সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

আইন-আদালত

হাইকোর্টের রায় বহাল,সংবিধানে ফিরলো গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা

বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে সংবিধানে গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরলো বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টায় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এর আগে, গতকাল বুধবার তত্ত্বাবধায়ক […]

হাইকোর্টের রায় বহাল,সংবিধানে ফিরলো গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৯ জুলাই ২০২৬, ১০:০৬

বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে সংবিধানে গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরলো বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টায় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

এর আগে, গতকাল বুধবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি শেষ হয়। টানা তিন দিন শুনানি শুনানি শেষে রায়ের জন্য ৯ জুলাই দিন ধার্য করা হয়।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিটের পক্ষে ছিলেন ড. শরীফ ভূঁইয়া। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

গত বছরের ১৩ নভেম্বর বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দেন সর্বোচ্চ আদালত। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।

গত ৩ নভেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল দায়ের করা হয়। আপিলে পঞ্চদশ সংশোধনীর পুরোটা বাতিল চাওয়া হয়েছে। রিটকারী সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া এ আপিল দায়ের করেন।

গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট।

একইসঙ্গে সংবিধানে গণভোটের বিধান ফিরিয়ে আনেন উচ্চ আদালত। তবে পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোটা বাতিল করা হয়নি সেই রায়ে।

সেই রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, গণতন্ত্র হচ্ছে আমাদের সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ। এই গণতন্ত্র বিকশিত হয় অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপক্ষে এবং প্রভাবমুক্ত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। কিন্তু দলীয় সরকারের অধীনে বিগত তিনটি সংসদ নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার কোনো প্রতিফলন হয়নি।

দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের আত্মবিশ্বাস জনগণের মধ্যে জন্ম নেয়নি। যার ফলশ্রুতিতে হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান।

হাইকোর্ট বলছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা জনগণের অভিপ্রায় অনুযায়ী সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল এবং এটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশে পরিণত হয়েছে। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তি সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করে এ রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ে আদালত বলেন, অনুচ্ছেদ দুটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোকে ধ্বংস করেছে, যেটি হচ্ছে গণতন্ত্র।

পঞ্চদশ সংশোধনী মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত ৭ক, ৭খ, ৪৪ (২) অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করেছেন আদালত। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ৫৪টি ক্ষেত্রে সংযোজন, পরিমার্জন ও প্রতিস্থাপন আনা হয়েছিল।

রায়ে আদালত বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পুরোটা বাতিল করা হচ্ছে না। বাকি বিধানগুলোর বিষয়ে আগামী জাতীয় সংসদ আইন অনুসারে জনগণের মতামত নিয়ে সংশোধন, পরিমার্জন ও পরিবর্তন করতে পারবে। এর মধ্যে জাতির পিতার স্বীকৃতির বিষয়, ২৬ মার্চের ভাষণের বিষয়গুলো রয়েছে।

গণভোটের বিষয়ে রায়ে হাইকোর্ট বলেন, গণভোটের বিধান বিলুপ্ত করা হয়, যেটি সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অংশ ছিল। এ বিধান বিলুপ্তি সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ৪৭ ধারা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় বাতিল ঘোষণা করা হলো। ফলে দ্বাদশ সংশোধনীর ১৪২ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করা হলো।

হাইকোর্টের রায়ে ৭ ক, ৭ খ এবং ৪৪ (২) অনুচ্ছেদও বাতিল করা হয়েছে। ৭ ক অনুচ্ছেদে সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, ইত্যাদি অপরাধ এবং ৭ খ সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলি সংশোধন অযোগ্য করার কথা বলা ছিল। এদিকে ৪৪ অনুচ্ছেদে মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ বিষয়ে বলা আছে।

এই অনুচ্ছেদের ২ ধারা বলছে, এই সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীন হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতার হানি না ঘটিয়ে সংসদ আইনের দ্বারা অন্য কোনো আদালতকে তার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে ওইসব বা এর যে কোনো ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষমতা দান করতে পারবেন। এই অনুচ্ছেদটি বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে রায়ে।

গত বছরের ১৯ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী কেন অবৈধ হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেছিলেন।

সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ অন্যদের রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে আদালত এ রুল জারি করেন।

পরে রুলে পক্ষভুক্ত হন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। এছাড়া, ইনসানিয়াত বিপ্লব, গণফোরাম ও চার আবেদনকারী রুলে ইন্টারভেনর হিসেবে পক্ষভুক্ত হন।

২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয়। এই সংশোধনীর মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

এই সংশোধনীর দ্বারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। এছাড়া, জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বিদ্যমান ৪৫-এর স্থলে ৫০ করা হয়। এছাড়া, বেশকিছু বিষয়ে সংশোধনী আনা হয়।

আইন-আদালত

মিটফোর্ডে ব্যবসায়ী সোহাগকে পাথর মেরে হত্যা, প্রধান আসামির জামিন স্থগিত

পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে প্রকাশ্যে পাথর দিয়ে আঘাত করে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি মাহমুদুল হাসান মাহিনের জামিন স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। রোববার (৪ অক্টোবর) রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের শুনানি শেষে চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দেন। এর আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মো. […]

মিটফোর্ডে ব্যবসায়ী সোহাগকে পাথর মেরে হত্যা, প্রধান আসামির জামিন স্থগিত

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৩:১২

পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে প্রকাশ্যে পাথর দিয়ে আঘাত করে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি মাহমুদুল হাসান মাহিনের জামিন স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের শুনানি শেষে চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দেন।

এর আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি সৈয়দ হাসান যুবাইরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মাহিনকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। একই সঙ্গে তাকে কেন স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত। তবে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে গত ১ অক্টোবর।

হাইকোর্টে জামিন আবেদনের শুনানিতে মাহিনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান।

সেসময় ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দা সাজিয়া শারমিন জানিয়েছিলেন, মাহিনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আদালত তাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন।

তবে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল জানিয়েছিলেন, ওই জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করবে। সেই আবেদনের শুনানি নিয়েই রোববার মাহিনের জামিন স্থগিতের আদেশ দেন চেম্বার আদালত।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত বছরের ৯ জুলাই মিটফোর্ড হাসপাতালের কাছে রজনী ঘোষ লেনে ৩৯ বছর বয়সী সোহাগকে প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর পর ইট-পাথর দিয়ে বারবার আঘাত করে হত্যা করা হয়। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

হত্যাকাণ্ডের পরদিন সোহাগের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম কোতোয়ালি থানায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

তদন্ত শেষে চলতি বছরের ১২ জুলাই ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত মামলাটিতে ২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

আইন-আদালত

রবীন্দ্রনাথের ছবিতে কালি, আয়াস-রিমিসহ ৪ জন রিমান্ডে

শিল্পকলা একাডেমির সামনে দেয়ালে আঁকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি কালি দিয়ে মোছার চেষ্টার ঘটনায় করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’-এর সদস্যসচিব আ ন ম আয়াসসহ চারজনকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। আয়াসকে ৩ দিন এবং মারজিয়া খন্দকার রিমিকে ২ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া সাকিবুল হাসানকে ৩ দিন ও সুজন মিয়াকে ২ দিনের রিমান্ডে পাঠান […]

রবীন্দ্রনাথের ছবিতে কালি, আয়াস-রিমিসহ ৪ জন রিমান্ডে

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১১ অক্টোবর ২০২৬, ২০:৪৮

শিল্পকলা একাডেমির সামনে দেয়ালে আঁকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি কালি দিয়ে মোছার চেষ্টার ঘটনায় করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’-এর সদস্যসচিব আ ন ম আয়াসসহ চারজনকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে।

আয়াসকে ৩ দিন এবং মারজিয়া খন্দকার রিমিকে ২ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া সাকিবুল হাসানকে ৩ দিন ও সুজন মিয়াকে ২ দিনের রিমান্ডে পাঠান আদালত।

রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন মাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম শুনানি শেষে এসব আদেশ দেন।

এদিন আসামিদের আদালতে হাজির করেন তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল গাফফার হিমেল। তিনি আসামিদের আদালতে হাজির করে দশ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আদালতে রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি আদালতে বলেন, ‘আমাদের দেশে মানুষ রাস্তাঘাটে হাটতে পারে না, এজন্য ফুটপাত উচ্ছেদ করে আমাদের সংস্কৃতির সাথে যারা জড়িত তাদের ছবি আঁকা হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতি অঙ্কন করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আসামিরা সেগুলো মুছে দিয়ে মূলত সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। এ ছাড়া তারা ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করার চেষ্টা করছে। আসামি আয়াস বিভিন্ন সময়ে নানা বক্তব্য দিয়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। সে মানুষকে গালাগালি করে বিদ্বেষ সৃষ্টি করে পরিবেশ নষ্ট করার কাজে লিপ্ত।’

তিনি আরও বলেন, ‘সামনে দুর্গা পূজা। আমরা এ দেশে হিন্দু মুসলিম বসবাস করি,। কিন্তু রবীন্দ্রনাথের মুখে কালি দিয়ে হিন্দু সস্প্রদায়কে মূলত পূজার আগে উসকানি দেওয়া হলো।’

রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী বলেন, ‘ভাইরাল হওয়ার জন্য রাস্তাঘাটে গালাগালি করতে হবে? সরকার এবং জনগণের বিরুদ্ধে তারা বিভিন্ন সময় উসকানিমূলক কথা বলছে। সরকারের কাজকে তারা চ্যালেঞ্জ করেছে এ ঘটনার মাধ্যমে। ইচ্ছাকৃতভাবে তারা এ ঘটনার সৃষ্টি করেছে।

তিনি বলেন, ‘এর পেছনে কারা আছে সেটা জানা দরকার। কারণ এসব করতে টাকা-পয়সা খরচ হয়। তদন্তের স্বার্থে আসামিদের ১০ দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।’

ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ‘দেশে অনেকেই জুলাই যোদ্ধা দাবি করে। জুলাই যোদ্ধা বর্তমানে দেশে সবাই। কিন্তু আমরা দাবি করিনা। যাদের আগে কোনো পরিচয় ছিলোনা তারা এখন জুলাই যোদ্ধা পরিচয় দেয়। জুলাই যোদ্ধা বলে আইনের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। যা ইচ্ছে তা করা যাবেনা। পাকিস্তানে কার কবর আছে সেগুলো তো টানার দরকার ছিল না।’

অন্যদিকে আয়াসদের আইনজীবী মনির হোসেন সুমনসহ কয়েকজন রিমান্ড বাতিল চেয়ে শুনানি করেন। তারা আদালতে বলেন, ‘সব আসামি জুলাই যোদ্ধা। এ ছাড়া নারী আসামি রিমির ৩ বছরের বাচ্চা আছে।’

এসব উল্লেখ করে রিমান্ড নামঞ্জুর করে জামিনের আবেদন করেন তারা। পরে বিচারক দুগ্ধপোষ্য শিশু কি না জিজ্ঞেস করেন। শুনানি শেষে আদালত রিমান্ডের আদেশ দেন।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি মোছার চেষ্টার ঘটনায় শাহবাগ থানার এসআই জিয়াউল হক রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করেন।

ধারা অনুযায়ী, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার বিষয়টিকে অন্তর্ভূক্ত করেছেন মামলার বাদী।

এর আগে, শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে আঁকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি মুছতে গিয়ে পুলিশের বাঁধার মুখে পড়েন একদল তরুণ। এর জেরে উভয়পক্ষের বাগ-বিতণ্ডার মধ্যে আয়াসসহ ৪ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

ঘটনাস্থলে এক নারীকে রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিতে কালি দিতে দেখা যায়, তখন এক পুলিশ সদস্য তাকে বাধা দেন। তখন ওই নারী জানান, তারা ‘ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদ’ জানাতে এসেছেন। পুলিশি বাধার মুখে আয়াসের নেতৃত্বে তারা স্লোগানও দেয়।

গত ৫ অক্টোবর সেগুনবাগিচার ফুটপাত দখলমুক্ত করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এরপর ফুটপাতের দেয়ালে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, সত্যজিৎ রায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও কাজী নজরুল ইসলামসহ শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদান রাখা ১০ গুণী ব্যক্তিত্বের ছবি আঁকা হয়।

এর আগে, শুক্রবার ‘জুলাই রেভ্যুলুশনারি অ্যালায়েন্স’ নামের একটি ফেইসবুক পেইজ থেকে এই সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের ছবি আঁকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। সত্যজিৎ রায় কিংবা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে ‘পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব’ আখ্যা দিয়ে তাদের প্রতিকৃতি আঁকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। শনিবার ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’ এর আয়াসের নেতৃত্বে সেসব ছবি মুছতে যায় একদল লোক।

আইন-আদালত

ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজ

ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ২৪ প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একটি আবেদনের পর বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

নিউজ ডেস্ক

০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:৫৬

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিতে এস আলম গ্রুপের নামে থাকা ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজ করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

ইসলামী ইকোনমিক রিসার্চ ব্যুরোর করা আবেদনের পর বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) আদেশটির লিখিত অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী শিশির মনির।

আদালতে করা রিট আবেদনে বলা হয়, প্রচলিত আইন অনুযায়ী একই গ্রুপ বা একটি পরিবারের সদস্যরা কোনো ব্যাংকের ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণ করতে পারেন না। কিন্তু এস আলমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২৪টি কোম্পানি প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ারহোল্ডার হিসেবে ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত হয়। প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে সম্মিলিতভাবে ব্যাংকটির ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

এর আগে গত বছর এস আলম-সংশ্লিষ্ট ২৪ প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ারহোল্ডার, কয়েকজন পরিচালক ও ব্যক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

একই আদেশে সংশ্লিষ্ট শেয়ারহোল্ডার পরিচালকদের বিদেশযাত্রায়ও বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছিল। আদালতের অনুমতি ছাড়া তাদের দেশত্যাগ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়।