আবু তাহের, জাককানইবি
আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা সংস্থা ‘স্প্রিঞ্জার নেচার’ পরিচালিত বিশ্বখ্যাত গবেষণা সূচক ‘নেচার ইনডেক্স-২০২৬’ র্যাঙ্কিংয়ে স্থান পেয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়। আন্তর্জাতিক এই গবেষণা সূচকটির নিজস্ব ওয়েবসাইটে বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত এই র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের মোট ৬৮টি বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য গবেষণা সংস্থা ও বিজ্ঞানভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের মাঝে ২২তম অবস্থানে রয়েছে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়। একাডেমিতে রয়েছে ১৭তম এবং স্বাস্থ্য বিজ্ঞানে রয়েছে ১৩তম স্থানে। এছাড়া বৈশ্বিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়টির সামগ্রিক অবস্থান ৭২২১তম এবং একাডেমিক অবস্থান ৩৩৯৭তম।
এ বছরের র্যাঙ্কিংয়ে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ৩টি গবেষণাপত্রে সংশ্লিষ্টতা ছিল, যার মোট শেয়ার স্কোর ছিল ০.১৩। যৌথভাবে হওয়া ৩টি গবেষণাপত্রেই যুক্ত ছিলেন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোঃ নুরুজ্জামান খান।
এই সফলতার বিষয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি এনটিভি অনলাইনকে বলেন, “আমি এটিকে শুধু ব্যক্তিগত অর্জন হিসেবে দেখি না; বরং এটি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় এবং বৃহত্তরভাবে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান গবেষণা সক্ষমতার একটি ইতিবাচক প্রতিফলন বলে মনে করি। আমি আশা করি, এটি শিক্ষার্থী ও তরুণ গবেষকদের আন্তর্জাতিক মানের গবেষণায় আরও আগ্রহী ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ড. মো. মিজানুর রহমান বলেন, “নেচার ইনডেক্সে বাংলাদেশের মধ্যে ২২তম অবস্থান নিঃসন্দেহে গৌরবের ও আশাব্যঞ্জক অর্জন। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও এ অবস্থান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার সম্ভাবনা ও শিক্ষকদের নিষ্ঠার প্রতিফলন। গবেষণার জন্য আরও অনুকূল পরিবেশ, আধুনিক সুবিধা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াতে পারলে ভবিষ্যতে আরও ভালো অবস্থানে পৌঁছাবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
জানা যায়, বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও কঠোর মান নিয়ন্ত্রণসম্পন্ন বিজ্ঞানভিত্তিক ১৪৫টি আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্রের ভিত্তিতে র্যাঙ্কিংটি প্রকাশ করা হয়েছে। যেখানে শুধু ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়কালের প্রকাশনাগুলো স্থান পেয়েছে। নেচার ইনডেক্সে শুধু গবেষণাপত্রের সংখ্যা নয়, বরং সেটির প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া হয়। তাই উচ্চমানের ‘পিয়ার-রিভিউড’ গবেষণাকেই মূল্যায়ন করা হয় এখানে।
এ সূচকে ‘Count’ ও ‘Share’ নামে দুটি সূচকের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর গবেষণা অবদান নির্ধারণ করা হয়। ‘Count’ প্রকাশিত গবেষণার সংখ্যা নির্দেশ করে। আর ‘Share’ দেখায় একটি গবেষণায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত অবদান কতটুকু।
বাংলাদেশের তালিকায় এবার শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে আইসিডিডিআর,বি। একাডেমিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ১৪টি গবেষণা প্রবন্ধ এবং ১.০৬ শেয়ার স্কোর নিয়ে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে এগিয়ে আছে প্রতিষ্ঠানটি।
এছাড়া তালিকায় থাকা অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)। পাশাপাশি রয়েছে ১১টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ও।