ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তাঁর দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, বিচারব্যবস্থা ও জনগণের গণতান্ত্রিক রায়ের প্রতি সরাসরি অবমাননা।
সোমবার (১০ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টা ৫ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বাংলা ও ইংরেজিতে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
পোস্টে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নের সমাধান না করে ভারতের সঙ্গে স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার কোনো উদ্যোগ বাংলাদেশের জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।
নাহিদ ইসলামের অভিযোগ, গত দুই বছর ধরে ভারত তার ভূখণ্ড ব্যবহার করে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দিয়ে আসছে। তাঁর ভাষায়, এটি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, বিচারব্যবস্থা ও জনগণের গণতান্ত্রিক রায়ের প্রতি সরাসরি অবমাননা।
বাংলাদেশের আপত্তি উপেক্ষা করে দিল্লিতে শেখ হাসিনার কথিত সংবাদ সম্মেলনের আয়োজনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের প্রতি ভারতের আধিপত্যবাদী ও আগ্রাসী নীতিতে মৌলিক কোনো পরিবর্তন আসেনি বলে আবারও স্পষ্ট হয়েছে।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, এ ঘটনায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুধু একটি বিবৃতি দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেছে। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর এমন গুরুতর আঘাতের পরও ভারত সরকারের কাছ থেকে কার্যকর জবাবদিহিতা আদায় করা সম্ভব হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাতের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, বৈঠকে ৫ আগস্টের ঘটনার বিষয়ে কোনো বক্তব্য, ব্যাখ্যা কিংবা ভারতের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশের বিষয়টি প্রকাশ্যে না আসা হতাশাজনক।
ভারতীয় হাইকমিশনারের ‘shared dream’ বা অভিন্ন স্বপ্নের বক্তব্যের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের জনগণ কোনো কথিত সম্প্রসারণবাদী ‘shared dream’-এর অংশীদার নয়। এমন কোনো সম্পর্কও বাংলাদেশের জনগণ মেনে নেবে না, যেখানে দিল্লি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া বা প্রভাব বিস্তারের অধিকার দাবি করবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এমন একটি দক্ষিণ এশিয়া দেখতে চায়, যেখানে গণতন্ত্র, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত হবে।
নাহিদ ইসলাম মনে করেন, ভারতের কাছে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদকে এখন কার্যকর কূটনৈতিক পদক্ষেপে রূপ দেওয়া জরুরি। তাঁর মতে, ৫ আগস্টের ঘটনার বিষয়ে ভারতের কাছ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও দুঃখ প্রকাশ, শেখ হাসিনা ও ওসমান হাদীর হত্যাকারীদের প্রত্যর্পণ এবং ভারতের ভূখণ্ড থেকে বাংলাদেশবিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধের নিশ্চয়তা আদায়ে সরকারের দৃঢ় ও দৃশ্যমান অবস্থান প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ যদি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতা চালানোর সুযোগ পায়, তাহলে একই সময়ে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের ভারত সফরের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ অর্থহীন।
নাহিদ ইসলামের ভাষায়, বন্ধুত্বের অজুহাতে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও জনগণের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করা যাবে না। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আগে বাংলাদেশবিরোধী তৎপরতার অবসান, আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের আশ্রয় ও তাদের কার্যক্রমের বিষয়ে ভারতের সুস্পষ্ট অবস্থান এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলির জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।