প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, প্রযুক্তির অগ্রযাত্রা থামানো সম্ভব নয়। তাই শিশু-কিশোরদের প্রযুক্তি থেকে দূরে সরিয়ে না রেখে নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও ইতিবাচক ব্যবহার শেখানোর মাধ্যমে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে হবে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাজধানীর গুলশানের হোটেল লেকশোরে বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন আয়োজিত ‘ডিজিটাল জেন্ডার নর্মস: জাতীয় শিখন-অভিজ্ঞতা বিনিময়’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে জনগণের কণ্ঠ রোধের চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। ওই অভিজ্ঞতা প্রমাণ করেছে, ডিজিটাল মাধ্যম এখন সমাজ, রাষ্ট্র ও নাগরিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই প্রযুক্তিকে অস্বীকার না করে এর নিরাপদ ও সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার সক্ষমতা গড়ে তোলাই সবচেয়ে জরুরি।
তিনি বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের সঙ্গে সমাজের প্রচলিত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের একটি ব্যবধান তৈরি হয়েছে। এই ব্যবধান দূর করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের নিরাপদ ডিজিটাল আচরণ, তথ্য যাচাই এবং অনলাইন নৈতিকতা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন।
ববি হাজ্জাজ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ছবি, ভুয়া ভিডিও, চরিত্রহনন ও ডিজিটাল হয়রানির ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে নারী, কিশোরী ও নারী রাজনীতিবিদরা এসব অপব্যবহারের বড় শিকার। তাই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিশু ও নারীদের সুরক্ষায় কার্যকর আইন ও নীতিমালার বাস্তবায়ন জরুরি।
তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য প্রযুক্তি ব্যবহারে অযৌক্তিক বাধা সৃষ্টি করা নয়; বরং স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা। বর্তমান বাস্তবতায় শিশু ও নারীদের সুরক্ষার স্বার্থে কিছু ক্ষেত্রে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন বলেও তিনি মত দেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক শিক্ষায় ভ্যালু-বেইজড এডুকেশন, ডিজিটাল সেফটি, লাইফ স্কিল, জেন্ডার সংবেদনশীলতা এবং নাগরিক মূল্যবোধকে নতুন কারিকুলামের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ইউনেস্কোসহ দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ চলছে।
তিনি আরও জানান, নতুন শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার আওতায় আনতে ধাপে ধাপে শ্রেণিকক্ষে ইন্টারঅ্যাকটিভ ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু, শিক্ষকদের জন্য ট্যাব সরবরাহ এবং ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের জন্যও শিক্ষাবান্ধব ডিজিটাল ডিভাইস দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক ও জাতীয় এনজিওগুলোর উদ্দেশে ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকর ও প্রমাণভিত্তিক যেকোনো উদ্যোগ গ্রহণ ও সম্প্রসারণে সরকার প্রস্তুত। মন্ত্রণালয় বর্তমানে ‘ওপেন-ডোর’ নীতিতে কাজ করছে এবং ফলপ্রসূ উদ্যোগগুলো মূল্যায়নের মাধ্যমে বৃহত্তর পরিসরে বাস্তবায়নের চেষ্টা করবে।
অনুষ্ঠানে বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের প্রতিনিধি, খুলনা ও সাভার অঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক, ইউএন উইমেন, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল, জাগো ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।