মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
নিয়মিত তিতাস গ্যাসের বিল পরিশোধ করছেন গ্রাহকেরা। কিন্তু প্রয়োজনের মুহূর্তে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত গ্যাস। মুন্সীগঞ্জ শহর ও আশপাশের এলাকাগুলোতে গত কয়েক দিন ধরে তিতাস গ্যাসের সরবরাহ মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন আবাসিক গ্রাহকেরা।
বহু বাসাবাড়িতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত জ্বলছে না চুলা। কোথাও বা গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে, সামান্য আগুন জ্বললেও তা সঙ্গে সঙ্গে নিভে যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে রান্নাবান্না বন্ধ রেখে কেউ বাইরে থেকে খাবার কিনে খাচ্ছেন। অনেকে আবার বিকল্প হিসেবে তেলের চুলা, ইলেকট্রিক চুলা কিংবা লাকড়ির দিকে ছুটছেন। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন শিশু, বয়স্ক ও কর্মজীবী মানুষ থাকা পরিবারগুলো।
পঞ্চসার ইউনিয়নের দশকানি এলাকার বেসরকারি চাকরিজীবী সাকিব হোসেন তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গত তিন দিন ধরে বাইরে খেয়ে দিন পার করতে হচ্ছে। আজও সকাল থেকে গ্যাস নেই। এভাবে তো আর চলা সম্ভব না। বাধ্য হয়ে তেলের চুলা কিনতে যাচ্ছি। নিয়মিত গ্যাসের বিল দিয়েও যদি গ্যাস না পাই, তবে আমরা কোথায় যাব?”
একই দুর্ভোগের চিত্র দেখা গেছে মুন্সীগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকায়। সেখানকার বাসিন্দা রুপা বেগম জানান, সকাল থেকে চুলা না জ্বলায় চরম বিপাকে পড়েছেন তারা। তিনি বলেন, “সংসারে ছোট বাচ্চা আছে, বাইরে থেকে কত দিন খাবার কিনে চালানো যায়? গ্যাস সরবরাহে সমস্যা হলে কর্তৃপক্ষ অন্তত আগে থেকে জানালে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া যেত।”
সিপাহীপাড়া এলাকার বাসিন্দা আফিফা জাহান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মনে হচ্ছে গ্যাস সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। টানা চার দিন ধরে এই পরিস্থিতি চলছে। কবে নাগাদ সমস্যা সমাধান হবে, তা-ও কেউ বলতে পারছে না।”
ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, বিল নেওয়ার সময় কর্তৃপক্ষের কোনো ঢিল থাকে না, কিন্তু সার্ভিস দেওয়ার ক্ষেত্রে এই চরম সংকট দেখা দিলে দায় নেওয়ার মতো কাউকে পাওয়া যায় না। এক আবাসিক গ্রাহকের মতে, দিনে এক-দুই ঘণ্টা গ্যাস কম থাকা মেনে নেওয়া যায়; কিন্তু দিনের পর দিন চুলা না জ্বললে তা মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে।
গ্যাস সরবরাহের এই তীব্র সংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে মুন্সীগঞ্জ তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের ম্যানেজার (ইঞ্জিনিয়ার) শরীফুল ইসলাম বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “এটি শুধু মুন্সীগঞ্জের সমস্যা নয়, সারাদেশেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মূলত এলএনজি টার্মিনালে তৈরি হওয়া সংকটের কারণেই সরবরাহে এই ব্যাঘাত ঘটেছে।”
পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, সমস্যা কাটিয়ে উঠতে চার থেকে পাঁচ দিন সময় লাগতে পারে। তবে নির্দিষ্ট করে কবে নাগাদ সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে তিনি এখনই সুনির্দিষ্ট কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারেননি।
তিতাস কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে একে ‘জাতীয় সংকট’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হলেও, তাৎক্ষণিক কোনো সমাধান না পেয়ে ক্ষোভে ফুটছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। রান্নার মতো নিত্যদিনের মৌলিক সেবা ব্যাহত হওয়ায় মুন্সীগঞ্জের হাজার হাজার পরিবারে এখন চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।