শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ, উপস্থিতি বাড়ানো ও পাঠদানের মান উন্নয়নের নানা দিক নিয়ে নাটোরের গুরুদাসপুরে ৫৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা হয়েছে। সভায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত সংকট, শিক্ষার্থীসংখ্যার ভারসাম্য, মাদক ও কিশোর অপরাধ প্রতিরোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. ফাহমিদা আফরোজ। প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. আব্দুল আজিজ। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রোস্তম আলী হেলালী।
সভায় শিক্ষকরা বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়ন শুধু সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, প্রশাসন ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং ঝরে পড়া রোধে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
সভায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়েও আলোচনা হয়। শিক্ষকরা বলেন, কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে। সরকারি বিধি ও নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষার্থীসংখ্যা বেশি এমন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী কাছাকাছি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। এতে প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীসংখ্যায় ভারসাম্য আসবে।
এ ছাড়া জরাজীর্ণ ও পাঠদানের অনুপযোগী ভবন দ্রুত মেরামত, প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন ভবন নির্মাণ এবং শিক্ষার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান শিক্ষকরা। তাঁরা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাস্তব সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের জন্য এ ধরনের মতবিনিময় সভা নিয়মিত আয়োজন করা দরকার।
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হান্নান বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় জরুরি। মাদক ও কিশোর অপরাধ থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে রাখতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে।
ইউএনও মোছা. ফাহমিদা আফরোজ বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়ন বলতে শুধু ভালো ফলাফল বোঝায় না। শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, মানবিক মূল্যবোধ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যা চিহ্নিত করে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে তা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজ বলেন, জাতির উন্নয়নের মূল ভিত্তি মানসম্মত শিক্ষা। শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতায় গড়ে তুলতে শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রশাসনকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
সভায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সেলিম আকতার, একাডেমিক সুপারভাইজার বজলুর রহমানসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে ইউএনও মোছা. ফাহমিদা আফরোজ, সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. আব্দুল আজিজ ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রোস্তম আলী হেলালীর হাতে সম্মাননা স্মারক ও ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।