শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

‘তুমি কে আমি কে রাজাকার রাজাকার’ স্লোগানে ফের উত্তাল ঢাবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজপথ আবারও সরগরম হয়ে উঠেছে কোটাবিরোধী আন্দোলনের স্লোগানে। ১৪ জুলাই দিনটি ঘিরে শতশত শিক্ষার্থী রাজপথে নেমে আসে, মুখে ছিল সেই পুরনো কিন্তু এখন আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠা স্লোগান—“তুমি কে, আমি কে, রাজাকার রাজাকার।” গত বছরের এই তারিখে ঘটে যাওয়া একটি রাজনৈতিক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আন্দোলন নতুন করে দানা বাঁধে, যার রেশ কাটেনি বরং নতুন […]

‘তুমি কে আমি কে রাজাকার রাজাকার’ স্লোগানে ফের উত্তাল ঢাবি

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৪ জুলাই ২০২৫, ২৩:১২

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজপথ আবারও সরগরম হয়ে উঠেছে কোটাবিরোধী আন্দোলনের স্লোগানে। ১৪ জুলাই দিনটি ঘিরে শতশত শিক্ষার্থী রাজপথে নেমে আসে, মুখে ছিল সেই পুরনো কিন্তু এখন আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠা স্লোগান—“তুমি কে, আমি কে, রাজাকার রাজাকার।” গত বছরের এই তারিখে ঘটে যাওয়া একটি রাজনৈতিক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আন্দোলন নতুন করে দানা বাঁধে, যার রেশ কাটেনি বরং নতুন উদ্দীপনায় তা ফিরে এসেছে।

২০২৪ সালের ১৪ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এক সংবাদ সম্মেলনে কোটাবিরোধী আন্দোলন নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, যদি দুইজন সমান মেধাবী প্রার্থী থাকেন—একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং অন্যজন রাজাকারের সন্তান—তবে তিনি মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকেই চাকরির জন্য বেছে নেবেন। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যটি মুহূর্তেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। বহু শিক্ষার্থী এবং সচেতন নাগরিক মনে করেন, এটি কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের অবজ্ঞা ও অবমূল্যায়নের প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়। অনেকের চোখে এটা ছিল রাজনীতিকভাবে বিভাজন তৈরির চেষ্টা, যা মেধার মূল্যায়নের প্রশ্নে সাংঘর্ষিক।

এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া খুব দ্রুতই শিক্ষার্থীদের ক্ষোভে পরিণত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো থেকে শিক্ষার্থীরা রাতেই মিছিল নিয়ে টিএসসিতে এসে জড়ো হন। তাদের মুখে ছিল ক্ষোভ, অপমানের জবাব এবং নিজের পরিচয়ের দাবি। শুধু ছাত্ররাই নয়, ছাত্রীদের অংশগ্রহণও ছিল লক্ষণীয়। অনেক ছাত্রী হলের গেট ভেঙে আন্দোলনে যোগ দেন। স্লোগান উঠে: “চাইতে এলাম অধিকার, হয়ে গেলাম রাজাকার”, “কে বলেছে কে বলেছে, স্বৈরাচার স্বৈরাচার।” পুরো ক্যাম্পাস একপ্রকার বিক্ষোভের নগরীতে পরিণত হয়। আন্দোলনের ঢেউ শুধু ঢাবি নয়, দেশের অন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজেও ছড়িয়ে পড়ে।

এই পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে ছাত্রলীগ হলে হলে অবস্থান নেয় এবং কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের ধাওয়া দেয়। কিন্তু শিক্ষার্থীরা সংঘবদ্ধ হয়ে আন্দোলন চালিয়ে যেতে থাকে। আন্দোলন যে স্তিমিত হয়ে আসছিল, তা আবারও প্রাণ ফিরে পায়। শিক্ষার্থীরা মনে করেন, কোটার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াটা তাদের সাংবিধানিক অধিকার, সেটিকে রাজাকারের উত্তরসূরি বলে আখ্যা দেওয়া নিছক অবিচার। তাই তারা আর চুপ করে না থেকে রাজপথে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে তোলে।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য কেবল শিক্ষার্থী সমাজে নয়, সরকারি মহলেও বিতর্কের জন্ম দেয়। অনেক সাবেক আমলা, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী ও সাধারণ নাগরিক সামাজিক মাধ্যমে এ বক্তব্যের বিরোধিতা করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্যের অংশ বিশেষ নিয়ে তৈরি হতে থাকে কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও নানা রকম সমালোচনামূলক পোস্ট। এটি কেবল রাজনৈতিক নয়, সামাজিক দ্বন্দ্বকেও উস্কে দেয় বলে অনেকে মনে করেন।

এই আন্দোলন এখন আর কেবল চাকরি পাওয়া না পাওয়ার বিষয় নয়। এটি হয়ে উঠেছে আত্মসম্মান ও স্বীকৃতির আন্দোলন। শিক্ষার্থীরা বারবার বুঝিয়ে দিয়েছে, তারা নিছক সুবিধা চায় না; তারা চায় সম্মান, ন্যায্যতা এবং পরিচয়ের ওপর ভিত্তি করে বিচার, অপবাদ বা তিরস্কার নয়। ‘তুমি কে, আমি কে, রাজাকার’—এই স্লোগান আজ কেবল প্রতিবাদের নয়, বরং একপ্রকার প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে উঠেছে। এই প্রজন্ম আর রাজনীতির ভুল ব্যাখ্যায় নিজেদের পরিচয় হারাতে চায় না। তারা ইতিহাসকে সম্মান করে, তবে বিভাজন নয়, চায় সাম্য আর স্বচ্ছতা।

এই আন্দোলন প্রমাণ করে দিয়েছে, কোনো দমন-পীড়ন, কোনো রাজনৈতিক কৌশল, কোনো অপমানের ভাষা—তাদের চেতনাকে দমাতে পারবে না। বরং সম্মান ও ন্যায়বিচারহীন একটি বক্তব্যই কিভাবে আগুন হয়ে ছড়িয়ে পড়ে, তার এক জীবন্ত প্রমাণ হয়ে থাকবে ১৪ জুলাইয়ের এই ঘটনাবলি। এটি কেবল একটি তারিখ নয়, এক নতুন প্রজন্মের আত্মপরিচয় ও অধিকার আদায়ের দিন হিসেবেই ইতিহাসে লিপিবদ্ধ হবে।

জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ অংশ নিতে পারবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নিউজ ডেস্ক

০৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয়

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় […]

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৪২

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চেয়ারম্যানকে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২১ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা আগের ২২ সদস্যের পরিষদ বাতিল করা হয়েছে। নতুন আদেশ অনুযায়ী, পরিষদ বছরে অন্তত দুইবার সভা করবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সভা আয়োজন এবং বিশেষজ্ঞ সদস্য কো-অপ্ট করার সুযোগও থাকবে।

পরিষদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, ফার্মেসি কাউন্সিল, এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই) এবং বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির প্রতিনিধিরাও সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ সরকারের কাছে জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন, দেশীয় ঔষধ শিল্পের উন্নয়ন, অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা হালনাগাদ, ঔষধ উৎপাদন, আমদানি ও রপ্তানি-সংক্রান্ত নীতিগত বিষয়ে পরামর্শ দেবে।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানেও পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

জাতীয়

মায়ের গলিত লাশ উদ্ধার, মুখ খুললেন বুয়েট অধ্যাপক ছেলে: আমার মা সিজোফ্রেনিয়ার রোগে আক্রান্ত

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ জুন ২০২৬, ১১:১৯

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই দাবি করেন।

৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ গত ৩১ মে রাতে উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি মেয়ে ফাতিমা নাসরীন সুলতানার সঙ্গে বসবাস করতেন। মরদেহ উদ্ধারের পর বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বৃদ্ধার এক ছেলে মোংলা স্থলবন্দরের যুগ্ম সচিব। আরেক ছেলে বুয়েটের শিক্ষক। তারা মায়ের কাছে থাকতেন না।

নিহতের ছেলে বুয়েটের অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান বলেন, মায়ের মৃত্যুতে পরিবার এমনিতেই মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার তাদের আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। মায়ের অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ সময় মা তার সঙ্গেই ছিলেন। করোনাকালেও তিনি মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ২০২৪ সাল থেকে মা তার মেয়ের সঙ্গে থাকছিলেন।

তিনি জানান, তাদের বাবা মো. আবুল কাশেম ২০০৮ সালে মারা যান। ২০১৭ সালে ফাতিমা নাসরীনের স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি একাই মায়ের দেখাশোনা করছিলেন। ফাতিমা নাসরীনের কোনো সন্তান নেই। তার মায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহপ্রবণতা ছিল, যা সিজোফ্রেনিয়ার উপসর্গের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে।

একইভাবে স্বামী হারানোর পর তার বোনও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে তিনি মনে করেন। তবে তাদের কাউকেই কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়া হয়নি।

বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সম্পর্কে আশিকুর রহমান বলেন, তার বোন বাইরের গৃহকর্মী রাখতে চাইতেন না। তিনি নিজে কয়েকবার সহায়তার চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী হয়নি। এছাড়া মাও অন্যের হস্তক্ষেপ পছন্দ করতেন না। ঘটনার দিন, ৩১ মে বিকেলে ফাতিমা নাসরীন ফোন করে জানান, মায়ের কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর নার্স ডাকা, পুলিশকে অবহিত করা এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয় বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার প্রক্রিয়ার সময় উপস্থিত থাকা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামছুর রহমান জানান, জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে গিয়ে তিনি বাসাটিকে বসবাসের অনুপযোগী অবস্থায় দেখতে পান। তার দাবি, মরদেহের ডান চোখ ও পিঠে পোকা ছিল। তবে আশিকুর রহমান এ দাবি অস্বীকার করেছেন।

এদিকে পচনধরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মায়ের প্রতি অবহেলার দায়ে ছেলে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, আনিসুর রহমানকে পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির জানান, বৃদ্ধা তার মেয়ের বাড়িতে থাকতেন। একটি কক্ষে মা ও আরেকটি কক্ষে মেয়ে। রোববার বৃদ্ধার মেয়ে তাকে ডাকতে যান। সাড়া না পেয়ে তিনি একজন নার্সকে ডেকে আনেন।

তিনি ভেবেছিলেন, মা হয়তো অসুস্থ। পরে ওই নার্স রুমে ঢুকে দেখতে পান, বৃদ্ধা মারা গেছেন এবং শরীরে পচন ধরে মাংস খুলে বিছানায় পড়ে আছে। নার্স তাৎক্ষণিক বাইরে এসে লোকজনকে জানান। স্থানীয়রা ৯৯৯-এ কল দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

তিনি আরও জানান, বৃদ্ধার মেয়েকে দেখে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। মা ঘরে মরে পচে আছে, অথচ নাকে কোনো গন্ধ পাননি তিনি। বিষয়টি পুলিশকে ভাবিয়ে তুলছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।