সকল প্রতিকূলতা, জীবননাশের ঝুঁকি এবং সীমাহীন নির্যাতনের মুখেও দেশ ছেড়ে না গিয়ে বাংলাদেশেই অবস্থান করেছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া—এমন মন্তব্য করে তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি বলেন,
“মনে হচ্ছে আজ বাংলাদেশ এতিম হয়ে গেছে।”
মঙ্গলবার রাত পৌনে ৯টার দিকে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন আসিফ নজরুল। খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক বইয়ে স্বাক্ষর করতে তিনি সেখানে উপস্থিত হন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
আসিফ নজরুল বলেন, “আজ বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি দিন। বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, গণতন্ত্রের অগ্রনায়ক বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেছেন। তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, গণতন্ত্রের বিকাশ এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। সকল প্রতিকূলতা সত্ত্বেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, অসীম নির্যাতনের মুখোমুখি হয়েও তিনি বাংলাদেশে থেকেছেন। কখনো মাথা নত করেননি।”
তিনি আরও বলেন,
“আমি শোক বইয়ে স্বাক্ষর করতে গিয়ে কিছুই লিখতে পারিনি। শোকে ভেঙে পড়েছি। মনে হচ্ছে আজ বাংলাদেশ এতিম হয়ে গেছে। এটা একটি অপূরণীয় ক্ষতি।”
আইন উপদেষ্টা বলেন,
“সব কিছুর মধ্যেও সবচেয়ে বড় সান্ত্বনার জায়গা হলো—বাংলাদেশের মানুষ তাকে কতটা ভালোবাসে, কতটা সম্মান করে, তিনি জীবিত অবস্থাতেই তা দেখে যেতে পেরেছেন। গণতন্ত্রের নবযাত্রার এই সময়টায় যদি তাকে আরও কিছুদিন পাওয়া যেত, তাহলে সেটা দেশের জন্য আশীর্বাদ হতো। তিনি চলে গেছেন, কিন্তু দেশের মানুষের জন্য যা করে গেছেন, আল্লাহ নিশ্চয়ই তার প্রতিদান দেবেন।”
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বলেন,
“খালেদা জিয়া যে স্বাধীন, সার্বভৌম, গণতান্ত্রিক ও মানুষের অধিকারের বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য আমরা সবাই মিলে কাজ করব। আমরা এখন সেই লক্ষ্যের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি।”
সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন,
“১৯৭২ সাল থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের গণতন্ত্রের সংগ্রামের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র বেগম খালেদা জিয়া। তিনি ছিলেন সৌন্দর্য ও বেদনার এক বিরল সংমিশ্রণ। তিনি কেন অন্যদের থেকে আলাদা, ৫ আগস্ট হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর তার বক্তব্য শুনলেই তা বোঝা যায়।”
উল্লেখ্য, বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। তার জানাজা আগামীকাল বুধবার বাদ জোহর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা ও সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে তাকে তার স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে।