রাজধানীর কলাবাগান এলাকা থেকে সাবেক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) টাইটাস হিল্লোল রেমার (৫৫) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১ মার্চ) দুপুরে কলাবাগানের ক্রিসেন্ট রোডের একটি বাড়ির চারতলার ফ্ল্যাট থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
কলাবাগান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নন্দন কুমার দাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুপুরে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি আত্মহত্যার ঘটনা হতে পারে, তবে তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পরিবারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, টাইটাস হিল্লোল রেমা বেশ কিছুদিন ধরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এবং গুরুতর বিষণ্নতায় ভুগছিলেন। পারিবারিক সূত্রে আরও জানা গেছে, তিনি আর্থিক সংকটে ছিলেন এবং সাম্প্রতিক সময়ের কিছু অর্থনৈতিক ক্ষতি তার মানসিক অবস্থাকে আরও খারাপ করে তোলে। দীর্ঘদিন ধরে ঘুমের ওষুধ সেবন করতেন, যা তার বিষণ্নতার বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী টাইটাস হিল্লোল রেমা ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই সময়ের মধ্যে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলায় সরকারের পক্ষে আইনি লড়াই করেছেন এবং বিচার বিভাগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন।
তার পারিবারিক পরিচয় অনুসারে, তিনি ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট থানার রামপুরা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তার বাবার নাম লিডিং স্টোন রেমা। তবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি রাজধানীর কলাবাগানের ক্রিসেন্ট রোডের ১১৪ নম্বর বাসায় স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে বসবাস করছিলেন।
ঘটনার পরপরই পুলিশ ফ্ল্যাটটি সিলগালা করে এবং তদন্ত শুরু করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, তার পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং তার মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ব্যক্তিগত ডকুমেন্ট পরীক্ষা করে দেখা হবে, যাতে আত্মহত্যার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়।
এদিকে, তার মৃত্যুর খবরে সহকর্মী আইনজীবীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সুপ্রিম কোর্ট বারের বেশ কয়েকজন সিনিয়র আইনজীবী এ ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন। তারা জানান, টাইটাস হিল্লোল রেমা অত্যন্ত মেধাবী আইনজীবী ছিলেন, কিন্তু সম্প্রতি ব্যক্তিগত ও আর্থিক সংকটের কারণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন।
তার মৃত্যু কীভাবে ঘটেছে, এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং প্রয়োজনে তার মৃত্যুর পেছনের সম্ভাব্য কারণগুলো গভীরভাবে অনুসন্ধান করা হবে।