রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

ভারতের দম্ভ খতম আবারও বাংলাদেশ চালু করছে চিনিকল

দেশের পাটশিল্প ধ্বংসের পর পতিত শেখ হাসিনা সরকারের রক্তচক্ষু পড়ে চিনিশিল্পের উপর। ভারত নির্ভরশীলতা বাড়াতে তাদের পরামর্শে একে একে বন্ধ করা হয় রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো। ফলে চিনি জন্য বাংলাদেশকে অনেকাংশেই ভারত নির্ভর হতে হয়, যা তাদের দাম্ভিক মনোভাবের অন্যতম কারণ। ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর সেই চিনি কলগুলো চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এতেই […]

নিউজ ডেস্ক

২১ ডিসেম্বর ২০২৪, ১৫:৫৭

দেশের পাটশিল্প ধ্বংসের পর পতিত শেখ হাসিনা সরকারের রক্তচক্ষু পড়ে চিনিশিল্পের উপর। ভারত নির্ভরশীলতা বাড়াতে তাদের পরামর্শে একে একে বন্ধ করা হয় রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো। ফলে চিনি জন্য বাংলাদেশকে অনেকাংশেই ভারত নির্ভর হতে হয়, যা তাদের দাম্ভিক মনোভাবের অন্যতম কারণ।

৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর সেই চিনি কলগুলো চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এতেই এবার চিনি নিয়ে ভারতের দম্ভ খতম হতে চলেছে।

জানা গেছে, লোকসানের কথা বলে ২০২০ সালের ১ ডিসেম্বর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার দেশের ৬টি চিনিকল বন্ধ করে দেয়। সেগুলো হলো- কুষ্টিয়া চিনিকল, রংপুরের শ্যামপুর চিনিকল, দিনাজপুরের সেতাবগঞ্জ চিনিকল, পঞ্চগড় চিনিকল, পাবনা চিনিকল ও রংপুর চিনিকল।

এরপর থেকেই চোরাই পথে আসা ভারতীয় নিম্নমানের অস্বাস্থ্যকর ভেজাল চিনিতে সয়লাব হয়ে যায় গোটা বাংলাদেশ। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ২৭টি চোরাপথ এবং আমদানির মাধ্যমে আসে এসব চিনি। শুধু তাই নয়, ১৫টি চিনিকল থাকার পরও ভারতের চিনির উপর নির্ভরশীল হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। আর এ কারণে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশীয় চিনি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো। এই সুযোগটাই কাজে লাগায় ভারত।

২০২২-২৩ অর্থবছরে ভারত থেকে প্রায় ৫০ কোটি ডলারের চিনি আমদানি করে বাংলাদেশ। আর গত পাঁচ বছরের গড় আমদানির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রতিবছর গড়ে ১৯৫৯ লাখ টন করে চিনি আমদানি হয়েছে। এতে বিপুল পরিমাণ অর্থ চলে যাচ্ছে বিদেশে। অন্যদিকে চিনিকল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেকার হয়ে পড়ে হাজারো মানুষ। এছাড়া শ্রমিক কর্মচারী ও আখ চাষিসহ প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে প্রায় ৫ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ইতিহাস বলছে, ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলে উত্তরাঞ্চলে সেই সময়কার সর্বাধুনিক অ্যাডভান্স টেকনোলজিতে স্থাপন করা হয় দেশের চিনিকলগুলো রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো। একসময় বছরে দেড় থেকে ২ লাখ টন চিনি উৎপাদন করতো, যা বাজার নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করতো। কিন্তু ছয়টির উৎপাদন বন্ধ রাখায় দেশীয় উৎপাদন কমে মাত্র ২৫ হাজার টনে নেমে আসে।

এতে চিনি খাত প্রায় ৯৬ ভাগ ভারত ও অন্যান্য দেশ থেকে আমদানিভিত্তিক ও বেসরকারি কলগুলোর উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। ফলে চিনির বাজারের উপর সরকারের কার্যত কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। ফলে বেসরকারি রিফাইনারি কোম্পানিগুলো চিনির বাজারে বাড়তি মুনাফা তুলে নেয়। তারা ইচ্ছেমতো দাম বাড়ালে সরকারের কাছে মূল্য নিয়ন্ত্রণের কোনো উপায় ছিল না।

হাসিনা সরকারে পতনের পর দায়িত্বে আসে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ভারত নির্ভরশীলতা কথা সরকারের পক্ষ থেকে নেয়া হয় নানা উদ্যোগ। এর অংশ হিসেবে দেশের বন্ধ হয়ে যাওয়া চিনিকলগুলো চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। দ্বায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারের শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান জানান, অন্তর্বর্তী সরকার দেশের ছয়টি বন্ধ চিনিকলে উৎপাদন পুনরায় চালুর জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

চলতি মাসের ১৭ ডিসেম্বর শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের (বিএসএফআইসি) অধীন ৬টি (পঞ্চগড়, রংপুর, পাবনা, কুষ্টিয়া, সেতাবগঞ্জ ও শ্যামপুর) চিনিকলের আখ মাড়াইয়ের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মাড়াই স্থগিতকৃত চিনিকল সমূহ পুনরায় চালু করার জন্য ও চিনিকল লাভজনকভাবে চালানোর নিমিত্ত সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা প্রণয়নের লক্ষে গঠিত টাক্সফোর্সের সুপারিশ ও মতামতের আলোকে ০৩/১২/২০২৪ তারিখে স্মারক মূলে পর্যাপ্ত আখ প্রাপ্তির সাপেক্ষে ১ম পর্যায়ে শ্যামপুর, সেতাবগঞ্জ চিনিকল, ২য় পর্যায়ে পঞ্চগড় ও পাবনা চিনিকল এবং ৩য় পর্যায়ে কুষ্টিয়া ও রংপুর চিনিকলের মাড়াই কার্যক্রম পুনরায় চালুকরণের লক্ষ্যে উপর্যুক্ত স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হলো।

এ ঘোষণায় ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ। সরকারের শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান চিলিকলগুলো পরিদর্শন করেছেন। সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে কথা বলেছেন। ফলে এসব চিনিকলে কর্মরত কর্মচারী, আখচাষি এবং স্থানীয় মানুষ নতুন আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন। নেমে পড়েছেন কাজে।

চিনিকলগুলো চালু করার ফলে দেশে যেমন কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে, তেমনি আমদানি নির্ভরতাও কমবে। এতে বেঁচে যাবে দেশের বড় অঙ্কের অর্থ। ধীরে ধীরে বাংলাদেশ হয়ে উঠবে স্বয়ংসম্পূর্ণ।

এদিকে একে একে ভারতের হাতে থেকে মুক্ত হতে চলেছে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাত। এবার চিনি নিয়েও ভারতের দম্ভ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

 

জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ অংশ নিতে পারবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নিউজ ডেস্ক

০৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয়

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় […]

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৪২

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চেয়ারম্যানকে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২১ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা আগের ২২ সদস্যের পরিষদ বাতিল করা হয়েছে। নতুন আদেশ অনুযায়ী, পরিষদ বছরে অন্তত দুইবার সভা করবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সভা আয়োজন এবং বিশেষজ্ঞ সদস্য কো-অপ্ট করার সুযোগও থাকবে।

পরিষদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, ফার্মেসি কাউন্সিল, এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই) এবং বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির প্রতিনিধিরাও সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ সরকারের কাছে জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন, দেশীয় ঔষধ শিল্পের উন্নয়ন, অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা হালনাগাদ, ঔষধ উৎপাদন, আমদানি ও রপ্তানি-সংক্রান্ত নীতিগত বিষয়ে পরামর্শ দেবে।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানেও পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

জাতীয়

মায়ের গলিত লাশ উদ্ধার, মুখ খুললেন বুয়েট অধ্যাপক ছেলে: আমার মা সিজোফ্রেনিয়ার রোগে আক্রান্ত

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ জুন ২০২৬, ১১:১৯

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই দাবি করেন।

৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ গত ৩১ মে রাতে উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি মেয়ে ফাতিমা নাসরীন সুলতানার সঙ্গে বসবাস করতেন। মরদেহ উদ্ধারের পর বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বৃদ্ধার এক ছেলে মোংলা স্থলবন্দরের যুগ্ম সচিব। আরেক ছেলে বুয়েটের শিক্ষক। তারা মায়ের কাছে থাকতেন না।

নিহতের ছেলে বুয়েটের অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান বলেন, মায়ের মৃত্যুতে পরিবার এমনিতেই মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার তাদের আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। মায়ের অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ সময় মা তার সঙ্গেই ছিলেন। করোনাকালেও তিনি মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ২০২৪ সাল থেকে মা তার মেয়ের সঙ্গে থাকছিলেন।

তিনি জানান, তাদের বাবা মো. আবুল কাশেম ২০০৮ সালে মারা যান। ২০১৭ সালে ফাতিমা নাসরীনের স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি একাই মায়ের দেখাশোনা করছিলেন। ফাতিমা নাসরীনের কোনো সন্তান নেই। তার মায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহপ্রবণতা ছিল, যা সিজোফ্রেনিয়ার উপসর্গের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে।

একইভাবে স্বামী হারানোর পর তার বোনও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে তিনি মনে করেন। তবে তাদের কাউকেই কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়া হয়নি।

বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সম্পর্কে আশিকুর রহমান বলেন, তার বোন বাইরের গৃহকর্মী রাখতে চাইতেন না। তিনি নিজে কয়েকবার সহায়তার চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী হয়নি। এছাড়া মাও অন্যের হস্তক্ষেপ পছন্দ করতেন না। ঘটনার দিন, ৩১ মে বিকেলে ফাতিমা নাসরীন ফোন করে জানান, মায়ের কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর নার্স ডাকা, পুলিশকে অবহিত করা এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয় বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার প্রক্রিয়ার সময় উপস্থিত থাকা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামছুর রহমান জানান, জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে গিয়ে তিনি বাসাটিকে বসবাসের অনুপযোগী অবস্থায় দেখতে পান। তার দাবি, মরদেহের ডান চোখ ও পিঠে পোকা ছিল। তবে আশিকুর রহমান এ দাবি অস্বীকার করেছেন।

এদিকে পচনধরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মায়ের প্রতি অবহেলার দায়ে ছেলে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, আনিসুর রহমানকে পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির জানান, বৃদ্ধা তার মেয়ের বাড়িতে থাকতেন। একটি কক্ষে মা ও আরেকটি কক্ষে মেয়ে। রোববার বৃদ্ধার মেয়ে তাকে ডাকতে যান। সাড়া না পেয়ে তিনি একজন নার্সকে ডেকে আনেন।

তিনি ভেবেছিলেন, মা হয়তো অসুস্থ। পরে ওই নার্স রুমে ঢুকে দেখতে পান, বৃদ্ধা মারা গেছেন এবং শরীরে পচন ধরে মাংস খুলে বিছানায় পড়ে আছে। নার্স তাৎক্ষণিক বাইরে এসে লোকজনকে জানান। স্থানীয়রা ৯৯৯-এ কল দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

তিনি আরও জানান, বৃদ্ধার মেয়েকে দেখে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। মা ঘরে মরে পচে আছে, অথচ নাকে কোনো গন্ধ পাননি তিনি। বিষয়টি পুলিশকে ভাবিয়ে তুলছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।