বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান বলেছেন, সরকার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিলে তিনি দেশে ফিরে আদালতের বিচারপ্রক্রিয়াসহ প্রয়োজনীয় সব আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায়ের আগে দেশের মাটিতে একটি বিদায়ী সিরিজ খেলতে চান বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেন, “সরকার যদি আমাকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়, তাহলে আমি দেশে ফিরে আদালতের বিচারপ্রক্রিয়াসহ যা যা করার প্রয়োজন, সবই করতে প্রস্তুত। আমি জানি, আমি কোনো অন্যায় করিনি।”
২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। বর্তমানে তিনি শ্রীলঙ্কায় একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলছেন।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর প্রসঙ্গে সাকিব বলেন, এখনও বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলতে ভালো লাগছে। তবে বয়সের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে খুব বেশি দেরি না করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানাতে চান।
সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ২০২৪ সালের শেষ দিকে সরকারের নিরাপত্তার আশ্বাস পেয়ে দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে বিমানে উঠেছিলেন। বিমানবন্দরের লাউঞ্জ থেকেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে যাত্রা শুরু করেন। কিন্তু দুবাইয়ে পৌঁছানোর পর তাকে জানানো হয়, বাংলাদেশে আর যেতে পারবেন না। পরে তিনি সেখান থেকে নিউইয়র্কে ফিরে যান।
সাকিবের ভাষায়, “১২ ঘণ্টার মধ্যে কী পরিবর্তন হয়েছিল, সেটা আজও জানি না। পরে শুনলাম ফেসবুকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা পোস্ট করার কারণে নাকি আমাকে আসতে দেওয়া হয়নি। এটি দেশে না ঢুকতে দেওয়ার কেমন মানদণ্ড, তা আমার মাথায় আসে না।”
সম্প্রতি শেখ হাসিনার সঙ্গে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, সেখানে তিনি কেবল দেশের শান্তি ও উন্নয়নের কথা বলেছেন এবং এ নিয়ে তার কোনো অনুশোচনা নেই।
ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সাকিব বলেন, “ক্যাপ্টেন যা বলবেন, আমরা তাই অনুসরণ করব। আমার মনে হয় উনারাই সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন এবং তাদের নির্দেশনাই আমরা মেনে চলব।”
বর্তমানে তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা চলমান রয়েছে বলেও জানান সাকিব। এর মধ্যে একটি ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় একজন নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলা এবং অন্যটি দুর্নীতির অভিযোগসংক্রান্ত। হত্যা মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, ঘটনাটি যেদিন ঘটে, সেদিন তিনি কানাডার টরন্টোতে একটি ম্যাচ খেলছিলেন।
তিনি আরও জানান, তদন্তের অংশ হিসেবে প্রায় দেড় বছর ধরে তার ব্যাংক হিসাব জব্দ রয়েছে। তবে কোন ব্যাংকে হিসাব রয়েছে বা কী পরিমাণ অর্থ জব্দ করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি।
সাকিব বলেন, গত দুই বছরে তিনি বাংলাদেশে অবস্থানরত তার বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। তার দাবি, তার বাবা-মাও দেশ ছাড়তে পারেননি।
দেশে ফেরার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনায় বসতেও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন সাকিব। তবে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে রয়টার্স প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সূত্র: রয়টার্স।