সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

মঠবাড়িয়া আঃলীগের অর্থ দাতা পুলিশ কনস্টেবল জেএম খালেক যেভাবে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন

মজিবর রহমান,মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি দেশের উন্নয়ন,অগ্রগতি,সমৃদ্ধি সমুন্নত রাখতে হলে দূর্নীতি রুখতে হবে। দূর্নীতি রুখতে না পারলে সকল অর্জন ম্লান হয়ে যাবে। সরকারের দীর্ঘ ১৬ বছরের দেশব্যাপী সকল সেক্টরের সীমাহীন দূর্নীতির পাগলা ঘোড়ার লাগাম বন্ধ করে অন্তর্বতী সরকার শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করলেও মঠবাড়িয়া উপজেলার দূর্নীতির রাজপূএ সাবেক পুলিশ কনেষ্টবল জে এম খালেকের শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

২২ আগস্ট ২০২৫, ০২:৪৭

মজিবর রহমান,মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি

দেশের উন্নয়ন,অগ্রগতি,সমৃদ্ধি সমুন্নত রাখতে হলে দূর্নীতি রুখতে হবে। দূর্নীতি রুখতে না পারলে সকল অর্জন ম্লান হয়ে যাবে। সরকারের দীর্ঘ ১৬ বছরের দেশব্যাপী সকল সেক্টরের সীমাহীন দূর্নীতির পাগলা ঘোড়ার লাগাম বন্ধ করে অন্তর্বতী সরকার শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করলেও মঠবাড়িয়া উপজেলার দূর্নীতির রাজপূএ সাবেক পুলিশ কনেষ্টবল জে এম খালেকের শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের খতিয়ে দেখেনি দুদক সহ সরকারের কোন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। 

বাংলাদেশ পুলিশের কনেস্টবল পদে চাকুরী করে রাজধানীসহ নিজ এলাকায় রাজসিক বাড়ী ঢাকার বসুন্ধরা, মিরপুরে একাধিক ফ্ল্যাট এবং অর্ধশত বিঘা জমি কিনে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন জেএম খালেক।

অনুসন্ধানে জানাগেছে, পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার তুষখালী ইউনিয়নের শাখারীকাঠি গ্রামের এস্কান্দার জমাদ্দারের ছেলে জেএম খালেক প্রান্তিক পর্যায়ের পরিবারে জন্ম নিয়ে স্কুল জীবনে এলাকার পুকুর, খাল ও বিলের শাপলা তুলে জীবন জীবিকার ও লেখাপড়ার খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হয়েছে।

কোনমতে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করে ভাগ্য ফেরাতে ২০০৫ইং সালে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন। তিনি বরিশাল, ঝালকাঠী, কিছুদিন চাকুরী করার পর ডিএমপি’তে বদলী হলে রাজারবাগ কর্মস্থলে পুলিশের উর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার এক আত্মীয় সাথে সখ্যতা তৈরি হয়।

সে সুবাধে তার শুরু হয় পুলিশের নিয়োগ বাণিজ্য, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ করে স্বাস্থ্য সহকারী পরিবার পরিকল্পনার মাঠ কর্মীদের থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময় দেদারছে নিয়োগ বাণিজ্য চালিয়ে গেছেন।

এরপর তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। মাত্র ১৫/১৬ বছরের মধ্যেই তিনি যেন আলাদিনের চেরাগ পেয়ে যায়। চাকুরীর ৮/৯ বছরের মধ্যে তিনি ঢাকা বরিশালসহ মঠবাড়িয়ায় একাধিক রাজকীয় বাড়ীর মালিক বনে যান। তার এই আকস্মিক উত্থানে মঠবাড়িয়ার রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গসহ জনগণের মাঝে ব্যাপক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

রাজারবাগ পুলিশ লাইনে চাকুরীরত অবস্থায় মিরপুর নতুন বাজার বেকারী গলিতে দুটি অত্যাধুনিক ফ্ল্যাট রয়েছে। একটি তৃতীয় তলায়, অপরটি পঞ্চম তলায় এবং বসুন্ধরায় রোড নং -১ ব্লক নং- ডি, বাসা নং ২২/ এ সহ দুটি আলিশান ফ্ল্যাট রয়েছে।

বর্তমানে তার স্ত্রী নিয়ে সেখানে একটিতে তিনি বসবাস করছেন। এছাড়াও মঠবাড়িয়া পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের মোমেনিয়া মাদ্রাসার খালের পূর্ব দিকে ২০২০ সালে তিন কাঠা জমিতে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে চোখ ধঁাধঁানো ৪ তলা ভবন নির্মাণ করেছেন।

ওই ভবনের পিছনে দেড় কাঠা জমিতে ৩য় তলা ছাদ ঢালাইয়ের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। বরিশালের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বাড়ি নির্মাণ করার জন্য প্লট কিনেছেন। জেএম খালেকের জন্মস্থান শাখারীকাঠি, শ্বশুর বাড়ী বেতমোর নতুন হাট, বোনের বাড়ী নিজামিয়া এলাকায় অর্ধশতাধিক ধানী (নাল) জমি স্বজনদের নামে ক্রয় করেন। বর্তমানেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে ২০টি মন্ত্রণালয় তদবীর বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।

সুচতুর এ দূর্নীতি পরায়ন জেএম খালেক অন্য ড্রাইভারের নামে কোটি টাকার গাড়ী কিনে ঢাকার শহর দাবিয়ে বেড়াচ্ছে। যার গাড়ী নং-ঢাকা-মেট্টো (ঘ-১২৩০৩৭)। এর আগে প্রভাব খাটিয়ে তিনি ঢাকা সহ বিভিন্ন স্থানে চলাচলের জন্য যে গাড়ীটি ব্যবহার করতেন তাতে সংসদ সদস্যের স্টীকার ব্যবহার করা হতো।

প্রশাসন যাতে তার অবস্থায় সনাক্ত করতে না পারে সেজন্য প্রতারক জেএম খালেক বিদেশী রাউটার ব্যবহার ও বিভিন্ন লোকের নামে প্রায় শতাধিক মোবাইল সীম ব্যবহার করছেন।

তিনি মঠবাড়িয়ার আওয়ামীলীগের একটি গ্রুপের বড় ডোনার ছিলেন বিধায় ছাত্র জনতার কোটা বিরোধী আন্দোলনে ৫ আগস্টের পর থেকে আত্মগোপনে তিনি বিদেশে চলে যান। এর আগে গত ২০২৪ এর জাতীয় সংসদ ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচনে তার পছন্দের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে কোটি কোটি টাকা খরচ করার জনশ্রুতি রয়েছে।

তার এ অবৈধ বিপুল অর্থ, বৈভব বাংলাদেশ সরকারের ট্যাক্সের আওতাধীন নেই বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। এ ধুর্ত খালেক দেশের মধ্যে তিনি যেন সৌদি আরবের কোন শেখ পরিবারের প্রিন্সের স্টাইলে বিমানে যাতায়াত করে থাকেন। তার বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচার ও স্বর্ন চোরাচালানের অভিযোগ রয়েছে

৫ আগস্ট থেকে মঠবাড়িয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা মামলা হামলার ভয়ে ভারতে আত্মগোপনে রয়েছেন। সেখানে খালেক ভারতে গিয়ে নেতাদের সাথে দেখা ও রীতিমত মোটা অংকের আর্থিক সহায়তা করছেন বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়। কিছুদিন পূর্বে খালেককে গ্রেফতারের জন্য যৌথ বাহিনী তার বাসায় অভিযান চালায়।

অভিযানের আগাম খবর পেয়ে তিনি বাসা থেকে পালিয়ে যান। এদিকে এলাকায় জেএম খালেককে নিয়ে রাতারাতি বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার খবর নিয়ে চলছে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের মাঝে আলোচনা ও কৌতুহল।

এলাকার জনৈক ব্যক্তি জেএম খালেকের বিরুদ্ধে তৎকালিন সাবেক পুলিশের মহাপরিদর্শক বেনজির আহমেদের বরাবরে তার দূর্নীতির অভিযোগ দায়ের করলে সুচতুর খালেক মোটা অংকের উৎকোচ দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেন।

একই অভিযোগ দুদকে দেয়া হলে দুদক বিষয়টি তদন্ত না করে রহস্যজনকভাবে এড়িয়ে যান। একটি প্রতারনা মামলায় দীর্ঘদিন হাজতবাস করার পর পরবর্তীতে দূর্নীতির অভিযোগ ও মামলা হতে রেহাই পেতে করোনকালিন সময় চাকুরি ছেড়ে দেন। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার বাচ্চু মিয়া আকন জানান, কনেস্টবল পদে জেএম খালেক চাকুরী করে কিভাবে বসুন্ধরা, মিরপুরে ফ্ল্যাট ও মঠবাড়িয়ায় রাজসিক বাড়ীর মালিক হলেন।

বর্তমানে এটি মঠবাড়িয়ার আলোচনার বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়েছে। তার সীমাহীন দূর্নীতির বিষয়টি দুদকের অনুসন্ধান করা উচিত। আমি মনে করি, আওয়ামীলীগ আমলে দূর্নীতি করে পার পেলেও এ সরকারের আমলে দূর্নীতি করে পার পাবে না। উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মাহবুবুল ইসলাম বলেন, খালেক পুলিশ মঠবাড়িয়ার একটি আলোচিত নাম।

আওয়ামীলীগ আমলে তার টাকায় নাকি উপজেলা চেয়ারম্যান, এমপি নির্বাচিত হয়েছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তার বাড়ি রয়েছে। আওয়ামীলীগের অর্থ দাতা খালেক পুলিশকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে অতি দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে শান্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার জোর দাবী জানাচ্ছি।

উপজেলা জামায়াতের যুব ও ক্রীড়া সভাপতি মো: তারেক মনোয়ার বলেন, জেএম খালেক সামান্য পুলিশের চাকুরি করে শতকোটি টাকার মালিক বনে যাওয়ায় তার বিষয়টি মঠবাড়িয়ার বিভিন্ন মহলে আরব্য উপন্যাস আলিফ লায়লার আজব কাহিনীকেও হার মানিয়েছে।

সে যতবড় ধূর্তবাজ হোক না কেন তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় আসতে হবে। তার এ অবৈধ সম্পদ রক্ষায় কিছু অসাধু রাজনৈতিক নেতাদের ছত্র-ছায়ায় নিজেকে বাঁচাতে চেষ্টা করছেন। উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক মো: শামীম মিয়া মৃধা বলেন, কিছু সংখ্যক দূর্নীতিবাজ ফ্যাসিবাদের দলীয় ক্যাডাররূপী ছাত্র জনতার রক্ত পিপাসু পুলিশ বাহিনীকে গোটা জাতির কাছে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

অবিলম্বে দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর অনুসন্ধান করে মামলা রুজু করার দাবী জানাচ্ছি এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বিষয়টি মাথায় নিয়ে পুলিশ সদস্য খালেককে গ্রেফতার করে তার অবৈধ অর্থ বাজেয়াপ্ত করে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। অভিযুক্ত জেএম খালেকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার অর্থ সম্পদের বিষয় তদন্ত করার দায়িত্ব কোন সাংবাদিকদের নয়।

সরকারের বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থা রয়েছে। এ বিষয় পিরোজপুর দুর্নীতি দমন কমিশন( দুদক) এর সহকারী পরিচালক আরিফ হোসেন জানান,দুর্নীতি করে পার পাবার কোন সুযোগ নেই। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।