এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও গাড়িবহরে ভাঙচুরের ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। জামায়াতের অভিযোগ, বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়ে সরকার তাদের ওপর ‘সন্ত্রাসী’ লেলিয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে দলটি হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানিয়েছে।
বুধবার এক বিবৃতিতে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক এবং জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ২৮ জুলাই এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলা হয়। পরদিন মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জ যাওয়ার পথে নাহিদ ইসলামসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের বিভিন্ন স্থানে বাধার মুখে পড়তে হয়। তিনি এসব ঘটনাকে গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন করার শামিল বলে উল্লেখ করেন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতবিরোধের জবাব রাজনৈতিকভাবেই দেওয়া উচিত। হামলা বা সহিংসতার মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানানো গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী। হবিগঞ্জে এনসিপির নেতাদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও বিচারেরও দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি বিরোধী দলের কর্মসূচি ঘিরে ১৪৪ ধারা জারির সমালোচনা করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
এনসিপির ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, খেলাফত মজলিস, এবি পার্টি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম এবং ছাত্রশিবিরও। বিভিন্ন দলের নেতারা রাজনৈতিক মতভিন্নতার কারণে সহিংসতার আশ্রয় না নিয়ে সংলাপ, যুক্তি ও গণতান্ত্রিক উপায়ে মতবিনিময়ের আহ্বান জানিয়েছেন। তারা শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে হামলা, সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন, গাড়িবহরে ভাঙচুর এবং সরঞ্জাম লুটের ঘটনাকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের ওপর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এদিকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম রাজনৈতিক সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সব পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণ এবং উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড ও সহিংসতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।