মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
চলছে শ্রাবণ মাসের মাঝামাঝি। বর্ষার এ সময়েও মুন্সীগঞ্জের ছয় উপজেলার প্রায় ৫০টি গ্রামে প্রত্যাশিত পরিমাণ পানি নেই। এর প্রভাব পড়েছে কৃষি ও মৎস্য খাতে। কোথাও পাটচাষিদের দূরে গিয়ে পাট জাগ দিতে হচ্ছে, কোথাও আমন ধানের আবাদ ব্যাহত হচ্ছে। খাল-বিল ও জলাশয়ে পানি কম থাকায় মাছ ধরতেও সমস্যায় পড়েছেন জেলেরা।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সরেজমিনে সদর, টঙ্গীবাড়ী ও বাংলাবাজার ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, ভরা মৌসুমেও অনেক ফসলি জমিতে পর্যাপ্ত পানি নেই। কোথাও আমনের জমি এখনো পানির অপেক্ষায়, আবার কোথাও কৃষকেরা জমিতে গরু-ছাগল চরাচ্ছেন।
বাংলাবাজার ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল করিম বলেন, “এ সময় মাঠে হাঁটুসমান পানি থাকার কথা। কিন্তু এবার অনেক জমিতে পানি নেই। পাট কেটে দূরের খালে নিয়ে জাগ দিতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত খরচ ও শ্রম দুটোই বেড়ে গেছে।”
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, অনেক কৃষক পাট কেটে জমির পাশে রেখে দিয়েছেন। কেউ কেউ আবার দূরের নদী বা পুকুরে নিয়ে পাট জাগ দিচ্ছেন। এতে তাঁদের অতিরিক্ত সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে। ফলে উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশে আষাঢ় ও শ্রাবণ বর্ষাকাল হিসেবে পরিচিত। সাধারণত এ সময় ফসলি জমিতে পর্যাপ্ত পানি থাকে এবং সেই পানির ওপর নির্ভর করেই আমন ধানের আবাদ করেন কৃষকেরা। তবে এবার অনেক এলাকায় সেই চিত্র দেখা যাচ্ছে না। আবার অতিবৃষ্টির কারণে কোথাও কোথাও জমে থাকা পচা পানিও কৃষিকাজে তেমন কাজে আসছে না।
পানির স্বল্পতার প্রভাব পড়েছে মৎস্য খাতেও। খাল-বিল ও জলাশয়ে পানি কম থাকায় মাছের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। নদী ও খালের কিছু অংশে নৌকা চলাচলেও সমস্যা হচ্ছে। ফলে অনেক জেলে আশানুরূপ মাছ পাচ্ছেন না।
স্থানীয় জেলে মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “খাল-বিলে পানি কম থাকায় আগের মতো মাছ মিলছে না। প্রতিদিন জাল নিয়ে বের হলেও খালি হাতে বা খুব অল্প মাছ নিয়ে ফিরতে হচ্ছে। এতে সংসার চালানো ও দাদনের টাকা পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।”
এ অবস্থায় দাদন বা ঋণ নিয়ে জাল ও নৌকা মেরামত করা অনেক জেলে আর্থিক চাপে পড়েছেন। মাছ কম পাওয়ায় ঋণ পরিশোধে তাদের বেগ পেতে হচ্ছে। বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় অনেকেই অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (BWDB) ৩০ জুলাই ২০২৬ তারিখের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, মুন্সীগঞ্জ অঞ্চলের পদ্মা নদীর ভাগ্যকূল পয়েন্টে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ৪.৩৬ মিটার (mMSL)।
স্থানীয় কৃষক ও জেলেদের আশা, আগামী কয়েক দিনের বৃষ্টিপাত ও নদ-নদীর পানির প্রবাহ স্বাভাবিক হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং কৃষি ও মৎস্য কার্যক্রমও স্বাভাবিক গতিতে ফিরে আসবে।