দেশের সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে প্রায় ৮৬ হাজার কোটি টাকার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার।
একই সঙ্গে নৌবাহিনীতে আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল ও সাবমেরিন সংযোজন এবং বিমান বাহিনীতে চতুর্থ প্রজন্মের মাল্টি রোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট (এমআরসিএ), অ্যাটাক হেলিকপ্টার, মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২১তম দিনে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত পৃথক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব তথ্য জানান।
নেত্রকোনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন ও আধুনিকায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে তিন বছর মেয়াদি ও পরবর্তী সাত বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি জানান, পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর যুদ্ধ সক্ষমতা আরও বাড়বে। এর আওতায় নতুন ট্যাংক, সাঁজোয়া যুদ্ধযান, আধুনিক আর্টিলারি রকেট ব্যবস্থা, ট্যাংকবিধ্বংসী অস্ত্র এবং স্বল্প ও মধ্যম পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংযোজন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আনম্যানড এরিয়াল ভেহিকল (ইউএভি), কাউন্টার ইউএভি এবং আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা বাড়ানো হবে। পাশাপাশি বিমান ও নদীপথে অভিযান পরিচালনা, সৈন্য ও সরঞ্জাম স্থানান্তরের সক্ষমতাও বৃদ্ধি করা হবে।
তিনি আরও জানান, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ সক্ষমতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুদ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তুলতে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পনীতি, ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (ডিআইজেড) এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের (টিওটি) মাধ্যমে সামরিক উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে ফিউজ ও প্রাইমার, আধুনিক অ্যাসল্ট রাইফেল, অ্যান্টি-ট্যাংক গাইডেড মিসাইল, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেটসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জামের দেশীয় উৎপাদন অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আগামী ১০ বছরে প্রায় ৮৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে।
নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদারে আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল ও সাবমেরিন সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি নতুন নৌঘাঁটি নির্মাণ, বিদ্যমান ঘাঁটির উন্নয়ন, দেশীয় জাহাজ নির্মাণ সক্ষমতা বৃদ্ধি, উন্নত প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও যৌথ মহড়ার পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।