, কারণ তার নম্বর হাসনাত কোথা থেকে পেয়েছিলেন, তা তার জানা ছিল না।

মাদানী বলেন, পরে তিনি সঙ্গে থাকা লোকজনকে নিয়ে ঢাকায় যান এবং শাহবাগে অনেক মাদ্রাসার শিক্ষার্থীকেও উপস্থিত দেখতে পান। দেশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর হাসনাতের আমন্ত্রণে তার বাড়িতে আয়োজিত মাহফিলেও গিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে রুমিন ফারহানা ও ফজলুর রহমানকে নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেন মাদানী। তাদের ‘বাইরের এজেন্ট’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, রুমিন ফারহানা বা ফজলুর রহমান—এ ধরনের লোক পায়ে ধরে সারাদিন পড়ে থাকলেও আমরা কোথাও যাব না। এদের আমরা বাইরের এজেন্ট মনে করি। এদের বক্তব্যের মাঝেমধ্যে প্রতিবাদ করি, আবার করিও না!

হাসনাত আবদুল্লাহ, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও নাহিদ ইসলাম মাদ্রাসা বা মসজিদে গেলে শিক্ষার্থীরা তাদের নিজেদের মানুষ মনে করে সম্মান ও ভালোবাসা দেখান বলেও দাবি করেন মাদানী।

তিনি লেখেন, ‘এখন সেই মানুষগুলো যখন সংসদের মতো জায়গায় এভাবে না জেনে, না শুনে বক্তব্য দিলে কষ্ট তো লাগবেই!’

মাদানীর ভাষ্য, আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে থাকা ‘শাহবাগী মার্কা কথা বলা’ ব্যক্তিদের বক্তব্যে আলেমদের তেমন প্রতিক্রিয়া হয় না, কারণ তাদের তিনি ‘চিহ্নিত’ বলে মনে করেন। কিন্তু যাদের সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন এবং যাদের প্রতি ভালোবাসা ও সম্পর্ক রয়েছে, তারা এমন কিছু করলে সেটিকে তিনি ‘বেঈমানী’ হিসেবে দেখেন।