বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

পরিকল্পনাহীন উন্নয়নের চাপে সংকুচিত চলনবিল

কাওসার আহম্মেদ. একসময় বর্ষায় দিগন্তজোড়া জলরাশি, মাছে ভরা খাল-বিল আর অতিথি পাখির কোলাহলে মুখর থাকত চলনবিল। উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি ও মৎস্যসম্পদের অন্যতম ভিত্তি ছিল দেশের বৃহত্তম এই জলাভূমি। কিন্তু গত কয়েক দশকে পরিকল্পনাহীন অবকাঠামো নির্মাণ, নদী-খালের নাব্যতা হ্রাস, জলপ্রবাহে প্রতিবন্ধকতা এবং ব্যাপক পুকুর খননের কারণে চলনবিলের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে […]

পরিকল্পনাহীন উন্নয়নের চাপে সংকুচিত চলনবিল

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৮ জুলাই ২০২৬, ২১:২৬

কাওসার আহম্মেদ.

একসময় বর্ষায় দিগন্তজোড়া জলরাশি, মাছে ভরা খাল-বিল আর অতিথি পাখির কোলাহলে মুখর থাকত চলনবিল। উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি ও মৎস্যসম্পদের অন্যতম ভিত্তি ছিল দেশের বৃহত্তম এই জলাভূমি।

কিন্তু গত কয়েক দশকে পরিকল্পনাহীন অবকাঠামো নির্মাণ, নদী-খালের নাব্যতা হ্রাস, জলপ্রবাহে প্রতিবন্ধকতা এবং ব্যাপক পুকুর খননের কারণে চলনবিলের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে জীববৈচিত্র্য, দেশীয় মাছের উৎপাদন এবং বিলকেন্দ্রিক মানুষের জীবিকায়।

গবেষণা ও বিভিন্ন সরকারি তথ্য অনুযায়ী, একসময় চলনবিলের বিস্তৃতি ছিল এক হাজার বর্গকিলোমিটারেরও বেশি। বর্তমানে বর্ষা মৌসুমে জলাবৃত এলাকা প্রায় ৩৬৮ বর্গকিলোমিটারে নেমে এসেছে। শুষ্ক মৌসুমে তা কমে দাঁড়ায় প্রায় ৮৫ বর্গকিলোমিটারে। বর্তমানে নাটোর, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলার ১০টি উপজেলার ৬২টি ইউনিয়নের প্রায় ১ হাজার ৬০০ গ্রামজুড়ে চলনবিলের বিস্তৃতি রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, শত শত বছর ধরে বড়াল, আত্রাই ও গুমানী নদীর মাধ্যমে পদ্মা ও যমুনার পানি চলনবিলে প্রবেশ করত। এই স্বাভাবিক পানিপ্রবাহই বিলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখত। তবে সময়ের সঙ্গে নদী ও খালে পলি জমা, বিভিন্ন বাঁধ নির্মাণ এবং সড়ক অবকাঠামো গড়ে ওঠায় সেই স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়েছে।

১৯৮০ সালে বাঘাবাড়ি-তাড়াশ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণের পর চলনবিলের পানিপ্রবাহে বড় পরিবর্তন আসে। পরে হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়ক নির্মাণের সময়ও বিলের ভেতরে পানির চলাচল সীমিত হয়ে পড়ে।

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৫-৯৬ থেকে ২০০৯-১০ অর্থবছরের মধ্যে চলনবিল এলাকায় প্রায় ১ হাজার ১৮৮ কিলোমিটার পাকা সড়ক, ১১৩টি সেতু, ৮৫৫টি কালভার্ট, ৯০টি গ্রোথ সেন্টার, ২১টি স্লুইসগেট এবং প্রায় ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হলেও অনেক স্থানে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

এ ছাড়া গত এক যুগে চলনবিলজুড়ে কয়েক হাজার পুকুর খনন করা হয়েছে। পরিবেশবিদদের মতে, এসব পুকুরের একটি অংশ প্রাকৃতিক জলপ্রবাহের পথ সংকুচিত করেছে। ফলে কোথাও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে, আবার কোথাও বর্ষার পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় বিল শুকিয়ে যাচ্ছে।

একসময় চলনবিল ছিল দেশীয় মাছের অন্যতম প্রধান প্রজননক্ষেত্র। বোয়াল, চিতল, গজার, শোল, পাবদা, টেংরা, শিং, মাগুর, কই, টাকি, আইড়, বাইন, পুঁটি, মলাসহ অসংখ্য দেশীয় মাছ সহজেই পাওয়া যেত। বিলের নদী-খালকে ঘিরে প্রায় ১ লাখ ৭৭ হাজার জেলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জীবিকা নির্বাহ করতেন। বর্তমানে মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ায় অনেকেই পেশা পরিবর্তনে বাধ্য হয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নদী-খালের নাব্যতা কমে যাওয়া, অবৈধ ‘চায়না দুয়ারি’ ও ‘বাদাই’ জালের ব্যবহার এবং প্রজননক্ষেত্র নষ্ট হওয়ার কারণে দেশীয় মাছের সংখ্যা দ্রুত কমছে। এতে শুধু মৎস্যসম্পদ নয়, পুরো জলজ পরিবেশও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

বিএডিসির তথ্য অনুযায়ী, চলনবিলের প্রায় ৪১০ কিলোমিটার খাল-নালার মধ্যে ৩৬৮ কিলোমিটার পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। ফলে পানির প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কৃষি ও মৎস্য উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

সিংড়া চলনবিল পরিবেশ ও প্রকৃতি আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু জাফর সিদ্দিকী বলেন, অপরিকল্পিত উন্নয়ন, জলাভূমি ভরাট এবং নদী-খালের নাব্যতা কমে যাওয়ায় চলনবিলের আয়তন প্রতিবছরই কমছে। একই সঙ্গে অবৈধ জালের ব্যবহার দেশীয় মাছের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

নাটোর বিএডিসির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি নদী-খালের নাব্যতা হ্রাস, পলি জমা এবং অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ চলনবিলের সংকোচনের প্রধান কারণ। তাঁর মতে, খাল-নালা পুনঃখনন, পলি অপসারণ এবং পরিবেশসম্মত পরিকল্পনার ভিত্তিতে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা গেলে দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমির প্রাকৃতিক ভারসাম্য অনেকটাই ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার […]

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪৫

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ

স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ।

ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার পরপর স্বজনেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, বর্তমানে ২টি শিশু ও তাদের মা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর পূর্বে উল্লাপাড়া উপজেলার বালসাবাড়ি ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মানিক চাঁদের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাকে নির্যাতন করতো। এই বিষয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়। এর মধ্যেই তাদের ঘর আলো করে মুস্তাকিম ও মাহিম নামের দুই ছেলে সন্তান। পারিবারিক কলহের জের ধরেই স্বামীর সাথে ঝগড়ার পর আজ সকালে বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে পাখি খাতুন প্রথমে নিজে কীটনাশক পান করে এবং পরে ২ ছেলেকে কীটনাশক পান করায়। পরে তারা যন্ত্রাণায় চিৎকার করলে স্বজনেরা দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার জানান, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ৪ বছর ও ৮ বছর বয়সী ২টি শিশু ও তাদের মা’কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরে ৮ বছর বয়সী মুস্তাকিমকে ওয়াশ করা হয়, কীটনাশক পানের সময় বেশি হ‌ওয়ায় দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কীটনাশক পান করা ২টি শিশু ও তাদের মা’কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।