মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি:
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়নের ইসমানিরচর এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙন পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছেন মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন। পরিদর্শন শেষে তিনি জানান, নদীভাঙন রোধে জরুরি প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম বৃহস্পতিবার থেকেই শুরু হবে। একই সঙ্গে এলাকার স্থায়ী সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগও চলমান রয়েছে।
বুধবার দুপুরে তিনি ভাঙনকবলিত এলাকা ঘুরে দেখেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন। এ সময় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গেও কুশল বিনিময় করেন। পরিদর্শনের সময় দেলোয়ার মিয়ার বাড়ি থেকে জেলেপাড়া পর্যন্ত নদীতীরের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ ঘুরে দেখা হয়।
সংসদ সদস্য জানান, ইসমানিরচরকে দীর্ঘমেয়াদে নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষার লক্ষ্যে গত মে মাসে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে একটি ডিও লেটার পাঠানো হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রয়োজনীয় অনুমোদন শেষে স্থায়ী নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজও দ্রুত শুরু হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পর নদীর তীব্র স্রোত ও ঢেউয়ের কারণে ইসমানিরচরে ভাঙনের ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। নদীতীরবর্তী বসতঘর, কৃষিজমি ও বিভিন্ন স্থাপনা হুমকির মুখে রয়েছে। এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করলেও তা কার্যকর হচ্ছে না।
বাসিন্দারা জানান, প্রতিবছর বর্ষা এলেই নদীভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাতে হয়। অনেক পরিবার একাধিকবার বসতভিটা সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। নদীগর্ভে কৃষিজমি বিলীন হওয়ায় অনেকের জীবিকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
সংবাদকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন বলেন, “নদীভাঙন রোধে জরুরি কাজ আগামীকাল থেকেই শুরু হবে। পাশাপাশি স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্যও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করছি, দ্রুতই স্থায়ী প্রকল্পের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।”
এদিকে স্থানীয়রা দ্রুত টেকসই নদীতীর সংরক্ষণ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে শতাধিক পরিবারের বসতভিটা, কৃষিজমি ও জানমাল রক্ষা পাবে এবং দীর্ঘদিনের নদীভাঙনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাফছা নাদিয়া, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হামিদা মোস্তফা, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য প্রফেসর গিয়াসউদ্দিন ও মুহাম্মদ মাসুদ ফারুক, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মোজাম্মেল হক মুন্না, সংসদ সদস্যের সহধর্মিণী নূরে জান্নাত রশ্নি, ভবেরচর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব নুরুল আমিন সরকার, স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী এবং এলাকাবাসী।