ভারতের কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল শিখা ইনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত ও তাঁর পরিবারের চার সদস্যের শেষকৃত্য ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী আলাদাভাবে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেবাশীষ দত্ত ও তাঁর তিন বছরের শিশুপুত্র স্বর্ণশীষ দত্তের মরদেহ হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী শ্মশানে সৎকার করা হবে। আর দেবাশীষের স্ত্রী আফসানা শিম্মিন ও তাঁর শ্বশুর আকরাম হোসেনের মরদেহ মুসলিম ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফন করা হবে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আফসানা শিম্মিন মুসলিম ধর্মাবলম্বী ছিলেন। জীবিত অবস্থায় তিনি তাঁর মাকে মৃত্যুর পর মুসলিম ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফন করার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন।
তাঁর সেই ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁকে কুষ্টিয়া শহরের পৌর কবরস্থানে দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই কবরস্থানে তাঁর বাবা আকরাম হোসেনের মরদেহও দাফন করা হবে।
অন্যদিকে, সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত ও তাঁর শিশুপুত্র স্বর্ণশীষ দত্তের মরদেহ কুষ্টিয়া শহরের একটি শ্মশানে হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সৎকার করা হবে। দুই পরিবারের সম্মতিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল শিখা ইনে ভয়াবহ আগুনের ঘটনা ঘটে। এতে নয়জন নিহত হন, যাদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি নাগরিক।
নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী আফসানা শিম্মিন, শিশুপুত্র স্বর্ণশীষ দত্ত ও শ্বশুর আকরাম হোসেন রয়েছে। দেবাশীষ দত্ত দৈনিক আজকের পত্রিকা ও চ্যানেল নাইনের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলেন। কলকাতা থেকে তাঁদের দেশে ফেরার কথা থাকলেও তার আগেই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের চারজনের মৃত্যু হয়।
এদিকে, নিহতদের মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের কর্মকর্তারা। আজ সন্ধ্যা নাগাদ মরাদেহ কুষ্টিয়ায় এসে পৌছাবে।
একসঙ্গে পরিবারের চার সদস্যকে হারিয়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে কুষ্টিয়ার আড়ুয়াপাড়া এলাকার দেবাশীষ দত্তের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে। একদিকে শ্মশানে পিতা-পুত্রের শেষযাত্রা, অন্যদিকে কবরস্থানে মা-বাবার দাফন,হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় শোকাহত পুরো পরিবার।