সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

রাজনীতি

আ. লীগের সঙ্গে জোট, শরিকরা দুঃখ প্রকাশ করে ফিরতে চায় রাজনীতিতে

আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের মিত্র ১৪ দলের শরিকরা অবশেষে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে শুরু করেছেন। দীর্ঘ ১৬ বছরের রাজনৈতিক সম্পর্কের দায় আর বহন করতে চান না তারা। আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী শাসনামল, দুর্নীতি, লুটপাট, দমন-পীড়ন এবং সর্বশেষ জুলাই-আগস্ট গণহত্যার দায়ভার থেকে নিজেদের মুক্ত রাখতে চাইছেন এই জোটের বেশিরভাগ দল। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সঙ্গে পথচলার জন্য ‘দুঃখ প্রকাশ’ […]

আ. লীগের সঙ্গে জোট,  শরিকরা দুঃখ প্রকাশ করে ফিরতে চায় রাজনীতিতে

ছবি: সংগৃহিত

নিউজ ডেস্ক

০৫ মার্চ ২০২৫, ১০:১৪

আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের মিত্র ১৪ দলের শরিকরা অবশেষে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে শুরু করেছেন। দীর্ঘ ১৬ বছরের রাজনৈতিক সম্পর্কের দায় আর বহন করতে চান না তারা। আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী শাসনামল, দুর্নীতি, লুটপাট, দমন-পীড়ন এবং সর্বশেষ জুলাই-আগস্ট গণহত্যার দায়ভার থেকে নিজেদের মুক্ত রাখতে চাইছেন এই জোটের বেশিরভাগ দল। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সঙ্গে পথচলার জন্য ‘দুঃখ প্রকাশ’ করে, নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় তারা স্বাভাবিক রাজনৈতিক কার্যক্রমে ফিরতে চান।

১৪ দলের কয়েকজন সিনিয়র নেতা বলেছেন, তারা কেবল জোটের শরিক ছিলেন এবং তাদের দলগুলোর হাতে বাস্তবিক কোনো ক্ষমতা ছিল না। তারা সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ছিলেন না, বরং আওয়ামী লীগ একক আধিপত্যে দেশ শাসন করেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের সঙ্গে অতীতের জোটসঙ্গী হওয়ার কারণে জনগণের মধ্যে তারা এখন সন্দেহের দৃষ্টিতে পড়েছেন, যা তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যত অনিশ্চিত করে তুলেছে।

গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়। এরপর দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা, বহু মন্ত্রী-এমপি গ্রেপ্তার হন, কেউ কেউ আত্মগোপনে চলে যান। দেশের নানা জায়গায় আওয়ামী লীগের নেতাদের বাড়ি-ঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান জনরোষের শিকার হয়। দলটির বেশিরভাগ নেতাকর্মী এখনো আত্মগোপনে রয়েছেন। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পতনের সঙ্গে সঙ্গে ১৪ দলের শরিকরাও সংকটে পড়েছেন।

বিশেষ করে, ফ্যাসিবাদী সরকারের সহযোগী হিসেবে পরিচিত ১৪ দলের বেশ কিছু নেতা এখন জেলবন্দি। ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু সরাসরি জুলাই-আগস্ট হত্যাকাণ্ডের মামলায় অভিযুক্ত হয়ে কারাগারে আছেন। এদিকে, গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া রাজনৈতিক শক্তিগুলো আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের পাশাপাশি ১৪ দলেরও নিষিদ্ধের দাবি তুলেছে, যা শরিক দলগুলোর ভবিষ্যৎ রাজনীতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

তবে ১৪ দলের বেশ কয়েকটি দল নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষায় নড়েচড়ে বসেছে। ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাসদ সীমিত পরিসরে ঘরোয়া বৈঠক, আলোচনা সভা এবং বিবৃতির মাধ্যমে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করছে। গণতন্ত্রী পার্টির একটি অংশ জাতীয় দিবসগুলোতে কিছু কর্মসূচি পালন করছে, তরীকত ফেডারেশন মাঝে মাঝে বিবৃতি দিয়ে নিজেদের জানান দিচ্ছে, আর বাসদ (রেজাউর) জেলা ও উপজেলা সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

তবে বাকি শরিক দলগুলোর অবস্থা আরও শোচনীয়। জাতীয় পার্টি (জেপি), ন্যাপ, সাম্যবাদী দল, কমিউনিস্ট কেন্দ্র, গণআজাদী লীগ, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি এবং গণতন্ত্রী পার্টির (শাহাদাৎ) কোনো কার্যক্রমই দৃশ্যমান নয়। তারা প্রকাশ্যে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি দিতেও ভয় পাচ্ছে। তবে টেলিফোন ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে নেতারা নিজেদের ভবিষ্যত রাজনীতি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

১৪ দলের কিছু সিনিয়র নেতা আওয়ামী লীগের সঙ্গে অতীত জোটসঙ্গী হওয়ার জন্য জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নেতা বলেন, “আওয়ামী লীগের সঙ্গে থাকা আমাদের জন্য এখন অভিশাপ হয়ে গেছে। আমরা জোটের নামে শুধু নাম লিখিয়েছিলাম, কিন্তু ক্ষমতায় কোনো অংশীদারিত্ব পাইনি। এখন সেই পুরনো সম্পর্ক আমাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যত ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। আওয়ামী লীগের কারণে আমাদেরও রাজনীতির মাঠ সংকুচিত হয়ে পড়েছে।”

গণতন্ত্রী পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ডা. শহীদুল্লাহ সিকদার বলেন, “আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভিত্তিতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে গিয়েছিলাম। কিন্তু তারা গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে, স্বৈরাচারী শাসন কায়েম করেছে, দুর্নীতি করেছে, আমরা এসবের অংশ ছিলাম না। সুতরাং, আওয়ামী লীগের অপকর্মের দায় আমরা নেব না।”

বাসদের (রেজাউর) আহ্বায়ক রেজাউর রশীদ খান বলেন, “গত ১৬ বছরে আওয়ামী লীগ যে নৃশংসতা ও দুর্নীতি করেছে, তার দায়ভার তারা নিজেদেরই নিতে হবে। ১৪ দলের শরিকরা এতে দায়ী নয়। তারপরও, আমরা অতীতের এই রাজনৈতিক সঙ্গের জন্য জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করতে চাই এবং স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফিরে যেতে চাই।”

১৪ দলের অন্য শরিক দলগুলোর মধ্যেও একই ধরনের সুর শোনা যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের পতনের পর শরিক দলগুলোর ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অনেকেই নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করছেন, কেউ কেউ নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করে রাজনীতিতে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন। তবে একথা নিশ্চিত, ক্ষমতা ভাগাভাগির রাজনীতি শেষ হয়েছে এবং নতুন বাস্তবতায় ১৪ দলের শরিকরা এখন নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে নেমেছে।

৩০ অক্টোবর ২০২৫
poll_title
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট প্রশ্নে আপনার মতামত কী?

মোট ভোট: ১৪৫০৪

রাজনীতি

‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে, অপমান হজম না হওয়া পর্যন্ত সংসদে যাচ্ছি না : এমপি মনিরুল হক

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগে টানা ১১ দিন ধরে সংসদ অধিবেশন বর্জন করছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। গত ১৪ জুন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের এক রুলিং ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৫ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত তিনি সংসদে যাননি। মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে। স্পিকার ফোন […]

‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে, অপমান হজম না হওয়া পর্যন্ত সংসদে যাচ্ছি না : এমপি মনিরুল হক

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৯ জুন ২০২৬, ১১:০২

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগে টানা ১১ দিন ধরে সংসদ অধিবেশন বর্জন করছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। গত ১৪ জুন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের এক রুলিং ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৫ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত তিনি সংসদে যাননি।

মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে। স্পিকার ফোন করে সংসদে ফিরতে বললেও আমি এই অপমান এখনো হজম করতে পারছি না। যেদিন পারব, সেদিনই সংসদে যাব।’

গত ১৪ জুন, বাজেট আলোচনায় মনিরুল হক চৌধুরী বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরের বোরকা পরিহিত স্ত্রীর অতীতের একটি প্রসঙ্গ টানেন। একই সাথে সংসদে বোরকা পরা জামায়াতের নারী এমপিদের ইঙ্গিত করে কিছু মন্তব্য করেন। এতে সরকারি দলের এমপিরা হাসলেও বিরোধী দলের সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানান।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও পোশাক নিয়ে কথা বলতে নিষেধ করেন এবং মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্যের বিতর্কিত অংশটুকু সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) করার ঘোষণা দেন।

এরপর মনিরুল হক চৌধুরী দুঃখপ্রকাশ করে আত্মপক্ষ সমর্থনে পুনরায় কথা বলার জন্য ফ্লোর চাইলে ডেপুটি স্পিকার তা নাকচ করে দেন। পরবর্তীতে পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং সরকারি দলের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বিষয়টি হালকা করার চেষ্টা করে মনিরুল হক চৌধুরীকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করলেও ডেপুটি স্পিকার তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন।

এই ঘটনার পর থেকেই ক্ষোভে সংসদ বয়কট করে চলেছেন এই সংসদ সদস্য।

৩০ অক্টোবর ২০২৫
poll_title
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট প্রশ্নে আপনার মতামত কী?

মোট ভোট: ১৪৫০৪

রাজনীতি

‘আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে’: সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে আউট হয়ে গেছে বা যাচ্ছে এরকম থাকবে না বলে মন্তব্য করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন বলেছেন, আমার অনুমান তারা (আওয়ামী লীগ) দেশের আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে। সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হওয়া অত্যাচার-নিপীড়ন মানুষ ভুলে যাবে এমন […]

নিউজ ডেস্ক

২৫ মে ২০২৬, ২০:১২

আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে আউট হয়ে গেছে বা যাচ্ছে এরকম থাকবে না বলে মন্তব্য করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন বলেছেন, আমার অনুমান তারা (আওয়ামী লীগ) দেশের আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে।

সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হওয়া অত্যাচার-নিপীড়ন মানুষ ভুলে যাবে এমন ইঙ্গিত করে মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন বলেন, আমাদের মানুষজনের স্মৃতি শক্তি এতো দীর্ঘ না। আমার অনুমান তারা (আওয়ামী লীগ) দেশের আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে।

টেলিভিশনে দেয়া ওই সাক্ষাৎকারে সাবেক উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন দাবি করেন, সাত সদস্যের “কিচেন কেবিনেট” অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতো। তিনি জানান, প্রতি মঙ্গলবার নিয়মিত বৈঠক করতেন তারা। নিজ মন্ত্রণালয়ে একাধিক উপদেষ্টার প্রভাব ছিল জানিয়ে তিনবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।

তবে, তা গৃহীত হয়নি বলে জানান তিনি। যুক্তরাষ্ট্র্রের সাথে বহুল আলোচিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিছু জানতো না- দাবি করেন তৌহিদ হোসেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১১ মে থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৩৮৩

রাজনীতি

“ওসব কিছুই চাই না, আমি বড় ক্লান্ত, একেবারে অবসর চাই- শুধু ঘুমাবো” : মির্জা ফখরুল

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।” চব্বিশের ৫ আগস্ট-পূর্ববর্তী ১৭ বছর অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখে এমন উচ্চারণ শুনে মুহূর্তের জন্য থমকে যেতে হয়। রাজনীতির উত্তাল ময়দানে দীর্ঘদিনের দৃঢ় ও সংযত এই নেতার কণ্ঠে ক্লান্তির এমন স্বীকারোক্তি শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়; বরং রাজনৈতিক মহলেও নতুন প্রশ্নের জন্ম […]

নিউজ ডেস্ক

০১ জুন ২০২৬, ২০:০৬

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।”

চব্বিশের ৫ আগস্ট-পূর্ববর্তী ১৭ বছর অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখে এমন উচ্চারণ শুনে মুহূর্তের জন্য থমকে যেতে হয়। রাজনীতির উত্তাল ময়দানে দীর্ঘদিনের দৃঢ় ও সংযত এই নেতার কণ্ঠে ক্লান্তির এমন স্বীকারোক্তি শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়; বরং রাজনৈতিক মহলেও নতুন প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।

গত ২৩ এপ্রিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে গিয়েছিলাম তাঁর সঙ্গে দেখা করতে। বাইরে ছিল মানুষের ভিড়। প্রায় নিশ্চিত হয়েই ফিরে আসছিলাম—আজ আর দেখা হবে না। ঠিক তখনই তাঁর দীর্ঘদিনের সহকারী কৃষিবিদ ইউনুস আলী ডাক দিলেন।

মন্ত্রীর কক্ষে ঢুকেই চোখে পড়ল ভিন্ন এক মির্জা ফখরুলকে। রাজনীতির কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াইয়ে অভ্যস্ত মানুষটিকে সেদিন অস্বাভাবিক ক্লান্ত লাগছিল। চোখে ঘুমঘুম ভাব, মুখে অবসাদের রেখা।

অন্যদের বিদায় দেওয়ার পর বললাম, “আমার কোনো তদবির নেই, অনেক দিন দেখা হয় না—তাই শুধু সাক্ষাৎ করতে এলাম।”

শরীরের খোঁজ নিতেই তিনি ধীরে উত্তর দিলেন—

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।”

কথাটি শুনে কিছুটা বিস্মিত হয়েই বললাম, “দেশের মানুষ আপনাকে এই মন্ত্রণালয়ের পর বঙ্গভবনে দেখতে চায়।”

তিনি হালকা হাসলেন। তারপর বললেন—

“ওসব কিছুই চাই না। একেবারে অবসর চাই… শুধু ঘুমাবো।”

এই কয়েকটি বাক্য যেন দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এক অনুচ্চারিত ক্লান্তির ভাষা হয়ে উঠেছিল।

এরপর কথোপকথন গড়ায় স্মৃতির ভেতর। ২০০৮ সালে লন্ডন থেকে ফেরার পর প্রথম কোনো সাংবাদিক হিসেবে আমাকে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন তিনি।

তার কিছুদিন পর কাউন্সিলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পেয়ে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে তাঁর উত্থান ঘটে। স্মৃতিচারণে উঠে আসে বেগম খালেদা জিয়া, প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকা ও ইশরাক হোসেন প্রসঙ্গও।

৩০ অক্টোবর ২০২৫
poll_title
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট প্রশ্নে আপনার মতামত কী?

মোট ভোট: ১৪৫০৪