বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

রোগী সেজে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে দুদকের হানা, মিলল নানা অনিয়মের তথ্য

কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রোগীর ছদ্মবেশে অভিযান চালিয়ে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দুদকের কুষ্টিয়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক সুরাইয়া সুলতানার নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি এনফোর্সমেন্ট টিম আকস্মিকভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে। দুদকের কর্মকর্তারা জানান, হাসপাতালটির বিরুদ্ধে রোগী ও স্বজনদের হয়রানি, […]

রোগী সেজে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে দুদকের হানা, মিলল নানা অনিয়মের তথ্য

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩:১৭

কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রোগীর ছদ্মবেশে অভিযান চালিয়ে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দুদকের কুষ্টিয়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক সুরাইয়া সুলতানার নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি এনফোর্সমেন্ট টিম আকস্মিকভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে।

দুদকের কর্মকর্তারা জানান, হাসপাতালটির বিরুদ্ধে রোগী ও স্বজনদের হয়রানি, অর্থের বিনিময়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে সেবা প্রদানসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি যাচাই করতে পূর্বঘোষণা ছাড়াই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের গোপনীয়তা বজায় রাখতে টিমের সদস্যদেরও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাদের গন্তব্য সম্পর্কে জানানো হয়নি।

প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী অভিযানের শুরুতেই দুদকের দুই সদস্য সাধারণ রোগীর ছদ্মবেশে হাসপাতালের বিভিন্ন কাউন্টারে লাইনে দাঁড়ান। তারা টিকিট সংগ্রহ, চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং বিভিন্ন সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়া সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় নিয়ম ও সিরিয়াল অনুসরণ না করে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে দ্রুত সেবা বা সিরিয়াল পাওয়ার অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের চেষ্টা করেন তারা।

পরে দুদকের পুরো টিম হাসপাতালের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর ইউনিট পরিদর্শন করে। এর মধ্যে ছিল ব্লাড ব্যাংক, জরুরি বিভাগ, প্যাথলজি, আল্ট্রাসনোগ্রাফি বিভাগ, অপারেশন থিয়েটার (ওটি), করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) এবং হাসপাতালের রান্নাঘর। এসব স্থানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক নথিপত্রও যাচাই-বাছাই করা হয়।

অভিযান চলাকালে সাধারণ রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গেও কথা বলেন দুদক কর্মকর্তারা। তাদের কাছে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ, খাবার সরবরাহ এবং বিভিন্ন সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের হয়রানি বা অনিয়মের শিকার হতে হচ্ছে কি না, তা জানতে চাওয়া হয়। এ সময় রোগী ও স্বজনদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ ও অসন্তোষের কথা শোনা যায় বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে।

অভিযান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন দুদকের কুষ্টিয়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক সুরাইয়া সুলতানা। তিনি জানান, অভিযানে হাসপাতালের বিভিন্ন কার্যক্রমে বেশ কিছু অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে গুরুতর একটি অভিযোগ হলো অর্থের বিনিময়ে মৃত্যুসনদ দেওয়ার বিষয়টি।

এ ছাড়া নার্সদের রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, রোগীদের খাবার সরবরাহে অনিয়ম এবং প্যাথলজিক্যাল সেবায় অব্যবস্থাপনার অভিযোগ ও তথ্যও অভিযানে উঠে এসেছে বলে জানান তিনি।

সুরাইয়া সুলতানা বলেন, অভিযানে সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত ও অনিয়মের সুনির্দিষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে কমিশন বরাবর একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাঠানো হবে। এরপর কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুদকের এই আকস্মিক অভিযান সম্পর্কে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, দুদক হঠাৎ করেই হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করেছে। তবে অভিযান শেষে এখন পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সুনির্দিষ্ট কোনো লিখিত তথ্য-উপাত্ত বা প্রতিবেদন দেওয়া হয়নি। লিখিত অভিযোগ বা প্রতিবেদন পাওয়া গেলে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হাসপাতালটিতে দীর্ঘদিন ধরে সেবা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের নানা ভোগান্তি ও অনিয়মের অভিযোগের মধ্যে দুদকের এই আকস্মিক অভিযানকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। রোগীর ছদ্মবেশে সরাসরি সেবাগ্রহণের অভিজ্ঞতা এবং বিভিন্ন ইউনিট পরিদর্শনের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দুদকের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর থাকবে।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

বিএনপির মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা, আহত ১০

পটুয়াখালীর বাউফলে বিএনপির একটি মোটরসাইকেল মিছিলে হামলা চালিয়েছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগ। এতে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। শনিবার (২৭ জুন) রাত পৌনে ৯টার দিকে দাশপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- মধ্য দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন (৪৫), যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ (৩৫), শ্রমিক দলের […]

বিএনপির মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা, আহত ১০

বিএনপির মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা, আহত ১০

ডেস্ক রিপোর্ট

২৮ জুন ২০২৬, ১০:৩০

পটুয়াখালীর বাউফলে বিএনপির একটি মোটরসাইকেল মিছিলে হামলা চালিয়েছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগ। এতে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। শনিবার (২৭ জুন) রাত পৌনে ৯টার দিকে দাশপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- মধ্য দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন (৪৫), যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ (৩৫), শ্রমিক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কাওসার (৪২) এবং ছাত্রদলের সহসভাপতি রাসেল (৩০)। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবর মৃধা জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সন্ধ্যায় পৌর শহরের বাংলাবাজার এলাকা থেকে দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে ৪০-৫০টি মোটরসাইকেল নিয়ে নেতাকর্মীরা মিছিল বের করেন। মিছিলটি নাজিরপুর ইউনিয়নের ডালিমা ও কালাইয়া বন্দর বেইলী ব্রিজ হয়ে দাশপাড়া বাসস্ট্যান্ডের কাছে পৌঁছালে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম খোকন অভিযোগ করে বলেন, রিয়াজ, হেলাল রাড়ী, সালাম, রাব্বি, রাসেল ও হেলালের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মোটরসাইকেলের বহরে এই হামলা চালায়। হামলাকারীরা কালাইয়া ও দাশপাড়া ইউনিয়নের নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মী এবং সমর্থক। হামলায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের ১০ নেতাকর্মী আহত হয় এবং ২০-২৫টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। ঘটনা জানার পর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক তসলিম তালুকদার আহত নেতাকর্মীদের দেখতে বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান।

বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।