স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশে ধর্মের নামে বিভাজন সৃষ্টির কোনো সুযোগ নেই। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার ও মর্যাদা রয়েছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সম্মিলিত সনাতন পরিষদ আয়োজিত ‘সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বিধান’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা ও প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, হাজার বছর ধরে এ ভূখণ্ডে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ পারস্পরিক সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করে আসছে। তাই ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে মানুষকে বিভক্ত করার কোনো সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, ‘আমি কখনোই আপনাদের সংখ্যালঘু মনে করি না। আপনারা এ দেশেরই সন্তান এবং সমান অধিকার নিয়ে এ দেশের নাগরিক।’
মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা তুলে ধরে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল সব মানুষের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রাম। সেই চেতনা ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। রাষ্ট্রে নাগরিক পরিচয়ই হবে সবার প্রধান পরিচয়।
তিনি অভিযোগ করেন, একটি মহল ধর্মকে ব্যবহার করে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এ ধরনের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে উগ্রবাদ ও মৌলবাদের কোনো স্থান নেই। দেশকে উদার, গণতান্ত্রিক ও সম্প্রীতির পথে এগিয়ে নিতে হবে।
সরকার সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দুর্গাপূজা, রথযাত্রাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা ও সহযোগিতা নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে কেউ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে না পারে।
সনাতন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নিজেদের সমস্যা ও দাবিগুলো সংগঠিতভাবে সরকারের কাছে তুলে ধরতে হবে। আলোচনা ও সংলাপের মাধ্যমে যৌক্তিক দাবিগুলোর সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমঅধিকারের মূল্যবোধ ধারণ করতে হবে। ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন নয়, সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের মাধ্যমেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ময়মনসিংহ-৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।