কুষ্টিয়ায় সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং যানবাহনের বৈধ কাগজপত্র নিশ্চিত করতে যৌথভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও জেলা প্রশাসন।
অভিযানে বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ছয়টি মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এ সময় হাইওয়ে পুলিশের সহযোগিতায় দুটি মোটরসাইকেল আটক করা হয় এবং মোট ৩ হাজার ১০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের চৌড়হাস মোড় এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সড়কে যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, আইন অমান্য করে যানবাহন চালানো বন্ধ করা এবং চালকদের মধ্যে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা আক্তার এবং বিআরটিএ কুষ্টিয়ার মোটরযান পরিদর্শক মো. আবুল কালাম আজাদ। তাঁরা বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করেন এবং সড়ক পরিবহন আইন মেনে চলার বিষয়ে চালকদের নির্দেশনা দেন।
অভিযান চলাকালে যানবাহনের চালকদের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স, হালনাগাদ ফিটনেস সার্টিফিকেট, ট্যাক্স টোকেনসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়। এ সময় যেসব চালক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন এবং সড়ক পরিবহন আইন লঙ্ঘন করেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অনিয়মের ধরন অনুযায়ী মামলা, জরিমানা এবং যানবাহন আটক করার কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
অভিযানে বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ছয়টি মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। পাশাপাশি হাইওয়ে পুলিশের সহযোগিতায় দুটি মোটরসাইকেল আটক করা হয়। অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে মোট ৩ হাজার ১০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
বিআরটিএ কুষ্টিয়ার মোটরযান পরিদর্শক মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যানবাহনের বৈধ কাগজপত্র থাকা এবং চালকদের ট্রাফিক আইন মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানো, ফিটনেসবিহীন যানবাহন ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র হালনাগাদ না রাখার মতো অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা আক্তার বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষা এবং চালকদের সচেতন করতে এ ধরনের ভ্রাম্যমাণ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
প্রশাসনের এ ধরনের অভিযানের মাধ্যমে সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়ন, যানবাহনের বৈধতা নিশ্চিত করা এবং চালকদের মধ্যে আইন মেনে চলার প্রবণতা বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারির পাশাপাশি চালক ও যানবাহনের মালিকদের সচেতন হওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।