পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গজালিয়া বাজারে ৫ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রিজের এপ্রোচ সড়কের কাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের ইট দিয়ে নির্মাণকাজ চলায় স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
এদিকে কাজ বন্ধে গণঅধিকার পরিষদের নেতা পরিচয়ে এক ব্যক্তি বাধা দিলেও একই সংগঠনের নেতা পরিচয়ে অন্য এক ব্যক্তি নিম্নমানের ইট দিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিন আগে গজালিয়া বাজারে ব্রিজের এপ্রোচ সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হয়। কাজ শুরুর পর থেকেই নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। এ কারণে কাজ বন্ধের জন্য
গণঅধিকার পরিষদের গজালিয়া ইউনিয়ন কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান আল মামুন বাধা দেন। অন্যদিকে কবির হোসেন নামে আরেক ব্যক্তি গণঅধিকার পরিষদের নেতা পরিচয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কবির হোসেন প্রথমে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের কারণে কাজ বন্ধ করেছিলেন। পরে তার নির্দেশেই আবার নিম্নমানের ইট দিয়ে কাজ শুরু হয়। এরপর হাসান আল মামুন এসে পুনরায় কাজে বাধা দেন।
এক পক্ষের বাধায় কাজ বন্ধ এবং অন্য পক্ষের নির্দেশে কাজ চালু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে কাজ বন্ধ ও চালুর বিষয়ে প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে কবির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলজিইডি সূত্রে জা২০২১-২২ অর্থবছরে ৫ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫১ মিটার ব্রিজ ও এপ্রোচ সড়ক নির্মাণের কাজের ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়। কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় পটুয়াখালীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মহিউদ্দিন আহমেদ। ব্রিজ নির্মাণ করা হলেও দীর্ঘদিন এপ্রোচ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী ছিল। সম্প্রতি এপ্রোচ সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। ট্রলারযোগে ইট এনে প্রকল্প এলাকায় স্তূপ করে রাখা হয়েছে এবং সেগুলো দিয়ে সড়কের নির্মাণকাজ চলছে। ব্রিজের এক পাশে এপ্রোচ সড়কের পাশেই রয়েছে বড় একটি ডোবা। সেখানে সড়কের নিরাপত্তার জন্য কোনো গাইড ওয়াল নির্মাণ করা হয়নি। গাছের ডাল দিয়ে কোনো রকমে রাস্তার মাটি ধরে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেও নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের অভিযোগ, কাজ চলাকালে এলজিইডির কোনো প্রতিনিধি বা প্রকৌশলীকে নিয়মিতভাবে প্রকল্প এলাকায় দেখা যাচ্ছে না। ফলে নির্মাণকাজের মান নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে গণঅধিকার পরিষদের গজালিয়া ইউনিয়ন কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান আল মামুন বলেন, “আমরা স্থানীয় জনগণ হিসেবে নিম্নমানের ইট দিয়ে কাজ করায় বাধা দিয়েছি। রাস্তায় নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা যাবে না। কেউ গণঅধিকার পরিষদের নেতা পরিচয়ে নিম্নমানের কাজ চালানোর নির্দেশ দিলে সেটা মানা হবে না। আর কবির হোসেনের কোনো পদ-পজিশন নেই। তিনি একবার বাধা দিয়ে এখন কেন কাজ চালাতে বলছেন, তা জানি না।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে নিম্নমানের ইট দিয়ে কাজ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে কবির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি নাদিম বলেন, “কিছু ইট নিম্নমানের রয়েছে। সেগুলো ভালো ইটের সঙ্গে মিশিয়ে কাজ হচ্ছে। প্রায় ৩০ শতাংশ ইট খারাপ হতে পারে, বাকি ইট ভালো।” তিনি জানান, কাজ বন্ধের বিষয়টি বারবার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে কাজ বন্ধের জন্য তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী রিপন দাস বলেন, “নিম্নমানের ইট দিয়ে কাজের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ইতোমধ্যে আমরা কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছি। কিন্তু ঠিকাদারের ম্যানেজার কথা শুনছেন না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাস্তা থেকে নিম্নমানের ইট সরাতে ঠিকাদারকে বাধ্য করা হবে।”
এ বিষয়ে গলাচিপা উপজেলা এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এলাকাবাসীর দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে নির্মাণকাজের মান যাচাই, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী অপসারণ এবং প্রকল্পের নির্ধারিত নকশা ও মানদণ্ড অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করার ব্যবস্থা নেবে। পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো অনিয়ম বা আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।না গেছে, ডিপ-২ প্রকল্পের আওতায়