শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

মুন্সিগঞ্জে এক বছরের ব্যবধানে ডাকাতি–ছিনতাই হত্যা : নদীপথ থেকে মহাসড়ক পর্যন্ত আতঙ্ক

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি মুন্সিগঞ্জ—ঢাকার উপকণ্ঠের এ জনপদ একসময় শান্তিপূর্ণ এলাকাই ছিল। তবে গত এক বছরে পরিস্থিতি পাল্টে গেছে সম্পূর্ণ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে চলতি ২৬ আগস্ট ২০২৫ পর্যন্ত ডাকাতি, ছিনতাই, চুরি ও হত্যার একের পর এক ঘটনা জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘটতে থাকে। এতে সাধারণ মানুষের মনে ভয়, আতঙ্ক ও ক্ষোভ দানা বেঁধেছে। গত বছরের ২৩ […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৬ আগস্ট ২০২৫, ২৩:১৪

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি

মুন্সিগঞ্জ—ঢাকার উপকণ্ঠের এ জনপদ একসময় শান্তিপূর্ণ এলাকাই ছিল। তবে গত এক বছরে পরিস্থিতি পাল্টে গেছে সম্পূর্ণ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে চলতি ২৬ আগস্ট ২০২৫ পর্যন্ত ডাকাতি, ছিনতাই, চুরি ও হত্যার একের পর এক ঘটনা জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘটতে থাকে। এতে সাধারণ মানুষের মনে ভয়, আতঙ্ক ও ক্ষোভ দানা বেঁধেছে।

গত বছরের ২৩ অক্টোবর সিরাজদিখান উপজেলার মোরিচা এলাকায় ঢাকা–দোহার সড়কে এক যাত্রীবাহী বাসে পুলিশ পরিচয়ে সংঘবদ্ধ ডাকাতদল স্বর্ণ ব্যবসায়ী রামপ্রসাদ হালদারের কাছ থেকে সাত লাখ টাকা ও তিন ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে।

ঘটনাটি আলোড়ন তোলে পুরো জেলায়। পরে পুলিশের অভিযানে মাত্র ১২ দিনের মধ্যে ডাকাত দলের সাতজনকে গ্রেফতার করা হয় এবং উদ্ধার হয় লুট হওয়া গয়না ও ব্যবহৃত মোটরসাইকেল।

মুন্সিগঞ্জের অপরাধ চক্রের সঙ্গে সবচেয়ে আলোচিত নাম ছিল বাবলা ওরফে উজ্জ্বল। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মেঘনা নদীপথে ডাকাতি এবং অবৈধ বালু ব্যবসার নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন।

গত বছরের ২২ অক্টোবর রাতে গজারিয়ার মল্লিকের চর এলাকায় এক বন্দুকযুদ্ধে বাবলা নিহত হন। প্রতিপক্ষ চক্রের গুলিতে তিনি মারা যান বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা। তার মৃত্যুতে এলাকায় স্বস্তি ফিরলেও পরবর্তী মাসগুলোতে নতুন নতুন চক্র মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।

মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাইকারীরা সক্রিয় থেকে যাচ্ছে। সম্প্রতি পুলিশের অভিযানে ইজিবাইক ছিনতাইকারী একটি সংঘবদ্ধ দলের সাত সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই চক্র দীর্ঘদিন ধরে রাতের বেলায় ইজিবাইক চালকদের টার্গেট করে ছিনতাই চালাচ্ছিল।

তবে সবচেয়ে দুঃসাহসী ঘটনা ঘটেছে চলতি মাসে। ২৫ আগস্ট ২০২৫ রাতে গজারিয়ার জামালপুর এলাকায় নবগঠিত পুলিশ ক্যাম্পে অন্তত ৫০–৬০ জন ডাকাত ট্রলারযোগে হামলা চালায়।

আধাঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এ সংঘর্ষে ডাকাতরা ককটেল ও গুলি চালায়। পুলিশ পাল্টা গুলি ছুড়ে অন্তত ২৪ রাউন্ড শেল নিক্ষেপ করে। পরে ডাকাতরা চাঁদপুরমুখী নদীপথে পালিয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ডাকাতরা এত বড় দুঃসাহস দেখাতে পারছে কারণ তাদের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক ও অস্ত্রের মজুদ রয়েছে। এ ধরনের হামলা পুলিশের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

একাধিক এলাকাবাসী জানান, সন্ধ্যার পর থেকে রাস্তায় চলাফেরা করতে ভয় পাচ্ছেন তাঁরা। বিশেষ করে নদীপথে ট্রলারযোগে যাতায়াতকারীরা সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে রয়েছেন। ব্যবসায়ীরাও ভোগান্তিতে—স্বর্ণ, নগদ অর্থ কিংবা পণ্য পরিবহন করতে হলে নিরাপত্তা নিয়ে দ্বিগুণ চিন্তায় পড়তে হচ্ছে।

মুন্সিগঞ্জ জেলা পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “অপরাধীদের দমনে আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। কয়েকটি বড় ডাকাত চক্রকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে নদীপথের অপরাধ মোকাবেলায় আরো সমন্বিত পদক্ষেপ দরকার।”

আইনশৃঙ্খলা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নিয়মিত টহল, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত না করলে এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে। বিশেষ করে নদীপথে নজরদারি বাড়াতে ড্রোন, আধুনিক ট্রলার ও রাডার ব্যবহারের ওপর জোর দিতে হবে।

গত এক বছরে মুন্সিগঞ্জে সংঘটিত একের পর এক ডাকাতি, ছিনতাই ও হত্যার ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। পুলিশ কয়েকটি বড় চক্র ধরতে সক্ষম হলেও অপরাধের মাত্রা কমেনি।

বরং নতুন নতুন কৌশলে সংঘবদ্ধ অপরাধীরা নিজেদের সক্রিয় রাখছে। ফলে স্থানীয় মানুষ বলছেন, “নিরাপত্তাহীনতার ভয় নিয়ে আমরা আর বাঁচতে চাই না—প্রশাসনকে আরও শক্ত হাতে ব্যবস্থা নিতে হবে।”

সারাদেশ

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে […]

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০৪

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথে কুমিল্লার লাকসাম দক্ষিণ বাইপাস এলাকায় অবস্থিত ধামৈচা জামে মসজিদে জুমার নামাজের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান এ অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি কেবল আন্তর্জাতিক নয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপরও চরম প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্বব্যাপী এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে।

বক্তব্যে তিনি দেশের জনগণকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিকভাবে প্রস্তুত এবং আগাম সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সবাইকে ধৈর্য ও সচেতনতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেন হুইপ।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার […]

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪৫

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ

স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ।

ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার পরপর স্বজনেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, বর্তমানে ২টি শিশু ও তাদের মা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর পূর্বে উল্লাপাড়া উপজেলার বালসাবাড়ি ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মানিক চাঁদের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাকে নির্যাতন করতো। এই বিষয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়। এর মধ্যেই তাদের ঘর আলো করে মুস্তাকিম ও মাহিম নামের দুই ছেলে সন্তান। পারিবারিক কলহের জের ধরেই স্বামীর সাথে ঝগড়ার পর আজ সকালে বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে পাখি খাতুন প্রথমে নিজে কীটনাশক পান করে এবং পরে ২ ছেলেকে কীটনাশক পান করায়। পরে তারা যন্ত্রাণায় চিৎকার করলে স্বজনেরা দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার জানান, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ৪ বছর ও ৮ বছর বয়সী ২টি শিশু ও তাদের মা’কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরে ৮ বছর বয়সী মুস্তাকিমকে ওয়াশ করা হয়, কীটনাশক পানের সময় বেশি হ‌ওয়ায় দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কীটনাশক পান করা ২টি শিশু ও তাদের মা’কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।