বিরোধী দলের লংমার্চ নিয়ে বিএনপির সমালোচনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনি বলেছেন, ‘আমরা নাকি লংমার্চের নামে লংড্রাইভ করছি। অথচ বেগম খালেদা জিয়াও এভাবেই লংমার্চ করেছিলেন।’
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ঝালকাঠি শহরের একটি পার্টি সেন্টারে এনসিপির জেলা শাখা আয়োজিত সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।
সারজিস আলম বলেন, ‘আমরা ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লংমার্চ করেছি। তারা (বিএনপি) এটাকে বলছে লংড্রাইভ। অথচ বেগম খালেদা জিয়া কিন্তু এভাবেই লংমার্চ করেছিলেন।’
এর আগে রোববার প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান অভিযোগ করেন, এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আওয়ামী লীগের এক নেতার প্রাডো গাড়িতে ‘লংড্রাইভে’ অংশ নিয়েছেন।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গেও কথা বলেন সারজিস। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আসার কোনো সম্ভাবনা নেই। তাকে ঠেকাতে আলাদাভাবে কাউকে কিছু করতে হবে না। জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে আহত ব্যক্তি ও নিহতদের পরিবারের সদস্যরা বিমানবন্দরে গিয়ে দাঁড়ালেই যথেষ্ট।
সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নিয়েও সমালোচনা করেন এনসিপির এই নেতা। তার দাবি, ফ্যামিলি কার্ড এখন আর আলোচনায় নেই। শুধু কার্ড তৈরিতেই ২৪২ কোটি টাকা খরচের কথা বলা হচ্ছে, যা রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়।
সারজিস বলেন, ‘পরবর্তীতে তারা বুঝতে পেরেছে, এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। এই অর্থ কোথা থেকে আসবে, সেটিও বড় প্রশ্ন। অথচ নির্বাচনের আগে তারা মানুষকে লোভনীয় অফার দিয়ে প্রলুব্ধ করেছে।’
বিএনপি সরকারের ছয় মাসের কর্মকাণ্ড নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সারজিস। তিনি বলেন, ‘বিএনপি সরকারের ছয় মাস অতিবাহিত হয়েছে। এখন তারা বলছে, তারা শিশু। তাহলে আপনারা কবে তরুণ বা যুবক হবেন?’
তার অভিযোগ, বিএনপি সরকারে আসার পর দেশে যে পরিমাণ সংকট তৈরি হয়েছে, তা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ও দেখা যায়নি। সরকার পরিচালনার জন্য বিএনপির প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি বা ‘ব্যাকআপ’ ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা আলম মিতু, সাবেক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন, মহিউদ্দিন রনি এবং ঝালকাঠি জেলা এনসিপির সদস্যসচিব জুবায়ের হাওলাদারসহ দলটির নেতাকর্মীরা।