রবিবার, ১০ মে ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

মঠবাড়িয়া আঃলীগের অর্থ দাতা পুলিশ কনস্টেবল জেএম খালেক যেভাবে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন

মজিবর রহমান,মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি দেশের উন্নয়ন,অগ্রগতি,সমৃদ্ধি সমুন্নত রাখতে হলে দূর্নীতি রুখতে হবে। দূর্নীতি রুখতে না পারলে সকল অর্জন ম্লান হয়ে যাবে। সরকারের দীর্ঘ ১৬ বছরের দেশব্যাপী সকল সেক্টরের সীমাহীন দূর্নীতির পাগলা ঘোড়ার লাগাম বন্ধ করে অন্তর্বতী সরকার শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করলেও মঠবাড়িয়া উপজেলার দূর্নীতির রাজপূএ সাবেক পুলিশ কনেষ্টবল জে এম খালেকের শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

২২ আগস্ট ২০২৫, ০২:৪৭

মজিবর রহমান,মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি

দেশের উন্নয়ন,অগ্রগতি,সমৃদ্ধি সমুন্নত রাখতে হলে দূর্নীতি রুখতে হবে। দূর্নীতি রুখতে না পারলে সকল অর্জন ম্লান হয়ে যাবে। সরকারের দীর্ঘ ১৬ বছরের দেশব্যাপী সকল সেক্টরের সীমাহীন দূর্নীতির পাগলা ঘোড়ার লাগাম বন্ধ করে অন্তর্বতী সরকার শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করলেও মঠবাড়িয়া উপজেলার দূর্নীতির রাজপূএ সাবেক পুলিশ কনেষ্টবল জে এম খালেকের শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের খতিয়ে দেখেনি দুদক সহ সরকারের কোন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। 

বাংলাদেশ পুলিশের কনেস্টবল পদে চাকুরী করে রাজধানীসহ নিজ এলাকায় রাজসিক বাড়ী ঢাকার বসুন্ধরা, মিরপুরে একাধিক ফ্ল্যাট এবং অর্ধশত বিঘা জমি কিনে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন জেএম খালেক।

অনুসন্ধানে জানাগেছে, পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার তুষখালী ইউনিয়নের শাখারীকাঠি গ্রামের এস্কান্দার জমাদ্দারের ছেলে জেএম খালেক প্রান্তিক পর্যায়ের পরিবারে জন্ম নিয়ে স্কুল জীবনে এলাকার পুকুর, খাল ও বিলের শাপলা তুলে জীবন জীবিকার ও লেখাপড়ার খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হয়েছে।

কোনমতে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করে ভাগ্য ফেরাতে ২০০৫ইং সালে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন। তিনি বরিশাল, ঝালকাঠী, কিছুদিন চাকুরী করার পর ডিএমপি’তে বদলী হলে রাজারবাগ কর্মস্থলে পুলিশের উর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার এক আত্মীয় সাথে সখ্যতা তৈরি হয়।

সে সুবাধে তার শুরু হয় পুলিশের নিয়োগ বাণিজ্য, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ করে স্বাস্থ্য সহকারী পরিবার পরিকল্পনার মাঠ কর্মীদের থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময় দেদারছে নিয়োগ বাণিজ্য চালিয়ে গেছেন।

এরপর তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। মাত্র ১৫/১৬ বছরের মধ্যেই তিনি যেন আলাদিনের চেরাগ পেয়ে যায়। চাকুরীর ৮/৯ বছরের মধ্যে তিনি ঢাকা বরিশালসহ মঠবাড়িয়ায় একাধিক রাজকীয় বাড়ীর মালিক বনে যান। তার এই আকস্মিক উত্থানে মঠবাড়িয়ার রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গসহ জনগণের মাঝে ব্যাপক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

রাজারবাগ পুলিশ লাইনে চাকুরীরত অবস্থায় মিরপুর নতুন বাজার বেকারী গলিতে দুটি অত্যাধুনিক ফ্ল্যাট রয়েছে। একটি তৃতীয় তলায়, অপরটি পঞ্চম তলায় এবং বসুন্ধরায় রোড নং -১ ব্লক নং- ডি, বাসা নং ২২/ এ সহ দুটি আলিশান ফ্ল্যাট রয়েছে।

বর্তমানে তার স্ত্রী নিয়ে সেখানে একটিতে তিনি বসবাস করছেন। এছাড়াও মঠবাড়িয়া পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের মোমেনিয়া মাদ্রাসার খালের পূর্ব দিকে ২০২০ সালে তিন কাঠা জমিতে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে চোখ ধঁাধঁানো ৪ তলা ভবন নির্মাণ করেছেন।

ওই ভবনের পিছনে দেড় কাঠা জমিতে ৩য় তলা ছাদ ঢালাইয়ের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। বরিশালের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বাড়ি নির্মাণ করার জন্য প্লট কিনেছেন। জেএম খালেকের জন্মস্থান শাখারীকাঠি, শ্বশুর বাড়ী বেতমোর নতুন হাট, বোনের বাড়ী নিজামিয়া এলাকায় অর্ধশতাধিক ধানী (নাল) জমি স্বজনদের নামে ক্রয় করেন। বর্তমানেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে ২০টি মন্ত্রণালয় তদবীর বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।

সুচতুর এ দূর্নীতি পরায়ন জেএম খালেক অন্য ড্রাইভারের নামে কোটি টাকার গাড়ী কিনে ঢাকার শহর দাবিয়ে বেড়াচ্ছে। যার গাড়ী নং-ঢাকা-মেট্টো (ঘ-১২৩০৩৭)। এর আগে প্রভাব খাটিয়ে তিনি ঢাকা সহ বিভিন্ন স্থানে চলাচলের জন্য যে গাড়ীটি ব্যবহার করতেন তাতে সংসদ সদস্যের স্টীকার ব্যবহার করা হতো।

প্রশাসন যাতে তার অবস্থায় সনাক্ত করতে না পারে সেজন্য প্রতারক জেএম খালেক বিদেশী রাউটার ব্যবহার ও বিভিন্ন লোকের নামে প্রায় শতাধিক মোবাইল সীম ব্যবহার করছেন।

তিনি মঠবাড়িয়ার আওয়ামীলীগের একটি গ্রুপের বড় ডোনার ছিলেন বিধায় ছাত্র জনতার কোটা বিরোধী আন্দোলনে ৫ আগস্টের পর থেকে আত্মগোপনে তিনি বিদেশে চলে যান। এর আগে গত ২০২৪ এর জাতীয় সংসদ ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচনে তার পছন্দের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে কোটি কোটি টাকা খরচ করার জনশ্রুতি রয়েছে।

তার এ অবৈধ বিপুল অর্থ, বৈভব বাংলাদেশ সরকারের ট্যাক্সের আওতাধীন নেই বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। এ ধুর্ত খালেক দেশের মধ্যে তিনি যেন সৌদি আরবের কোন শেখ পরিবারের প্রিন্সের স্টাইলে বিমানে যাতায়াত করে থাকেন। তার বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচার ও স্বর্ন চোরাচালানের অভিযোগ রয়েছে

৫ আগস্ট থেকে মঠবাড়িয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা মামলা হামলার ভয়ে ভারতে আত্মগোপনে রয়েছেন। সেখানে খালেক ভারতে গিয়ে নেতাদের সাথে দেখা ও রীতিমত মোটা অংকের আর্থিক সহায়তা করছেন বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়। কিছুদিন পূর্বে খালেককে গ্রেফতারের জন্য যৌথ বাহিনী তার বাসায় অভিযান চালায়।

অভিযানের আগাম খবর পেয়ে তিনি বাসা থেকে পালিয়ে যান। এদিকে এলাকায় জেএম খালেককে নিয়ে রাতারাতি বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার খবর নিয়ে চলছে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের মাঝে আলোচনা ও কৌতুহল।

এলাকার জনৈক ব্যক্তি জেএম খালেকের বিরুদ্ধে তৎকালিন সাবেক পুলিশের মহাপরিদর্শক বেনজির আহমেদের বরাবরে তার দূর্নীতির অভিযোগ দায়ের করলে সুচতুর খালেক মোটা অংকের উৎকোচ দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেন।

একই অভিযোগ দুদকে দেয়া হলে দুদক বিষয়টি তদন্ত না করে রহস্যজনকভাবে এড়িয়ে যান। একটি প্রতারনা মামলায় দীর্ঘদিন হাজতবাস করার পর পরবর্তীতে দূর্নীতির অভিযোগ ও মামলা হতে রেহাই পেতে করোনকালিন সময় চাকুরি ছেড়ে দেন। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার বাচ্চু মিয়া আকন জানান, কনেস্টবল পদে জেএম খালেক চাকুরী করে কিভাবে বসুন্ধরা, মিরপুরে ফ্ল্যাট ও মঠবাড়িয়ায় রাজসিক বাড়ীর মালিক হলেন।

বর্তমানে এটি মঠবাড়িয়ার আলোচনার বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়েছে। তার সীমাহীন দূর্নীতির বিষয়টি দুদকের অনুসন্ধান করা উচিত। আমি মনে করি, আওয়ামীলীগ আমলে দূর্নীতি করে পার পেলেও এ সরকারের আমলে দূর্নীতি করে পার পাবে না। উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মাহবুবুল ইসলাম বলেন, খালেক পুলিশ মঠবাড়িয়ার একটি আলোচিত নাম।

আওয়ামীলীগ আমলে তার টাকায় নাকি উপজেলা চেয়ারম্যান, এমপি নির্বাচিত হয়েছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তার বাড়ি রয়েছে। আওয়ামীলীগের অর্থ দাতা খালেক পুলিশকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে অতি দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে শান্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার জোর দাবী জানাচ্ছি।

উপজেলা জামায়াতের যুব ও ক্রীড়া সভাপতি মো: তারেক মনোয়ার বলেন, জেএম খালেক সামান্য পুলিশের চাকুরি করে শতকোটি টাকার মালিক বনে যাওয়ায় তার বিষয়টি মঠবাড়িয়ার বিভিন্ন মহলে আরব্য উপন্যাস আলিফ লায়লার আজব কাহিনীকেও হার মানিয়েছে।

সে যতবড় ধূর্তবাজ হোক না কেন তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় আসতে হবে। তার এ অবৈধ সম্পদ রক্ষায় কিছু অসাধু রাজনৈতিক নেতাদের ছত্র-ছায়ায় নিজেকে বাঁচাতে চেষ্টা করছেন। উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক মো: শামীম মিয়া মৃধা বলেন, কিছু সংখ্যক দূর্নীতিবাজ ফ্যাসিবাদের দলীয় ক্যাডাররূপী ছাত্র জনতার রক্ত পিপাসু পুলিশ বাহিনীকে গোটা জাতির কাছে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

অবিলম্বে দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর অনুসন্ধান করে মামলা রুজু করার দাবী জানাচ্ছি এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বিষয়টি মাথায় নিয়ে পুলিশ সদস্য খালেককে গ্রেফতার করে তার অবৈধ অর্থ বাজেয়াপ্ত করে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। অভিযুক্ত জেএম খালেকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার অর্থ সম্পদের বিষয় তদন্ত করার দায়িত্ব কোন সাংবাদিকদের নয়।

সরকারের বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থা রয়েছে। এ বিষয় পিরোজপুর দুর্নীতি দমন কমিশন( দুদক) এর সহকারী পরিচালক আরিফ হোসেন জানান,দুর্নীতি করে পার পাবার কোন সুযোগ নেই। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

সারাদেশ

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে […]

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০৪

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথে কুমিল্লার লাকসাম দক্ষিণ বাইপাস এলাকায় অবস্থিত ধামৈচা জামে মসজিদে জুমার নামাজের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান এ অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি কেবল আন্তর্জাতিক নয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপরও চরম প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্বব্যাপী এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে।

বক্তব্যে তিনি দেশের জনগণকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিকভাবে প্রস্তুত এবং আগাম সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সবাইকে ধৈর্য ও সচেতনতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেন হুইপ।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার […]

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪৫

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ

স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ।

ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার পরপর স্বজনেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, বর্তমানে ২টি শিশু ও তাদের মা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর পূর্বে উল্লাপাড়া উপজেলার বালসাবাড়ি ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মানিক চাঁদের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাকে নির্যাতন করতো। এই বিষয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়। এর মধ্যেই তাদের ঘর আলো করে মুস্তাকিম ও মাহিম নামের দুই ছেলে সন্তান। পারিবারিক কলহের জের ধরেই স্বামীর সাথে ঝগড়ার পর আজ সকালে বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে পাখি খাতুন প্রথমে নিজে কীটনাশক পান করে এবং পরে ২ ছেলেকে কীটনাশক পান করায়। পরে তারা যন্ত্রাণায় চিৎকার করলে স্বজনেরা দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার জানান, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ৪ বছর ও ৮ বছর বয়সী ২টি শিশু ও তাদের মা’কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরে ৮ বছর বয়সী মুস্তাকিমকে ওয়াশ করা হয়, কীটনাশক পানের সময় বেশি হ‌ওয়ায় দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কীটনাশক পান করা ২টি শিশু ও তাদের মা’কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

সারাদেশ

নিখোঁজের ২ দিন পর মেঘনায় ভেসে উঠলো পুলিশ সদস্যের নিথর দেহ

লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি: ভোলার লালমোহন উপজেলায় মৎস্য অভিযানে গিয়ে লঞ্চের ধাক্কায় স্পিডবোট উল্টে নিখোঁজ হওয়ার দুইদিন পর পুলিশ কনস্টেবল মো. ফখরুল ইসলামের সন্ধান মিলেছে। শুক্রবার বিকেলে দৌলতখান উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের বটতলা এলাকার মেঘনা নদীর পাড়ে পড়েছিল ওই পুলিশ কনস্টেবলের নিথর দেহ। তিনি লালমোহন উপজেলার মঙ্গলসিকদার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে লালমোহন থানার […]

নিখোঁজের ২ দিন পর মেঘনায় ভেসে উঠলো পুলিশ সদস্যের নিথর দেহ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২০ মার্চ ২০২৬, ২৩:০২

লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি:

ভোলার লালমোহন উপজেলায় মৎস্য অভিযানে গিয়ে লঞ্চের ধাক্কায় স্পিডবোট উল্টে নিখোঁজ হওয়ার দুইদিন পর পুলিশ কনস্টেবল মো. ফখরুল ইসলামের সন্ধান মিলেছে। শুক্রবার বিকেলে দৌলতখান উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের বটতলা এলাকার মেঘনা নদীর পাড়ে পড়েছিল ওই পুলিশ কনস্টেবলের নিথর দেহ। তিনি লালমোহন উপজেলার মঙ্গলসিকদার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে লালমোহন থানার ওসি মো. অলিউল ইসলাম বলেন, গত বুধবার সন্ধ্যার পর মঙ্গলসিকদার লঞ্চঘাট এলাকা থেকে মেঘনা নদীতে মৎস্য অভিযানের জন্য মৎস্য অফিসের ৩ সদস্য ও একজন পুলিশ অফিসারসহ ৩ জন কনস্টেবল স্পিডবোটে করে মেঘনা নদীতে রওয়ানা দেন।

এ সময় যাত্রীবাহী লঞ্চ কর্ণফুলী-১২ এর সঙ্গে ধাক্কা লেগে স্পিডবোটটি উল্টে যায়। এ ঘটনায় ওই স্পিডবোটে থাকা সবাই তীরে উঠতে পারলেও নদীতে ডুবে নিখোঁজ হয়ে যান কনস্টেবল মো. ফখরুল ইসলাম। তাকে উদ্ধার করতে গত দুইদিন ধরে কাজ করেছেন নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সদস্যরা।

তিনি আরও বলেন, শুক্রবার বিকেলে খবর পাওয়া যায় দৌলতখান উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের বটতলা এলাকার মেঘনা নদীর পাড়ে পুলিশের পোশাক পরিহিত এক ব্যক্তির মরদেহ পড়েছিল।

স্থানীয়রা বিষয়টি দেখতে পেয়ে দৌলতখান থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করেন। দৌলতখান থানা পুলিশের দেওয়া তথ্যে আমরা নিশ্চিত হই ওই মরদেহটি নিখোঁজ কনস্টেবল মো. ফখরুল ইসলামের। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।