পাকিস্তান ও ইরান পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের ঘোষণা দিয়েছে। বিশেষ করে বাণিজ্য, আঞ্চলিক সংযোগ, সীমান্ত নিরাপত্তা ও জনগণের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বৃদ্ধিতে দুই দেশ একমত হয়েছে। শনিবার (১৭ মে) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও সদ্য নির্বাচিত ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে এক টেলিফোন আলাপে এই সমঝোতায় পৌঁছানো হয়। খবর জিও নিউজের।
দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সীমান্ত থাকা সত্ত্বেও পারস্পরিক সম্পর্ক সবসময় একই ধরণের ছিল না। কখনো এই সম্পর্কের মধ্যে উত্তেজনা ও নিরাপত্তাজনিত দ্বন্দ্ব দেখা গেছে, আবার কখনো একে অপরকে সহযোগিতা করার উদাহরণও রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় ইসলামাবাদ ও তেহরান এখন আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চাইছে—বিশেষ করে সামরিক ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্ত এলাকায় যৌথ নিরাপত্তা তৎপরতা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সহযোগিতা, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিনিময় জোরদার করাকে কেন্দ্র করে এই অংশীদারিত্বের ভিত্তি গড়ে উঠছে। আফগানিস্তান ইস্যু থেকে শুরু করে গাজা সংকট পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বিষয়গুলোতেও দুই দেশের অবস্থান ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠছে।
পাকিস্তান চায় ইরানের বন্দর ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়ায় প্রবেশাধিকার বাড়াতে, আর ইরান চায় সিপিইসি করিডর ও গওাদার বন্দর ব্যবহার করে দক্ষিণ এশীয় বাজারে প্রবেশের সুযোগ। দুই দেশই ভবিষ্যৎ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য স্থির করেছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুই নেতা সরাসরি বৈঠকের পরিকল্পনা নিয়েছেন এবং আসন্ন মাসগুলোতে এই সম্পর্ক আরও মজবুত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ সীমান্ত থাকা সত্ত্বেও পারস্পরিক সম্পর্ক কখনোই একমুখী বা সরল ছিল না। নিরাপত্তা ইস্যুতে কখনো দ্বন্দ্ব, আবার কখনো সহযোগিতার নজির দেখা গেছে। তবে বর্তমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইসলামাবাদ ও তেহরান সামরিক ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় প্রকাশ করেছে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?