মেহেরপুর প্রতিনিধিঃ ১৮০৯-২৬ ইং
চরম অসন্তোষ, ক্ষোভ এবং নিন্দায় সরব হয়ে উঠেছে ডি গ্রেড থেকে সি গ্রেডে উন্নীত হওয়া যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা। ২০০৩ সালে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদেরকে বিভিন্ন শ্রেণী বা ক্যাটাগরীতে বিভক্ত করার সময় বৈষম্যের শিকার হওয়া কিছু মুক্তিযোদ্ধা বৈষম্যের অবসানে ২০০৮-০৯ সালে হাইকোর্টে রীট দায়ের করে। আদালত ২/২/১২ তারিখে রীট কারীদের পক্ষে রায় দেন। তথাপি কর্তৃপক্ষ আদালত পরিবর্তন এবং আপীল করেও রায় বহাল থাকে।
অতঃপর সর্বশেষ ও সর্বোচ্চ ধাপে দায়ের হয় সিভিল রিভিউ পিটিশন কেস নং – ১৪০/২০২২ যার রায় হয়েছে ইংরেজি ৪ জানুয়ারী ২০২৪ তারিখে। এবং চূড়ান্ত ফলাফল রীটকারীদের পক্ষেই যায়। সুপ্রীমকোর্টের এই চূড়ান্ত আদেশ অনুযায়ী বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট যথানিয়মে রায় বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু করেন।
বেশ কয়েকজন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাগণ জানান, আদালতে অন্যান্য এলাকার সহ মোট ১১টি রীট বিচারাধীন থাকলেও বৃহত্তর কুষ্টিয়া অঞ্চল থেকে ২০০৮-০৯ সালে দায়েরকৃত ২৭২৬/০৯ ও ৬২৩৫/০৮ রীট দুটির চূড়ান্ত আদেশের প্রেক্ষিতে রায় কার্যক্রম করা শুরু হয়।
এতেই হয় বিপত্তি। অন্যান্য ৯টি রীটের এবং ভূয়া কিছু নাম ব্যবহার করে অবৈধ পন্থায় সুবিধাভোগী প্রত্যাশীরা পরিকল্পিতভাবে চলমান কার্যক্রমে বিভ্রান্তি ও বিভক্তি সুষ্টির অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়। একই ধারাবাহিকতায় সে স্বার্থন্বেষী কুচক্রিরা মিথ্যা সাজানো তথ্য দিয়ে একটি পত্রিকার বিশেষ প্রতিবেদককে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করেছে।
প্রকৃত তথ্য ও সত্যকে আড়াল করতে এবং ব্যাক্তিগত ফায়দা অর্জনের স্বার্থে বিকৃত তথ্য প্রদান করেছে। অপকৌশলে একটি পত্রিকায়া বিকৃত ও মনগড়া তথ্য সম্বলিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় সংশ্লিষ্ট মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে এসেছে। প্রতিবেদনটি প্রাপ্তি বা পড়ার সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট সকল মুক্তিযোদ্ধাগন সম্মিলিত স্বাক্ষরে খবরটির ’তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।
রীটভূক্ত সকল মুক্তিযোদ্ধাগন লিখিত ভাবে আরো জানিয়েছেন যে, ২৭২৬ ও ৬২৩৫নং মামলা চালনা এবং তদারকীর দায়িত্ব আমরা সম্মিলিত সিদ্ধান্তে তাহাজ উদ্দিন, নুরুল হুদা, মাহাবুবুর রহমান-কে দিয়েছিলাম। এবং তারা অত্যন্ত সততা, নিষ্ঠা এবং নিরলস শ্রম দিয়ে কাংখিত সুফল এনে দিয়েছেন।
রায় পরবর্তী সময়ে তারা কথনোই কল্যাণ ট্রাস্টে যাননি। ফলে মিথ্যা আখ্যা দিয়ে এই বিভ্রান্তি বা বিভক্তি সৃষ্টির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। প্রতিবেদনে উল্লিখিত সবুজ নামের ব্যাক্তির সাথে অবৈধ কোন লেন-দেন নেই তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান।
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট, ট্রাস্টের কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সাথে আমাদের কোন অনিয়ম তান্ত্রিক সর্ম্পক বা যোগসূত্র নেই। তথাকথিত অভিযোগে ব্যবহৃত নাম গুলো বানানো, সাজানো, ভূয়া ও কল্পনা প্রসূত, এর সাথে প্রকৃত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের কোন সর্ম্পৃক্ততা নেই।
সুপ্রীম কোর্টের রায় অনুযায়ী রায় প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের যখন যুদ্ধাহত গেজেট প্রকাশের পথে ঠিক তখনই কুচক্রীরা প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে বানোয়াট তথ্য প্রচারের মাধ্যমে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং গেজেট প্রকাশে বাঁধা বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অপপ্রয়াস করছে মাত্র।
২৭২৬ ও ৬২৩৫ নং রীটে সংযুক্ত সকল যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ অনাতিবিলম্বে “ যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে” তাদের গেজেট প্রকাশের জন্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আবেদন জানিয়েছে।