রাশিমুল হক রিমন, নিজস্ব প্রতিবেদক
বরগুনার আমতলী উপজেলার ছুরিকাটা এলাকায় দুই শতাধিক কৃষক বীজ কিনে প্রতারনার শিকার হয়েছেন। পাঁচ মাসেও ফলন না আসায় তারা এখন নিঃস্ব। আউশ মৌসুমে ফলনতো আসেনি, আমন চাষও অনিশ্চিত। প্রতারনার শিকার কৃষকরা বীজ ডিলার মোঃ খালেক হাওলাদারে শাস্তি দাবী করেছেন। শুক্রবার প্রতারনার শিকার কৃষকরা ধানের গোছা হাতে নিয়ে এমন অভিযোগ করেছেন।
জানাগেছে, আমতলী উপজেলার ছুরিকাটা এলাকার দুই শতাধিক কৃষক গত এপিল মাসে ব্রি-৯৮ জাতের ধান চাষাবাদের জন্য জমি প্রস্তুত করেন। আমতলী পৌর শহরের বাঁধঘাট এলাকার বীজ ডিলার মো.খালেক হাওলাদারের কাছ থেকে ব্রি-৯৮ ধানের বীজ ক্রয় করেন। ওই বীজ দিয়ে চারা প্রস্তুত করে জমিতে বপন করেছেন।
ব্রি-৯৮ ধানের বৈশিষ্ট ১১০ দিনে ফলন পাওয়া যায়। কিন্তু চার মাস পেরিয়ে গেলেও ওই ধানের ফলন আসছে না। এতে কৃষকদের সন্দেহ হয়। কৃষকরা ডিলার খালেক হাওলাদারের কাছে বিষয়টি জানতে গেলে তাদের খারাপ আচরণ করেন। কৃষকদের অভিযোগ বীজ ডিলার খালেক হাওলাদারের কাছ থেকে বীজ ধান ক্রয় করে প্রতারনার শিকার হয়েছেন।
ধার দেনা করে জমি চাষাবাদ করেছেন, এখন ধান গাছে ফলন না আসায় তারা নিঃস্ব। কৃষকদের আরো অভিযোগ ডিলার মো. খালেক হাওলাদারের তাদের কাছে ব্রি-৯৮ ধানের নামে অন্য ধান বিক্রি করেছেন। ওই বীজ রোপণের পর প্রায় পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও ধানে কাঙ্ক্ষিত ফলন না আসায় তারা মহা বিপদে পরেছে।
এতে কোটি টাকার বেশি ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তাঁরা। তাদের আরো অভিযোগ, জ্যৈষ্ঠ মাসে বীজতলা তৈরি করে ধান রোপণ করা হলে ভাদ্র মাসের মধ্যে তা কাটার উপযোগী হওয়ার কথা। এরপর একই জমিতে ভাদ্র মাসে আমন ধান চাষ করা হয়। কিন্তু ব্রি-৯৮ বীজ হিসেবে কেনা ধান রোপণের পর নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও অনেক জমিতে কাঙ্ক্ষিত ফলন আসেনি। ফলে আউশ মৌসুমের পর জমিতে আমন ধান চাষ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
কৃষক মো. দুলাল হাওলাদার বলেন, ৮ একর জমিতে ব্রি-৯৮ ধানের চারা রোপন করেছি। কিন্তু ওই ধানে আঙ্খিত ফসল আসেনি। এখন আমন ধান চাষ করবো সেই অবস্থাও নেই। ধার দেনা করে চাষাবাদ করেছি, এখন আমার পথে বসা ছাড়া উপায় নেই।
কৃষক দেলোয়ার গাজী বলেন, মোরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। মোরা কি খামু কইতে পারি না। মোরা ডিলার খালেক হাওলাদারের শাস্তি দাবী হরছি।
কৃষক মো. রনি আহমেদ বলেন, ব্রি-৯৮ ধান রোপন করে এলাকার দুই শতাধিক কৃষক নিঃস্ব হয়ে গেছে। এখন কৃষকদের পথে বসা ছাড়া উপায় নেই।
কৃষক আব্দুল আজিজ বলেন, কৃষি আমার মুল পেশা। ধান চাষের আয় দিয়ে সারা বছর পরিবার পরিজনের ভরণ পোষন করতে হয়। সেই ধান হয়নি। এখন কি করবো ভেবে পাচ্ছি না। তিনি আরো বলেন , আমরা আউশ-আমন দুই সিজনে ধান চাষ করি কিন্তু এবছর কোন সিজনেই ধান হবে না।
বীজ ডিলার মো. খালেক হাওলাদার কৃষকদের কাছে ব্রি-৯৮ ধান বিক্রির কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আয়ান সীডের মোড়কে আমি অন্য কোনো জাতের ধান প্যাকেটজাত করিনি। কোম্পানি যেভাবে দিয়েছে, আমি সেভাবেই কৃষকদের কাছে বিক্রি করেছি।’
আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাসেল বলেন, অভিযোগ পেয়ে সরেজমিন পরিদর্শণ করেছি। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ও বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা সরেজমিনে বিষয়টি দেখতে আসবেন। তিনি আরো বলেন, ডিলার বিধি ভঙ্গ করে বীজ বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি জেনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।