মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী মুন্সীগঞ্জ জেলার প্রায় ৩৫০ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের মুন্সীগঞ্জ জেলা শাখা। বর্ণাঢ্য আয়োজনে শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও পবিত্র কুরআন মাজীদ তুলে দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় মিরকাদিম পৌরসভার দরগাহ বাড়ি এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জেলার ছয় উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া প্রায় ৩৫০ শিক্ষার্থী এতে অংশ নেয় বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের প্রত্যেকের হাতে পবিত্র কুরআন মাজীদ উপহার দেওয়া হয়। পরে কুরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। এতে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবন, জ্ঞানচর্চা, নৈতিকতা ও দেশ-সমাজের প্রতি দায়িত্বশীলতা নিয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। তিনি জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্যে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিক্ষার্থীদের মধ্যে গবেষণা ও মেধা অন্বেষণের চর্চা হচ্ছে। তবে বাংলাদেশে শিক্ষাব্যবস্থা অনেকটা পরীক্ষাকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। এ পরীক্ষাকেন্দ্রিকতার বাইরে এসে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের প্রতি আগ্রহী হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জীবনের সর্বাবস্থায় জ্ঞান অর্জনের চেতনা নিজেদের মন ও মগজে ধারণ করতে হবে। সৎ নাগরিক তৈরি এবং মেধার বিকাশ ছাড়া একটি জাতির প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।
নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য আগামী দুই বছর ভবিষ্যৎ গঠনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু অর্থ উপার্জনের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে গেলে চলবে না। জ্ঞান, নৈতিকতা ও মেধার বিকাশ ঘটিয়ে প্রকৃত মানুষ হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জিএস আব্দুল আলিম আরিফ, মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি রিফাত হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক এস এম জাহিদসহ জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিভিন্ন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা জিপিএ-৫ অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে পড়াশোনার পাশাপাশি নৈতিকতা, সততা এবং দেশ ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান। জ্ঞানচর্চা ও মেধার বিকাশের মাধ্যমে ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের কল্যাণে ভূমিকা রাখার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।