রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

চুয়াডাঙ্গায় সন্তানদের সরকারি স্কুলে ভর্তির দাবিতে অভিভাবকদের অনশন

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গায় লটারিতে নির্বাচিত সন্তানদের ভর্তির দাবিতে অবরোধ করে অনশনে কর্মসূচি পালন করেছে অভিভাবকরা। আজ রবিবার (২২ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সারাদিন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রধান ফটক অনশন করে তারা। জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে লটারি ভর্তি পরীক্ষা হচ্ছে। এবার চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও ভিক্টোরিয়া জুবিলি (ভিজে) সরকারি উচ্চ […]

নিউজ ডেস্ক

২২ ডিসেম্বর ২০২৪, ২০:৪৬

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি:

চুয়াডাঙ্গায় লটারিতে নির্বাচিত সন্তানদের ভর্তির দাবিতে অবরোধ করে অনশনে কর্মসূচি পালন করেছে অভিভাবকরা।
আজ রবিবার (২২ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সারাদিন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রধান ফটক অনশন করে তারা।
জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে লটারি ভর্তি পরীক্ষা হচ্ছে। এবার চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও ভিক্টোরিয়া জুবিলি (ভিজে) সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তির লাটারি শুরু হয়। সেই মোতাবেক গত মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) অনলাইনের মাধ্যমে যারা নির্বাচিত হয়েছে। ১৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয় ভর্তির কার্যক্রম। যা তাদের ভর্তির শেষ তারিখ ছিলো রবিবার (২২ ডিসেম্বর)। কিন্তু লটারিতে নির্বাচিত প্রায় ১০০ শিক্ষার্থী বয়সের কারণে এখনো ভর্তি হতে পারেনি। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ৯ বছর বয়স পার হলে তারা তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হতে পারবে না। সেহেতু সন্তানদের বয়স ৯ বছর পার হওয়া সত্ত্বেও সেইসব শিক্ষার্থীদের ভর্তির দাবিতে অভিভাবকরা এই অনশন করছেন।
ফলাফলে চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৫ জন ও ভিক্টোরিয়া জুবিলি (ভিজে) সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫৮ জন নির্বাচিত শিক্ষার্থীর বয়স সরকার নির্ধারিত বয়স ৯ বছর পার হয়ে যাওয়ায় তারা ভর্তি হতে পারেনি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফরম পূরণ করে তারা নির্বাচিত হলেও পরবর্তীতে অভিভাবকদের জানানো হয়েছে যে, তাদের সন্তানদের ভর্তি করা অসম্ভব। কারণ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হতে বয়সসীমা ৮ বছর বা তার অধিক করা হয়। সেক্ষেত্রে ৯ বছর পার হলে নীতিমালা অনুযায়ী ভর্তি করা সম্ভব নয়।
চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার হাজরাহাটির পায়রা আক্তার। তার মেয়ে জাবিয়া ইসলাম জারা অনলাইনে আবেদন করে নির্বাচিত হয়েছে। তবে জারার বয়স ৯ বছর ১ মাস হওয়ায় সে ভর্তি হতে পারেনি। জারার মা পায়রা বলেন, আমার মেয়ে চান্স পেয়েছে। আমরা সবাইকে জানিয়েছি, মহল্লায় মিষ্টি বিতরণ করেছি। এখন ভর্তি করা যাচ্ছে না। আমরা অনশন করছি। এর সমাধান করেই বাড়ি ফিরবো।

অনশনে থাকা এনি খাতুন, বকুল হোসেন ও মোমিন জোয়ার্দ্দারসহ আরও কয়েকজন অভিভাবক বলেন, বয়স বেশির কারণে যদি ভর্তি হতে না পারে, তাহলে আবেদন করার সুযোগ দিলো কেন? এছাড়া গত দুদিন ধরে একবার স্কুলে একবার ডিসি অফিসে ঘুরতে ঘুরতে আমরা চরম ভোগান্তির মধ্যে। তারা আরও বলেন, আমাদের সন্তানদের ভর্তি না হওয়া পর্যন্ত আমরা অনশন ছাড়ছি না।

চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার হাজরাহাটি গ্রামে বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন জানান, আমি আমার ছেলের জন্য চুয়াডাঙ্গা কালেক্টর স্কুল ও ভি.জে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, মেহেরপুরে একটি স্কুল ও ঝিনাইদহে একটি স্কুলে ফর্ম তুলেছি। এর মধ্যে লটারিতে চুয়াডাঙ্গা ভি.জে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও ঝিনাইদহ সরকারি স্কুলে নাম ওঠে মর্নিং শিফটে। যেহেতু আমরা বাড়ি চুয়াডাঙ্গা সেহেতু আমি ভি.জে স্কুলে ছেলেকে ভর্তি করানো জন্য যাই। ভর্তি করতে গেলে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, আমার ছেলের বয়স না-কী ২৪ দিন বেশি। এ কারণে আমার ছেলেকে ভর্তি নেয়নি। এরপর আমি ঝিনাইদহে যোগাযোগ করেছি। সেখান থেকে একজন শিক্ষক আমার মোবাইলে একটি নীতিমালার পত্র দিয়েছে। তাতে লেখা আছে ৯ বছরের অধিক শিশুদের ভর্তি করা যাবে। এ নীতিমালা মেনে আমাদের আশেপাশের মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহে ভর্তি করানো হচ্ছে। শুধুমাত্র আমাদের চুয়াডাঙ্গাতে কেন এর ব্যতিক্রম। আমরা অভিভাবকরা আজ সকলে জেলা প্রশাসকের কাছে এসেছি তিনি একটা সমাধান দেবেন বলে আমাদের বিশ্বাস।

চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার জাফরপুর এলাকার এক শিক্ষার্থীর মা নওশিন ইয়াসমিন জানান, আমার মেয়ে চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে চান্স পাওয়ার পরেও ভর্তির দোহায় দিয়ে তা বাতিল করা হয়েছে। যখন আমি ভর্তির জন্য এপ্লাই করছি তখন অনলাইনে একসেফট করে নিচ্ছে আমার মেয়ের লিস্টে নাম চলে এসেছে, এখন উনারা রিজেক্ট কেন করতেছে। কেন বলতেছে বয়স বেশি হয়ে গেছে। উনারা ১৭ তারিখে কেন বয়সের এ ব্যাপারটা জানালো। আমরা কি জ্যোতিষি যে আগে থেকে সবকিছু জানি। এতগুলো ছোট বাচ্চা তাদের ইমোশন নিয়ে খেলার মানে কী? আমার বাচ্চা বুধবার থেকে খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।

মানসিকভাবে সে এতোটা ভেঙে পড়েছে এর দায়ভার কে নিবে? তার শিক্ষা জীবনের শুরুতেই যদি এতো জটিলতা তৈরী হয় তার সারাটা জীবন কেমন কাটবে? শিক্ষা ব্যবস্থা কিসের উন্নতি হচ্ছে? এটা না স্বাধীন বাংলাদেশ? শিক্ষার জন্য এতোকিছু করলো, অধিকারের জন্য এতোকিছু করলো তাহলে এখন এতো অনিয়ম কেন? তার থেকে বড় কথা পার্শ্ববর্তী সব জেলাতেই ভর্তি নিচ্ছে। সব জায়গায় নিলে ওনারা কেন নিবেন না? চুয়াডাঙ্গা কী বাংলাদেশের বাইরে? আমাদের দাবি যতগুলো বাচ্চা চান্স পাইছে সবগুলোকে ভর্তি নিতে হবে। আমাদের একটাই দাবি এই বাচ্চাগুলোকে কোনভাবেই বাদ দেয়া যাবে না।

যতগুলো বাচ্চা চান্স পাইছে সবগুলো বাচ্চাকে ভর্তি নিতে হবে। আমরা যখন বুধবার গেলার স্কুলে ভর্তি করাতে গেলে কাগজপত্র জমা নিতে ভর্তি ফরম নিতে গেলে আমাকে আর ভর্তি ফরম দেননি। উনারা তখন বলেন বয়স বেশী হওয়ায় ভর্তি করানো যাবে না। আমি ফরম না পেয়ে ঘটনাটি প্রধান শিক্ষককে অবহিত করি। উনি ওই সময় বলেছিলেন আমার স্কুলে যারা চান্স পেয়েছে সবাইকে ভর্তি করাবো অথচ আজ উনি উল্টো কথা বলছেন। এখন উনি সকল অভিভাবককে বলছেন না আমি এ ব্যাপারে কথা বলতে আসি  নই। আমাদের কথার কোনো মূল্য নাই। আমার মেয়ের স্বপ্ন গার্লস স্কুলে পড়বে? তাহলে এতোবড় স্বপ্ন উনি ভেঙে দিতে পারেন না। প্রথম স্টেপে আমার মেয়েকে একসেপ্ট করছে, সেকেন্ড স্টেপে একসেপ্ট করছে এখন থার্ড স্টেপে ভর্তি করানো সময় স্কুল কর্তৃপক্ষ যদি না করে এটা কোন নিয়ম। এটাতো কোনো নিয়ম হলো না। এটা আমরা কোনমতে মানি না, মানবো না। প্রধান শিক্ষক এখনও আমাদের কোন আশ্বাস দিচ্ছেন না। আমরা সমাধান না নিয়ে এখান থেকে যাবো না। জেলা প্রশাসক মহোদয় আমাদের একটা আশ্বাস দিলে তবেই আমরা এখান থেকে যাবো।

চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিলারা চৌধুরী বলেন, আমার স্কুলে দুই শিফটে ২১০ জন করে ভর্তি হবে। ভর্তি প্রায় শেষ। তবে কিছু শিক্ষার্থী বয়সজনিত জটিলতায় ভর্তি হতে পারছে না। এটা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দেখবেন। আমি অলরেডি জেলা প্রশাসক মহোদয় ও শিক্ষা বোর্ডে বিষয়টি জানিয়েছি।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক জহিরুল ইসলাম জানান, আমি বোর্ডের সাথে কথা বলেছি। স্কুল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছি যারা চান্স পেয়েছে নিয়ম অনুযায়ী তাদের সকলকে ভর্তি করাতে হবে।
উল্লেখ্য, চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও ভিক্টোরিয়া জুবিলি (ভিজে) সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে দুই শিফটে ৪৪০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারবে। এর মধ্যে দুটি স্কুলে বয়স জটিলতায় প্রায় ১০০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারছে না। আর আজ পঞ্চাশের অধিক অভিভাবক এই অনশন করছেন।

সারাদেশ

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে […]

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০৪

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথে কুমিল্লার লাকসাম দক্ষিণ বাইপাস এলাকায় অবস্থিত ধামৈচা জামে মসজিদে জুমার নামাজের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান এ অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি কেবল আন্তর্জাতিক নয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপরও চরম প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্বব্যাপী এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে।

বক্তব্যে তিনি দেশের জনগণকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিকভাবে প্রস্তুত এবং আগাম সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সবাইকে ধৈর্য ও সচেতনতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেন হুইপ।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার […]

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪৫

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ

স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ।

ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার পরপর স্বজনেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, বর্তমানে ২টি শিশু ও তাদের মা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর পূর্বে উল্লাপাড়া উপজেলার বালসাবাড়ি ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মানিক চাঁদের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাকে নির্যাতন করতো। এই বিষয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়। এর মধ্যেই তাদের ঘর আলো করে মুস্তাকিম ও মাহিম নামের দুই ছেলে সন্তান। পারিবারিক কলহের জের ধরেই স্বামীর সাথে ঝগড়ার পর আজ সকালে বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে পাখি খাতুন প্রথমে নিজে কীটনাশক পান করে এবং পরে ২ ছেলেকে কীটনাশক পান করায়। পরে তারা যন্ত্রাণায় চিৎকার করলে স্বজনেরা দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার জানান, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ৪ বছর ও ৮ বছর বয়সী ২টি শিশু ও তাদের মা’কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরে ৮ বছর বয়সী মুস্তাকিমকে ওয়াশ করা হয়, কীটনাশক পানের সময় বেশি হ‌ওয়ায় দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কীটনাশক পান করা ২টি শিশু ও তাদের মা’কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।