জনগণের ধর্মীয়, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রের মূল দর্শন হলো রাষ্ট্র ও সমাজে মানুষের বাক্স্বাধীনতা ও ব্যক্তিস্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা করা। গণতান্ত্রিক অধিকার কেবল ভোটাধিকার প্রয়োগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। গণতন্ত্রকে টেকসই ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করাও জরুরি।
তিনি বলেন, এ লক্ষ্যেই সরকার দেশের মানুষের ধর্মীয়, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব গণতন্ত্রকামী মানুষকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাদের গণতান্ত্রিক ও মানবিক অধিকারের প্রতি সমর্থন জানান।
তারেক রহমান বলেন, জনগণের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই তাদের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে। একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। ‘সবার আগে বাংলাদেশ—সবার জন্য বাংলাদেশ’ এই প্রত্যয় নিয়ে সরকার সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করছে।
তিনি বলেন, সরকার এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সমৃদ্ধি ও স্বনির্ভরতা নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি থাকবে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উদার রাজনৈতিক পরিবেশ, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং ন্যায়পরায়ণতা।
দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে জনগণের আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হয়েছে এবং গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করেছিলেন এবং মানুষের বাক্, ব্যক্তি ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। বিএনপি সরকারে কিংবা বিরোধী দলে—সব অবস্থান থেকেই গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তারেক রহমান আরও বলেন, দীর্ঘ সময় জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেই শাসনের অবসান ঘটে।
তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে।