শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

‘তুচ্ছ বাহানায় কথায় কথায় সংসদ থেকে ওয়াকআউট করলে গণতন্ত্রেরই ক্ষতি হবে’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিরোধী দলকে সংসদীয় ধারা ও চর্চায় ফিরে এসে জাতীয় সংসদকে কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, তুচ্ছ কারণে বারবার সংসদ থেকে ওয়াকআউট করলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে গণতন্ত্র। সংসদ কার্যকর না হলে গণতন্ত্র বারবার হোঁচট খাবে এবং এর দায় ইতিহাস বিরোধী দলের ওপরই দেবে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম […]

‘তুচ্ছ বাহানায় কথায় কথায় সংসদ থেকে ওয়াকআউট করলে গণতন্ত্রেরই ক্ষতি হবে’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৮ আগস্ট ২০২৬, ০০:৫২

বিরোধী দলকে সংসদীয় ধারা ও চর্চায় ফিরে এসে জাতীয় সংসদকে কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, তুচ্ছ কারণে বারবার সংসদ থেকে ওয়াকআউট করলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে গণতন্ত্র। সংসদ কার্যকর না হলে গণতন্ত্র বারবার হোঁচট খাবে এবং এর দায় ইতিহাস বিরোধী দলের ওপরই দেবে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম কার্যদিবসে বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্য ও ওয়াকআউটের পর ফ্লোর নিয়ে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো আইন প্রণয়নসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ সংকটগুলোর সমাধান সংসদের ভেতরেই করা। রাজপথ বা অন্য কোথাও নানা কথা বলা গেলেও সংসদে আলোচনা করতে হবে নির্দিষ্ট বিধি, তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে।

বিরোধী দলের ওয়াকআউটের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা না করার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে সংসদ ত্যাগ করা হয়েছে। মানবাধিকার কমিশন আইন এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন নিয়ে বিরোধী দলের দীর্ঘদিনের দাবির কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তৈরি মানবাধিকার কমিশন আইনের বিভিন্ন ত্রুটি সংশোধনে আইন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্টরা কাজ করেছেন। দেশি-বিদেশি অংশীজন, কূটনৈতিক মিশন, মানবাধিকার সংস্থা ও ইউএনডিপির সঙ্গে আলোচনা করে নতুন বিল প্রস্তুত করা হয়েছে। তার দাবি, দুটি বিল সংসদে উত্থাপন ও কমিটিতে পাঠানোর কথা থাকলেও সেগুলোকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে বিরোধী দল ওয়াকআউট করেছে।

বিরোধীদলীয় নেতার রাষ্ট্রপতিকে চিঠি দেওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদ আহ্বানের বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে চিঠি দেওয়ার এখতিয়ার বিরোধীদলীয় নেতার নেই।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধী দলের অভিযোগের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্য দিলে সরকার অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে। সংসদে অভিযোগের ক্ষেত্রে ঘটনার স্থান, সময় ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে পরিষ্কার তথ্য দেওয়া প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিগত ১৬-১৭ বছরের অপরিকল্পিত ও গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থার কারণে তৈরি সংকট মোকাবিলায় সরকার কাজ করছে। জরুরি ভিত্তিতে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু, এফএসআরইউ নির্মাণ এবং এলএনজি সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ নিয়েও সমালোচনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার ভাষ্য, ওই আদেশের পেছনে কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা ছিল না। একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদের কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটি নিয়ে বিরোধী দলের আপত্তির জবাবে তিনি বলেন, সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ২৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিরোধী দলের সদস্যদের ওই কমিটিতে গিয়ে নিজেদের প্রস্তাব ও মতামত তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

বক্তব্যের শেষ দিকে সংসদকে প্রাণবন্ত ও কার্যকর করার ওপর জোর দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকারি ও বিরোধী দলকে সংসদের ভেতরেই তর্ক-বিতর্ক ও আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় সমস্যার সমাধান করতে হবে। সামান্য কারণে ওয়াকআউট না করে বিরোধী সদস্যদের সংসদে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলন ও শহীদদের প্রত্যাশা ছিল একটি কার্যকর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। সেই লক্ষ্যেই সংসদে আলোচনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে দেশ পরিচালনা করতে হবে।

জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ অংশ নিতে পারবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নিউজ ডেস্ক

০৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয়

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় […]

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৪২

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চেয়ারম্যানকে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২১ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা আগের ২২ সদস্যের পরিষদ বাতিল করা হয়েছে। নতুন আদেশ অনুযায়ী, পরিষদ বছরে অন্তত দুইবার সভা করবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সভা আয়োজন এবং বিশেষজ্ঞ সদস্য কো-অপ্ট করার সুযোগও থাকবে।

পরিষদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, ফার্মেসি কাউন্সিল, এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই) এবং বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির প্রতিনিধিরাও সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ সরকারের কাছে জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন, দেশীয় ঔষধ শিল্পের উন্নয়ন, অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা হালনাগাদ, ঔষধ উৎপাদন, আমদানি ও রপ্তানি-সংক্রান্ত নীতিগত বিষয়ে পরামর্শ দেবে।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানেও পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

জাতীয়

মায়ের গলিত লাশ উদ্ধার, মুখ খুললেন বুয়েট অধ্যাপক ছেলে: আমার মা সিজোফ্রেনিয়ার রোগে আক্রান্ত

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ জুন ২০২৬, ১১:১৯

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই দাবি করেন।

৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ গত ৩১ মে রাতে উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি মেয়ে ফাতিমা নাসরীন সুলতানার সঙ্গে বসবাস করতেন। মরদেহ উদ্ধারের পর বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বৃদ্ধার এক ছেলে মোংলা স্থলবন্দরের যুগ্ম সচিব। আরেক ছেলে বুয়েটের শিক্ষক। তারা মায়ের কাছে থাকতেন না।

নিহতের ছেলে বুয়েটের অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান বলেন, মায়ের মৃত্যুতে পরিবার এমনিতেই মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার তাদের আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। মায়ের অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ সময় মা তার সঙ্গেই ছিলেন। করোনাকালেও তিনি মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ২০২৪ সাল থেকে মা তার মেয়ের সঙ্গে থাকছিলেন।

তিনি জানান, তাদের বাবা মো. আবুল কাশেম ২০০৮ সালে মারা যান। ২০১৭ সালে ফাতিমা নাসরীনের স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি একাই মায়ের দেখাশোনা করছিলেন। ফাতিমা নাসরীনের কোনো সন্তান নেই। তার মায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহপ্রবণতা ছিল, যা সিজোফ্রেনিয়ার উপসর্গের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে।

একইভাবে স্বামী হারানোর পর তার বোনও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে তিনি মনে করেন। তবে তাদের কাউকেই কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়া হয়নি।

বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সম্পর্কে আশিকুর রহমান বলেন, তার বোন বাইরের গৃহকর্মী রাখতে চাইতেন না। তিনি নিজে কয়েকবার সহায়তার চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী হয়নি। এছাড়া মাও অন্যের হস্তক্ষেপ পছন্দ করতেন না। ঘটনার দিন, ৩১ মে বিকেলে ফাতিমা নাসরীন ফোন করে জানান, মায়ের কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর নার্স ডাকা, পুলিশকে অবহিত করা এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয় বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার প্রক্রিয়ার সময় উপস্থিত থাকা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামছুর রহমান জানান, জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে গিয়ে তিনি বাসাটিকে বসবাসের অনুপযোগী অবস্থায় দেখতে পান। তার দাবি, মরদেহের ডান চোখ ও পিঠে পোকা ছিল। তবে আশিকুর রহমান এ দাবি অস্বীকার করেছেন।

এদিকে পচনধরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মায়ের প্রতি অবহেলার দায়ে ছেলে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, আনিসুর রহমানকে পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির জানান, বৃদ্ধা তার মেয়ের বাড়িতে থাকতেন। একটি কক্ষে মা ও আরেকটি কক্ষে মেয়ে। রোববার বৃদ্ধার মেয়ে তাকে ডাকতে যান। সাড়া না পেয়ে তিনি একজন নার্সকে ডেকে আনেন।

তিনি ভেবেছিলেন, মা হয়তো অসুস্থ। পরে ওই নার্স রুমে ঢুকে দেখতে পান, বৃদ্ধা মারা গেছেন এবং শরীরে পচন ধরে মাংস খুলে বিছানায় পড়ে আছে। নার্স তাৎক্ষণিক বাইরে এসে লোকজনকে জানান। স্থানীয়রা ৯৯৯-এ কল দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

তিনি আরও জানান, বৃদ্ধার মেয়েকে দেখে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। মা ঘরে মরে পচে আছে, অথচ নাকে কোনো গন্ধ পাননি তিনি। বিষয়টি পুলিশকে ভাবিয়ে তুলছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।