সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

ইসলাম ও জীবন

প্রতিটি সকাল জীবনে দ্বিতীয় সুযোগ

প্রতিটি মুহূর্তই আমাদের জন্য একটি নতুন সুযোগ, একটি নতুন সম্ভাবনা। মহান রব আমাদেরকে ডেকে বলেন, এখনো সময় আছে, সাচ্চা তাওবা করে কল্যাণের পথে ফিরে এসো। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, যারা আল্লাহর পথে ফিরে আসে না, তারা এই মহান নিয়ামতের সুফল ভোগ করতে পারে না। তাদের জীবনের প্রতিটি দিন তাদের বদ আমলের পাল্লা ভারী করে। যদি তারা মৃত্যুর […]

নিউজ ডেস্ক

২১ জানুয়ারী ২০২৫, ১৭:৪২

প্রতিটি মুহূর্তই আমাদের জন্য একটি নতুন সুযোগ, একটি নতুন সম্ভাবনা। মহান রব আমাদেরকে ডেকে বলেন, এখনো সময় আছে, সাচ্চা তাওবা করে কল্যাণের পথে ফিরে এসো। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, যারা আল্লাহর পথে ফিরে আসে না, তারা এই মহান নিয়ামতের সুফল ভোগ করতে পারে না। তাদের জীবনের প্রতিটি দিন তাদের বদ আমলের পাল্লা ভারী করে। যদি তারা মৃত্যুর আগে তাওবা না করে, তবে তাদের প্রতিটি দিন অভিশাপ হয়ে দাঁড়ায়।

তাই আজ আমরা জানবো, কীভাবে একটি নতুন সকাল আমাদের জন্য কল্যাণের দ্বার উন্মোচন করতে পারে এবং আমাদের পাপের পথ থেকে ফিরে আসার সুযোগ দান করে। ইনশাআল্লাহ,

১. প্রতিটি সকাল নতুন সুযোগ

প্রতিটি সকালই আমাদের জীবনের একটি নতুন সুযোগ, এবং জীবন থেকে হারিয়ে যাওয়া প্রতিটি দিন মহান আল্লাহর কাছে নিকৃষ্ট হয়ে ওঠে অথবা উৎকৃষ্ট হয়। হাদিসে এসেছে, আবু বকর রা.-এর প্রশ্নের উত্তরে রসুল সা. বলেছেন, যে দীর্ঘ জীবন পেয়েছে এবং তার আমল সুন্দর করেছে, সে উত্তম ব্যক্তি। কিন্তু যে দীর্ঘ জীবন পেয়েছে এবং তার আমল খারাপ করেছে, সে নিকৃষ্ট ব্যক্তি। (তিরমিজি, হাদিস : ২৩৩০)
এই হাদিসটি আমাদের জানায়, দীর্ঘ জীবনের সুযোগ যদি পাপকর্মে ব্যয় করা হয়, তবে তা বড়ই দুর্ভাগ্যজনক।

২. পরিণতি ও ফিরে আসা

আল্লাহর পথে ফিরে আসা ও তাওবা করার প্রেরণা মুমিনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, মুমিনের জন্য প্রতিটি নতুন সকাল অগণিত কল্যাণের দ্বার উন্মোচন করে। নবীজি সা. তাঁর কন্যা ফাতেমা রা. -কে বলেছেন, মামণি! ওঠো! তোমার রবের পক্ষ থেকে রিজিক গ্রহণ করো! (আত-তারগিব ওয়াত তারহিব : ২৬১৬)
এই উপদেশের মাধ্যমে আমাদের শেখানো হয়, অলসতা পরিহার করে সক্রিয়ভাবে আল্লাহর স্মরণ করা এবং জীবনকে শুদ্ধতার পথে ফিরিয়ে নিয়ে আসা।

৩. জীবনকে মূল্যায়ন করা

মুমিনের উচিত প্রতিটি নতুন সকালকে মহান আল্লাহর ইবাদত ও শোকরের মাধ্যমে যথাযথ মূল্যায়ন করা এবং সারা দিন নিজেকে আল্লাহর নাফরমানি থেকে মুক্ত রাখার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করা। রসুল সা. বলেছেন, আদমসন্তান যখন সকালে উপনীত হয়, তখন তার সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ জিভকে অত্যন্ত বিনীতভাবে নিবেদন করে, ‘তুমি আমাদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো, কারণ আমাদের ব্যাপারসমূহ তোমার সঙ্গেই সম্পৃক্ত। যদি তুমি সোজা-সরল থাকো, তাহলে আমরাও সোজা-সরল থাকব। আর যদি তুমি বক্রতা অবলম্বন করো, তাহলে আমরাও বেঁকে বসব।(রিয়াদুস সালেহিন, হাদিস : ১৫২৯)
এই হাদিসটি আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয়, প্রতিটি নতুন দিনের শুরুতে আল্লাহর ভয় ও জীবনকে মূল্যায়ন করা।

৪. সময়ের গুরুত্ব

তাছাড়া, জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই মূল্যবান, এবং কোনোভাবেই এই সুযোগকে দেরি করা উচিত নয়। কারণ, আমরা কেউ জানি না, মহান আল্লাহ আমাদের আরেকটি নতুন সকাল পর্যন্ত হায়াত দিয়েছেন কি না! এজন্য, মুমিনের উচিত প্রতিটি নতুন দিনের সঙ্গে মৃত্যুর কথা স্মরণ করা এবং আল্লাহ প্রদত্ত সুযোগকে কাজে লাগানো।

৫. শেষ কথা: জীবনকে গুরুত্ব দাও

মুজাহিদ রহ. একবার ইবনে উমার রা. -এর সাথে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, তুমি সকালে উপনীত হয়ে বিকেলের জন্য নিজেকে অস্তিত্ববান মনে কোরো না এবং বিকেলে উপনীত হয়ে সকালের জন্য নিজেকে অস্তিত্ববান মনে কোরো না (তিরমিজি, হাদিস : ২৩৩৩)
এই হাদিসটির মাধ্যমে আমাদের শেখানো হয়, প্রতিটি দিনকে গুরুত্ব দিয়ে জীবনের সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে, কারণ আগামীকাল কী হবে, তা কেউ জানে না। আগামীকাল তুমি কী নামে অভিহিত হবে, তাও তুমিও জানো না।

এভাবে, প্রতিটি নতুন সকাল আমাদের জন্য একটি মহান সুযোগ, যদি আমরা যদি সঠিকভাবে কাজে লাগাই, তবে তা আমাদের জন্য কল্যাণ ও বরকতের পথ উন্মোচন করবে। নয়তো তা সারা জীবনের সুখের দ্বারকে বন্ধ করবে ।

ইসলাম ও জীবন

এবার শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা বাতিল করলো অস্ট্রেলিয়া

জনপ্রিয় ধর্মীয় বক্তা মাওলানা ড. মিজানুর রহমান আজহারির পর এবার বাংলাদেশের বিশিষ্ট ইসলামি ব্যক্তিত্ব শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। স্থানীয় সময় রোববার (৫ এপ্রিল) দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। হিটলারের প্রশংসা, ইহুদিবিদ্বেষী ও উগ্রবাদী প্রচারণার অভিযোগে আজহারিকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করার পরেই অস্ট্রেলিয়া সরকার শায়খ আহমদুল্লাহর বিরুদ্ধে এই কঠোর ব্যবস্থা […]

এবার শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা বাতিল করলো অস্ট্রেলিয়া

এবার শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা বাতিল করলো অস্ট্রেলিয়া

নিউজ ডেস্ক

০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৯

জনপ্রিয় ধর্মীয় বক্তা মাওলানা ড. মিজানুর রহমান আজহারির পর এবার বাংলাদেশের বিশিষ্ট ইসলামি ব্যক্তিত্ব শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। স্থানীয় সময় রোববার (৫ এপ্রিল) দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

হিটলারের প্রশংসা, ইহুদিবিদ্বেষী ও উগ্রবাদী প্রচারণার অভিযোগে আজহারিকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করার পরেই অস্ট্রেলিয়া সরকার শায়খ আহমদুল্লাহর বিরুদ্ধে এই কঠোর ব্যবস্থা নিলো।

খবরে জানা গেছে, সিডনি বিমানবন্দর দিয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহ অস্ট্রেলিয়া ত্যাগের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় তার ভিসা বাতিলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে।

অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী ম্যাট থিসলেথওয়েট এই সিদ্ধান্তের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ইহুদিবিদ্বেষী বা ইসলামোফোবিক বক্তব্যকারীদের প্রতি অস্টেলিয়া সরকারের কোনো সহনশীলতা নেই।

এ ছাড়া ডেইলি টেলিগ্রাফ শায়খ আহমদুল্লাহর ভিসা বাতিলের খবর নিয়ে প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, শায়খ আহমদুল্লাহ অতীতে ইহুদিদের ঘৃণ্য বলে উল্লেখ করেছিলেন এবং বিশ্বব্যাপী অস্থিরতার জন্য ইহুদিদের দায়ী করেন।

(আইপিডিসি)-এর ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘লিগ্যাসি অব ফেইথ’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে শায়খ আহমদুল্লাহ সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। সফরের অংশ হিসেবে তিনি প্রথমে মেলবোর্নে পৌঁছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে একটি ভিডিও বার্তা দেন।

মিজানুর রহমান আজহারির ভিসা বাতিল করলো অস্ট্রেলিয়া মিজানুর রহমান আজহারির ভিসা বাতিল করলো অস্ট্রেলিয়া
তার ৩ এপ্রিল মেলবোর্নের আল-তাকওয়া কলেজ, ৪ এপ্রিল সিডনির ডায়মন্ড ভেন্যুতে প্রধান কনভেনশন, ৬ এপ্রিল ক্যানবেরার ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার, ১০ এপ্রিল অ্যাডিলেডের উডভিল টাউন হল এবং ১১ এপ্রিল পার্থে ধারাবাহিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করার কথা ছিল।

তবে এসব অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার আগেই আজহারির মতো তাকেও অস্ট্রেলিয়া ছাড়তে হলো।

ইসলাম ও জীবন

সন্ধ্যায় বৈঠকে বসছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি

বাংলাদেশে কবে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হবে, তা জানা যাবে আজ সন্ধ্যায়। শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা ও ঈদের তারিখ নির্ধারণের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সন্ধ্যা ছয়টায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে অবস্থিত ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সম্মেলনকক্ষে এই বৈঠক থেকে ঈদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে। আজ দেশের আকাশে চাঁদ দেখা গেলে […]

নিউজ ডেস্ক

১৯ মার্চ ২০২৬, ১২:৫৯

বাংলাদেশে কবে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হবে, তা জানা যাবে আজ সন্ধ্যায়। শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা ও ঈদের তারিখ নির্ধারণের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সন্ধ্যা ছয়টায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে অবস্থিত ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সম্মেলনকক্ষে এই বৈঠক থেকে ঈদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

আজ দেশের আকাশে চাঁদ দেখা গেলে আগামীকাল শুক্রবার সারাদেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হবে। আর চাঁদ দেখা না গেলে ঈদ হবে শনিবার।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, দেশের কোথাও শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে ০২-৪১০৫৩২৯৪, ০২-২২৬৬৪০৫১০ ও ০২-২২৩৩৮৩৩৯৭ নম্বরে জানাতে হবে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও (ইউএনও) বিষয়টি জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।

মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব ও মাস নির্ধারণ চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। এ নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করে সঠিক তথ্য জানানোর জন্য জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দ্বিনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগ কমিটির কার্যক্রম পরিচালনা করে। ১৭ সদস্যের এই কমিটির বৈঠক আরবি মাসের প্রতি ২৯ তারিখে অনুষ্ঠিত হয়।

কমিটিতে কারা থাকেন

জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।

এছাড়া সদস্য হিসেবে রয়েছেন—ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব, তথ্যসচিব, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব, বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসনের প্রশাসক, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব, বাংলাদেশ

টেলিভিশনের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, ঢাকার জেলা প্রশাসক, সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়ার অধ্যক্ষ, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব, লালবাগ শাহী জামে মসজিদের খতিব, চকবাজার শাহী জামে মসজিদের খতিব এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক।

এছাড়া প্রতিটি জেলায় জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে সাত সদস্যের উপ-কমিটিও রয়েছে।

কীভাবে কাজ করে কমিটি

চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকে ধর্মমন্ত্রী উপস্থিত থাকলে তিনিই সভা শুরু করেন। তিনি না থাকলে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব দায়িত্ব পালন করেন।

বৈঠকের শুরুতে মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) থেকে চাঁদের সম্ভাব্য অবস্থান ও বয়স সম্পর্কে তথ্য নেওয়া হয়। এরপর আবহাওয়া অধিদপ্তরের কাছ থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়ার অবস্থা—কোথায় আকাশ পরিষ্কার, কোথায় মেঘ রয়েছে—এসব জানা হয়।

এরপর মূলত দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে চাঁদ দেখার তথ্য আসার জন্য অপেক্ষা করে কমিটি। জেলা প্রশাসন বা স্থানীয় চাঁদ দেখা কমিটি থেকে তথ্য পাওয়ার ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কমিটির সদস্যরা বৈঠকে অংশগ্রহণের জন্য ভাতা হিসেবে নির্ধারিত অর্থ পান।

ইসলাম ও জীবন

ঐতিহাসিক বদর দিবস আজ, ইসলামের প্রথম বিজয়

রমজানের নীরব আকাশের নিচে ইতিহাসের কিছু দিন এমন আছে, যেগুলো কেবল ক্যালেন্ডারের একটি তারিখ নয়, বরং একটি জাতির আত্মপরিচয়ের দীপ্ত অধ্যায়। মুসলিম ইতিহাসে তেমনই এক দিন বদর দিবস। মরুপ্রান্তরের এক অনাড়ম্বর ভূমিতে সংঘটিত সেই ঘটনাটি কেবল একটি যুদ্ধের কাহিনি নয়, এটি ঈমানের দৃঢ়তা, নৈতিক সাহস এবং আল্লাহর উপর অবিচল আস্থার এক অনন্য দলিল। হিজরি দ্বিতীয় […]

নিউজ ডেস্ক

০৭ মার্চ ২০২৬, ১৩:২২

রমজানের নীরব আকাশের নিচে ইতিহাসের কিছু দিন এমন আছে, যেগুলো কেবল ক্যালেন্ডারের একটি তারিখ নয়, বরং একটি জাতির আত্মপরিচয়ের দীপ্ত অধ্যায়।

মুসলিম ইতিহাসে তেমনই এক দিন বদর দিবস। মরুপ্রান্তরের এক অনাড়ম্বর ভূমিতে সংঘটিত সেই ঘটনাটি কেবল একটি যুদ্ধের কাহিনি নয়, এটি ঈমানের দৃঢ়তা, নৈতিক সাহস এবং আল্লাহর উপর অবিচল আস্থার এক অনন্য দলিল।

হিজরি দ্বিতীয় সনের ১৭ রমজান। আরবের উত্তপ্ত বালুকাময় ভূমিতে মদিনা থেকে অগ্রসর হচ্ছিলেন নবী করিম সা. এবং তার অল্পসংখ্যক সাহাবি। তাদের সংখ্যা মাত্র তিন শতাধিক ইতিহাসে যাদের পরিচয় বদরী সাহাবি নামে অমর হয়ে আছে।

অপরদিকে মক্কার কুরাইশরা এসেছিল প্রায় এক হাজার যোদ্ধার সুসজ্জিত বাহিনী নিয়ে। অস্ত্র, অশ্বারোহী শক্তি এবং সামরিক প্রস্তুতিতে তারা ছিল বহুগুণ শক্তিশালী। কিন্তু সেই অসম বাস্তবতার মাঝেও মুসলমানদের হৃদয়ে ছিল এক অদৃশ্য শক্তি ঈমানের দীপ্তি এবং আল্লাহর প্রতি পূর্ণ নির্ভরতা।

মদিনা থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ঐতিহাসিক প্রান্তর এ এসে মুখোমুখি দাঁড়ায় দুই শক্তি একদিকে অহংকার ও ক্ষমতার প্রাচুর্য, অন্যদিকে সত্য ও বিশ্বাসের অটল প্রত্যয়। ইসলামের ইতিহাসে এই দিনটিকে বলা হয়েছে ইয়াওমুল ফুরকান সত্য ও মিথ্যার পার্থক্যের দিন।

যুদ্ধের প্রাক্কালে নবী মুহাম্মদ সা. গভীর আকুতিতে আল্লাহর দরবারে দোয়া করেছিলেন। ইতিহাসের বর্ণনায় আছে, তিনি দু’হাত উঁচু করে প্রার্থনা করেছিলেন যদি এই ক্ষুদ্র দলটি আজ পরাজিত হয়, তবে পৃথিবীতে আল্লাহর ইবাদতকারী আর কেউ অবশিষ্ট থাকবে না। সেই মুহূর্তে তার দোয়ার আবেগ, সাহাবিদের অটল আস্থা এবং মরুর নিস্তব্ধতার ভেতর এক আধ্যাত্মিক আবহ সৃষ্টি হয়েছিল, যা মুসলিম চেতনার ইতিহাসে এক অনন্য দৃশ্য হয়ে আছে।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা সেই দিনটির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “আল্লাহ তো বদরের যুদ্ধে তোমাদের সাহায্য করেছিলেন, অথচ তোমরা ছিলে দুর্বল।”

এই আয়াত শুধু একটি বিজয়ের স্মৃতি নয়, এটি মুসলিম সভ্যতার এক গভীর দার্শনিক সত্যকে তুলে ধরে মানবিক শক্তির সীমাবদ্ধতার ওপরে আছে ঈমানের শক্তি এবং আল্লাহর সাহায্য। ইসলামী ঐতিহ্যে বলা হয়, সেই যুদ্ধে ফেরেশতাদের সহায়তা নেমে এসেছিল, যা বদরের বিজয়কে কেবল সামরিক সাফল্য নয়, বরং আধ্যাত্মিক জয়ের প্রতীক করে তুলেছে।

বদরের বিজয় মুসলিম সমাজের জন্য ছিল এক ঐতিহাসিক মোড়। মক্কায় দীর্ঘ নির্যাতন ও বঞ্চনার ইতিহাস পেরিয়ে মদিনায় নবগঠিত মুসলিম সমাজ তখনো ছিল নাজুক অবস্থায়। কিন্তু এই বিজয় তাদের আত্মবিশ্বাসকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। আরবের রাজনৈতিক বাস্তবতায় মুসলমানদের উপস্থিতি তখন আর উপেক্ষা করার মতো ছিল না। বদরের মরুপ্রান্তরেই যেন ইতিহাস প্রথমবারের মতো ঘোষণা করেছিল একটি নতুন সভ্যতার সূচনা হয়েছে।

তবে বদরের প্রকৃত মাহাত্ম্য কেবল বিজয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। যুদ্ধশেষে নবী করিম সা. বন্দিদের প্রতি যে মানবিক আচরণ প্রদর্শন করেছিলেন, তা ইতিহাসে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।

অনেক বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল শিক্ষাদানের বিনিময়ে যা প্রমাণ করে, ইসলামের নৈতিকতা যুদ্ধের উত্তেজনাকেও অতিক্রম করে মানবতার মর্যাদাকে অগ্রাধিকার দেয়।

আজও রমজানের দিনগুলো যখন ফিরে আসে, মুসলিম হৃদয়ে বদর দিবস নতুন করে জেগে ওঠে। এটি কেবল অতীতের একটি যুদ্ধকে স্মরণ করা নয়, বরং একটি আদর্শকে পুনরুজ্জীবিত করা যেখানে সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর সাহস, ন্যায়ের জন্য আত্মত্যাগ এবং আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থা একত্রে ইতিহাস রচনা করে।

বদরের মরুপ্রান্তরে যে আলোকরেখা উদিত হয়েছিল, তা পরবর্তীকালে সমগ্র আরব উপদ্বীপ পেরিয়ে বিশ্বসভ্যতার দিগন্তে ছড়িয়ে পড়ে। সেই আলো আজও মুসলিম উম্মাহকে স্মরণ করিয়ে দেয় সংখ্যা নয়, সম্পদ নয়, বরং ঈমান, আদর্শ এবং নৈতিক দৃঢ়তাই ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তনের প্রকৃত শক্তি।

বদর তাই কেবল অতীতের একটি ঘটনা নয়, এটি মুসলিম চেতনার এক চিরন্তন প্রতীক যেখানে মরুর নীরবতার মধ্যেই প্রথমবারের মতো উচ্চারিত হয়েছিল এক নতুন ইতিহাসের সূচনা।

লেখক: শিক্ষার্থী আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়,কায়রো, মিশর