হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে এনসিপির প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন। তিনি বলেছেন, সংঘর্ষে তার সম্পৃক্ততা প্রমাণ করা গেলে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন।
রোববার (২ আগস্ট) এনসিপির দায়ের করা মামলায় হবিগঞ্জ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
রিংগন বলেন, তারা সবসময় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে এনসিপির দায়ের করা মামলায় তাকে জড়ানো হয়েছে, যা তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন। তার ভাষ্য, মামলায় ঘটনার তারিখ, সময় ও স্থান স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। পাশাপাশি আসামিদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগও নেই বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, “আমি এনসিপির নেতাদের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছি—যদি সংঘর্ষের ঘটনায় আমার সম্পৃক্ততা প্রমাণ করতে পারেন, তাহলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব।”
এর আগে রিংগনসহ মামলার ১১ আসামি হবিগঞ্জের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল মান্নানের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।
আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ ও জেলা শহরে এনসিপির কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে দলের নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছসহ কয়েকজন নেতাকে নিয়ে বক্তব্য দেন।
সন্ধ্যায় সমাবেশ শেষে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম সার্কিট হাউসের উদ্দেশে রওনা দিলে কোর্ট মসজিদের সামনে তাদের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ ওঠে। এতে কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সারজিস আলমসহ এনসিপির নেতাকর্মীরা সোনালী ব্যাংকের প্রধান শাখায় আশ্রয় নেন। পরে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে, যাতে অন্তত ২০ জন আহত হন।
এ ঘটনার পরদিন রাতে এনসিপির ছাত্রসংগঠন জেলা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের রুবেল বাদী হয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগনসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়।