মোঃ আতেফ ভূঁইয়া, গাজীপুর সদর
গাজীপুরের টঙ্গীতে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় জরায়ু কেটে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের পর তামান্না (২১) নামে এক প্রসূতি ও তার নবজাতক কন্যাশিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলা ও গাফিলতির অভিযোগ তুলেছে নিহতের পরিবার।
বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে টঙ্গী পূর্ব থানাধীন স্টেশন রোড এলাকার নিউ লাইফ হাসপাতাল অ্যান্ড ট্রমা সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত তামান্না গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল থানার বসুগাঁও মীরের বাজার এলাকার মো. সিদ্দিক মিয়ার মেয়ে। তিনি মো. রবিউল ইসলাম তুহিনের স্ত্রী।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ২০ মিনিটে সন্তান প্রসবের জন্য তামান্নাকে নিউ লাইফ হাসপাতাল অ্যান্ড ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করা হয়। পরে হাসপাতালের গাইনি ও অবস বিভাগের সার্জন ডা. ফারহানা আক্তারের তত্ত্বাবধানে তার সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়।
অপারেশনের সময় জরায়ু কেটে যাওয়ার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। একপর্যায়ে তামান্নার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাত আনুমানিক ১০টার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অ্যাম্বুলেন্সযোগে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য উত্তরার শিন শিন হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তামান্নাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে সিজারিয়ান অপারেশনের পর নবজাতক কন্যাশিশুটিও নিউ লাইফ হাসপাতালেই মারা যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার বিষয়ে নিউ লাইফ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. ফারহানা আক্তারের বক্তব্য জানতে তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। হাসপাতালের যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরেও ফোন করে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
এ বিষয়ে গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মামুনুর রহমান বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে সেটিও আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, অবৈধ হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
তবে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগের বিষয়টি তদন্তের পরই প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।