নবীগঞ্জ প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে গত ২৯ আগস্ট শনিবার পিকআপের ধাক্কায় দুই মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। নিছক সড়ক দুর্ঘটনা নয়—এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করছে পুলিশ। ঘটনার রহস্য ক্রমেই উন্মোচিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিহতরা হলেন—নেত্রকোনা জেলার বাসিন্দা মাসুম পারভেজ এবং নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের বেতাপুর গ্রামের শামিম আহমদ। মাসুম পারভেজ নবীগঞ্জ উপজেলার ঘুলডুবা মান্নান চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শামিম আহমদ একই বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১২ বছর আগে নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউমদা গ্রামের খাইরুল ইসলামের মেয়ে আমিনা বেগম ওরফে হেপীর সঙ্গে মাসুম পারভেজের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে মিথি ও নিতি নামে দুই কন্যাসন্তান রয়েছে। একজন সপ্তম শ্রেণিতে এবং অপরজন দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে।
বিয়ের প্রথমদিকে সংসার ভালো চললেও পরবর্তীতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, মাসুম পারভেজের বিরুদ্ধে তার স্ত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে একাধিক হামলা ও মামলা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তারা আলাদা বসবাস শুরু করেন এবং আদালতের মাধ্যমে তাদের বিবাহবিচ্ছেদও হয়।
তবে দুই মেয়েকে দেখার জন্য আদালত মাসে একবার মাসুম পারভেজকে সন্তানদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার দিন বড় মেয়ে মিথি বাবার কাছে নতুন জুতা ও ছাতা নিয়ে আসার কথা জানায়। মেয়ের অনুরোধে মাসুম পারভেজ তার সহকর্মী শামিম আহমদকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে পানিউমদা গ্রামে যান। মেয়েকে নতুন জুতা ও ছাতা দেওয়ার পর তারা মোটরসাইকেলে করে ফেরার পথে ভয়াবহ হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত সূত্রে জানা যায়, সদরঘাট নতুন বাজার ও দেবপাড়া বাজারের মধ্যবর্তী নলসুজা এলাকায় একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন ডি.এ. পিকআপ দিয়ে পেছন থেকে শ্যালক সিরাজুল ইসলাম নিজেই তাদের মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে দুই আরোহী দুইদিকে পড়ে যান।
প্রত্যক্ষদূর্শী অনেকেই বলেন , ধাক্কা দেওয়ার পরও পিকআপটি থামেনি। প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ গজ পর্যন্ত গাড়িটি মাসুম পারভেজকে ঘষে নিয়ে যায়। পরে একটি মাটির স্তূপে ধাক্কা লেগে গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়।
এ সময় স্থানীয় লোকজন ও হাইওয়ে পুলিশ গুরুতর আহত মাসুম পারভেজকে উদ্ধার করে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষনা করেন।
অপর আহত শামিম আহমদকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে ঘটনার ওই দিনই বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শামিম আহমদ মারা যান।
নবীগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান বলেন, “ঘটনার রহস্য উন্মোচিত হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে আমরা এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবেই দেখছি। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”