মাহিনুর ইসলাম মাহিন, বড়লেখা(মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:
তীব্র তাপদাহের মধ্যেই মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় দেখা দিয়েছে ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকট। জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় দিনের পাশাপাশি রাতেও দীর্ঘ সময় লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ। ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রম এবং স্বাভাবিক জনজীবন।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, দিনে ও রাতে মিলিয়ে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকছে। কোথাও এক থেকে দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকার পর আবার কয়েক ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে।
বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি না থাকায় অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে গ্রাহকদের। প্রচণ্ড গরমে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা। অনেক এলাকায় রাতের বেলায় মোমবাতি ও টর্চলাইটই একমাত্র ভরসা।
বড়লেখা পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের ডিজিএম মো. খাইরুল বাকী বলেন, উপজেলায় দৈনিক প্রায় ২৪ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও জাতীয় গ্রিড থেকে মিলছে মাত্র ১৪ থেকে ১৫ মেগাওয়াট।
ফলে প্রয়োজনের প্রায় ৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ দিয়েই পুরো উপজেলায় সরবরাহ বজায় রাখতে হচ্ছে। এ কারণে বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং করা ছাড়া বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহে ঘাটতির প্রভাব বড়লেখাতেও পড়েছে। গ্রিড থেকে বরাদ্দ বাড়লে পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং ধীরে ধীরে লোডশেডিং কমে আসবে।
দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ সংকটে স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ক্ষুদ্র শিল্প, ইন্টারনেট সেবা ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। রাতে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জাবেদ আহমদ বলেন, “প্রচণ্ড গরমের মধ্যে টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়েছে। দিনের পর দিন, এমনকি সারারাতও অনেক সময় বিদ্যুৎ থাকে না। এতে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন।
বিদ্যুৎ বিভাগের প্রতি আমাদের অনুরোধ, এই তীব্র গরমের সময়ে যেন লোডশেডিং যতটা সম্ভব কমানো হয়, যাতে মানুষ অন্তত রাতে স্বস্তিতে ঘুমাতে পারে।”
বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ বৃদ্ধি না পাওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতির সম্ভাবনা কম। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে বড়লেখায়ও লোডশেডিং ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা হবে।