রবিবার, ০২ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

২৫% বনের জায়গায় ৪% চরম ঝুঁকির মুখে তিস্তাবাসী

সাব্বির হোসেন, লালমনিরহাট প্রতিনিধি উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাটে ভৌগোলিক ভঙ্গুরতা, নদীভাঙন এবং ক্রমবর্ধমান খরা মোকাবিলায় বনায়ন বৃদ্ধি এখন আর কেবল কোনো স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ নয় বরং এটি এক বাধ্যতামূলক জাতীয় ও স্থানীয় দাবিতে পরিণত হয়েছে। সরকারি তথ্যানুযায়ী, ১,২৪৭.৩৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই জেলায় ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী প্রায় ১৪ লাখ ২৮ হাজার ৪০৬ জন মানুষের বসবাস। অথচ […]

২৫% বনের জায়গায় ৪% চরম ঝুঁকির মুখে তিস্তাবাসী

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ আগস্ট ২০২৬, ২১:১৬

সাব্বির হোসেন, লালমনিরহাট প্রতিনিধি

উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাটে ভৌগোলিক ভঙ্গুরতা, নদীভাঙন এবং ক্রমবর্ধমান খরা মোকাবিলায় বনায়ন বৃদ্ধি এখন আর কেবল কোনো স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ নয় বরং এটি এক বাধ্যতামূলক জাতীয় ও স্থানীয় দাবিতে পরিণত হয়েছে।

সরকারি তথ্যানুযায়ী, ১,২৪৭.৩৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই জেলায় ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী প্রায় ১৪ লাখ ২৮ হাজার ৪০৬ জন মানুষের বসবাস। অথচ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী একটি অঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় যেখানে মোট ভূখণ্ডের ২৫ শতাংশ বনাঞ্চল থাকা আবশ্যক, সেখানে লালমনিরহাটে স্থায়ী সবুজ বনাঞ্চল রয়েছে অত্যন্ত নগণ্য পরিমাণ।

জেলার বুক চিরে প্রবাহিত তিস্তা, ধরলা, সানিয়াজান ও রত্নাইসহ প্রায় ১০টি নদীর সাড়ে ৪শ’ কিলোমিটার জলসীমা এবং ২৮১.৬ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে। তবে প্রতি বছর তীব্র নদীভাঙন এবং অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে হাজার হাজার বৃক্ষ বিলীন হচ্ছে। এর বিপরীতে বনায়ন বৃদ্ধির হার অপ্রতুল হওয়ায় জেলায় পরিবেশগত বিপর্যয় স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

জলবায়ু ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তিস্তা অববাহিকার অনাবৃষ্টি, ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নামা এবং সাম্প্রতিক সময়ের অতিমাত্রার তাপমাত্রা বৃদ্ধি প্রমাণ করে যে জেলায় গাছপালার ঘনত্ব চাহিদার তুলনায় অন্তত ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ কম।

পরিবেশবিদ ও নদী গবেষণা সংস্থার আঞ্চলিক সমন্বয়ক ড. রফিকুল ইসলাম বলেন, “লালমনিরহাটের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত সংবেদনশীল। চরাঞ্চল ও সীমান্তে গাছপালার ঘাটতি থাকায় মাটি ক্ষয় বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তামাক চাষের আধিক্যে মাটির জৈব উপাদান নষ্ট হচ্ছে।

এই মুহূর্তে সরকারি ও বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগে অন্তত ৫০ লাখ নতুন গাছ লাগানো এবং সীমান্ত ও নদীবাঁধ বরাবর ‘গ্রিন বেল্ট’ বা সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা বাধ্যতামূলক করা উচিত।”

জেলাটিতে জ্বালানি গ্যাসের সুবিধা না থাকায় ইটের ভাটা, বিভিন্ন চাতাল এবং রান্নার কাজে প্রতিনিয়ত কাঠ জ্বালানো হচ্ছে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে স্থানীয় কৃষি ও সাধারণ মানুষের জীবনে।

সদর উপজেলার গোকণ্ডা ইউনিয়নের প্রান্তিক কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দা খলিলুর রহমান বলেন, “আগে চৈত্র-বৈশাখ মাসেও গ্রামে গাছের ছায়ায় স্বস্তি পাওয়া যেত। এখন গাছপালা কেটে ফেলার কারণে গরম সহ্য করা যায় না।

তাছাড়া তামাক চাষে কাঠ পোড়াতে গিয়ে গ্রামের বড় বড় গাছগুলো শেষ হয়ে গেছে। এখন আমাদের প্রতিটি পরিবারে যদি বাধ্যতামূলকভাবে ফলজ ও বনজ গাছ লাগানোর নিয়ম না করা হয়, তবে আগামীতে ফসল ফলানোই কঠিন হয়ে পড়বে।”

জলবায়ু বিপর্যয় মোকাবিলা ও সরকারি কর্মসূচির বিষয়ে লালমনিরহাট জেলা বন কর্মকর্তা ও কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের দায়িত্বশীল প্রতিনিধি জানান, “আমরা কৃষি-বনায়ন (Agroforestry) এবং সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় চলতি বছর চরাঞ্চল, সরকারি রাস্তা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্যাপক চারা রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছি।

তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব কমিয়ে কৃষকদের ফলজ বাগান ও লাভজনক পরিবেশবান্ধব চাষাবাদে সরকারি প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। তবে কেবল সরকারি উদ্যোগে লক্ষ্য পূরণ সম্ভব নয়; সাধারণ মানুষকে নিজ নিজ আঙিনা ও ক্ষেতের আইলে গাছ লাগাতে আইনি ও সামাজিক বাধ্যবাধকতা তৈরি করতে হবে।”

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নদীভাঙন রোধ, সীমান্ত এলাকার পরিবেশ সংরক্ষণ এবং বাসযোগ্য লালমনিরহাট নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, বেসরকারি সংস্থা এবং সাধারণ নাগরিকদের একযোগে এ ‘সবুজ বিপ্লবে’ অংশ নিতে হবে।

আজ একটি গাছ রোপণ ও রক্ষা করার বাধ্যবাধকতা তৈরি না করলে আগামী প্রজন্মের জন্য এই জেলা বিরানভূমিতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যাবে।

বিষয়ঃ

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।