রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

পরিকল্পনাহীন উন্নয়নের চাপে সংকুচিত চলনবিল

কাওসার আহম্মেদ. একসময় বর্ষায় দিগন্তজোড়া জলরাশি, মাছে ভরা খাল-বিল আর অতিথি পাখির কোলাহলে মুখর থাকত চলনবিল। উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি ও মৎস্যসম্পদের অন্যতম ভিত্তি ছিল দেশের বৃহত্তম এই জলাভূমি। কিন্তু গত কয়েক দশকে পরিকল্পনাহীন অবকাঠামো নির্মাণ, নদী-খালের নাব্যতা হ্রাস, জলপ্রবাহে প্রতিবন্ধকতা এবং ব্যাপক পুকুর খননের কারণে চলনবিলের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে […]

পরিকল্পনাহীন উন্নয়নের চাপে সংকুচিত চলনবিল

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৮ জুলাই ২০২৬, ২১:২৬

কাওসার আহম্মেদ.

একসময় বর্ষায় দিগন্তজোড়া জলরাশি, মাছে ভরা খাল-বিল আর অতিথি পাখির কোলাহলে মুখর থাকত চলনবিল। উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি ও মৎস্যসম্পদের অন্যতম ভিত্তি ছিল দেশের বৃহত্তম এই জলাভূমি।

কিন্তু গত কয়েক দশকে পরিকল্পনাহীন অবকাঠামো নির্মাণ, নদী-খালের নাব্যতা হ্রাস, জলপ্রবাহে প্রতিবন্ধকতা এবং ব্যাপক পুকুর খননের কারণে চলনবিলের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে জীববৈচিত্র্য, দেশীয় মাছের উৎপাদন এবং বিলকেন্দ্রিক মানুষের জীবিকায়।

গবেষণা ও বিভিন্ন সরকারি তথ্য অনুযায়ী, একসময় চলনবিলের বিস্তৃতি ছিল এক হাজার বর্গকিলোমিটারেরও বেশি। বর্তমানে বর্ষা মৌসুমে জলাবৃত এলাকা প্রায় ৩৬৮ বর্গকিলোমিটারে নেমে এসেছে। শুষ্ক মৌসুমে তা কমে দাঁড়ায় প্রায় ৮৫ বর্গকিলোমিটারে। বর্তমানে নাটোর, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলার ১০টি উপজেলার ৬২টি ইউনিয়নের প্রায় ১ হাজার ৬০০ গ্রামজুড়ে চলনবিলের বিস্তৃতি রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, শত শত বছর ধরে বড়াল, আত্রাই ও গুমানী নদীর মাধ্যমে পদ্মা ও যমুনার পানি চলনবিলে প্রবেশ করত। এই স্বাভাবিক পানিপ্রবাহই বিলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখত। তবে সময়ের সঙ্গে নদী ও খালে পলি জমা, বিভিন্ন বাঁধ নির্মাণ এবং সড়ক অবকাঠামো গড়ে ওঠায় সেই স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়েছে।

১৯৮০ সালে বাঘাবাড়ি-তাড়াশ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণের পর চলনবিলের পানিপ্রবাহে বড় পরিবর্তন আসে। পরে হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়ক নির্মাণের সময়ও বিলের ভেতরে পানির চলাচল সীমিত হয়ে পড়ে।

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৫-৯৬ থেকে ২০০৯-১০ অর্থবছরের মধ্যে চলনবিল এলাকায় প্রায় ১ হাজার ১৮৮ কিলোমিটার পাকা সড়ক, ১১৩টি সেতু, ৮৫৫টি কালভার্ট, ৯০টি গ্রোথ সেন্টার, ২১টি স্লুইসগেট এবং প্রায় ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হলেও অনেক স্থানে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

এ ছাড়া গত এক যুগে চলনবিলজুড়ে কয়েক হাজার পুকুর খনন করা হয়েছে। পরিবেশবিদদের মতে, এসব পুকুরের একটি অংশ প্রাকৃতিক জলপ্রবাহের পথ সংকুচিত করেছে। ফলে কোথাও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে, আবার কোথাও বর্ষার পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় বিল শুকিয়ে যাচ্ছে।

একসময় চলনবিল ছিল দেশীয় মাছের অন্যতম প্রধান প্রজননক্ষেত্র। বোয়াল, চিতল, গজার, শোল, পাবদা, টেংরা, শিং, মাগুর, কই, টাকি, আইড়, বাইন, পুঁটি, মলাসহ অসংখ্য দেশীয় মাছ সহজেই পাওয়া যেত। বিলের নদী-খালকে ঘিরে প্রায় ১ লাখ ৭৭ হাজার জেলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জীবিকা নির্বাহ করতেন। বর্তমানে মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ায় অনেকেই পেশা পরিবর্তনে বাধ্য হয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নদী-খালের নাব্যতা কমে যাওয়া, অবৈধ ‘চায়না দুয়ারি’ ও ‘বাদাই’ জালের ব্যবহার এবং প্রজননক্ষেত্র নষ্ট হওয়ার কারণে দেশীয় মাছের সংখ্যা দ্রুত কমছে। এতে শুধু মৎস্যসম্পদ নয়, পুরো জলজ পরিবেশও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

বিএডিসির তথ্য অনুযায়ী, চলনবিলের প্রায় ৪১০ কিলোমিটার খাল-নালার মধ্যে ৩৬৮ কিলোমিটার পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। ফলে পানির প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কৃষি ও মৎস্য উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

সিংড়া চলনবিল পরিবেশ ও প্রকৃতি আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু জাফর সিদ্দিকী বলেন, অপরিকল্পিত উন্নয়ন, জলাভূমি ভরাট এবং নদী-খালের নাব্যতা কমে যাওয়ায় চলনবিলের আয়তন প্রতিবছরই কমছে। একই সঙ্গে অবৈধ জালের ব্যবহার দেশীয় মাছের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

নাটোর বিএডিসির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি নদী-খালের নাব্যতা হ্রাস, পলি জমা এবং অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ চলনবিলের সংকোচনের প্রধান কারণ। তাঁর মতে, খাল-নালা পুনঃখনন, পলি অপসারণ এবং পরিবেশসম্মত পরিকল্পনার ভিত্তিতে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা গেলে দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমির প্রাকৃতিক ভারসাম্য অনেকটাই ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

সারাদেশ

বিএনপির মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা, আহত ১০

পটুয়াখালীর বাউফলে বিএনপির একটি মোটরসাইকেল মিছিলে হামলা চালিয়েছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগ। এতে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। শনিবার (২৭ জুন) রাত পৌনে ৯টার দিকে দাশপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- মধ্য দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন (৪৫), যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ (৩৫), শ্রমিক দলের […]

বিএনপির মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা, আহত ১০

বিএনপির মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা, আহত ১০

ডেস্ক রিপোর্ট

২৮ জুন ২০২৬, ১০:৩০

পটুয়াখালীর বাউফলে বিএনপির একটি মোটরসাইকেল মিছিলে হামলা চালিয়েছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগ। এতে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। শনিবার (২৭ জুন) রাত পৌনে ৯টার দিকে দাশপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- মধ্য দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন (৪৫), যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ (৩৫), শ্রমিক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কাওসার (৪২) এবং ছাত্রদলের সহসভাপতি রাসেল (৩০)। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবর মৃধা জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সন্ধ্যায় পৌর শহরের বাংলাবাজার এলাকা থেকে দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে ৪০-৫০টি মোটরসাইকেল নিয়ে নেতাকর্মীরা মিছিল বের করেন। মিছিলটি নাজিরপুর ইউনিয়নের ডালিমা ও কালাইয়া বন্দর বেইলী ব্রিজ হয়ে দাশপাড়া বাসস্ট্যান্ডের কাছে পৌঁছালে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম খোকন অভিযোগ করে বলেন, রিয়াজ, হেলাল রাড়ী, সালাম, রাব্বি, রাসেল ও হেলালের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মোটরসাইকেলের বহরে এই হামলা চালায়। হামলাকারীরা কালাইয়া ও দাশপাড়া ইউনিয়নের নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মী এবং সমর্থক। হামলায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের ১০ নেতাকর্মী আহত হয় এবং ২০-২৫টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। ঘটনা জানার পর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক তসলিম তালুকদার আহত নেতাকর্মীদের দেখতে বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান।

বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

সারাদেশ

কাফরুলের চালককে মাথায় ইটের আঘাত করা ভাইরাল সেই ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার

এলাকায় মোটরসাইকেলচালকের মাথায় ইটের আঘাত করে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী মো. ফয়সাল ওরফে কালুকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৪। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সন্ধ্যায় কাফরুল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাতে র‌্যাব-৪ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া ফয়সালের সঙ্গে ভুক্তভোগী মোটরসাইকেলচালক রাফির ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধ দীর্ঘদিনের। […]

কাফরুলের চালককে মাথায় ইটের আঘাত করা ভাইরাল সেই ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার

কাফরুলের চালককে মাথায় ইটের আঘাত করা ভাইরাল সেই ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার

নিউজ ডেস্ক

১২ জুন ২০২৬, ১০:২৮

এলাকায় মোটরসাইকেলচালকের মাথায় ইটের আঘাত করে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী মো. ফয়সাল ওরফে কালুকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৪।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সন্ধ্যায় কাফরুল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাতে র‌্যাব-৪ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া ফয়সালের সঙ্গে ভুক্তভোগী মোটরসাইকেলচালক রাফির ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধ দীর্ঘদিনের। কয়েকদিন আগেও এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়েছিল।

ঘটনার দিন রাফি একা মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় পথে কালু, পারভেজ ও তাদের কয়েকজন সহযোগী আড্ডা দিচ্ছিল। রাফিকে একা দেখে তারা তাকে থামানোর চেষ্টা করে। প্রথমে কালু তাকে আটকাতে ব্যর্থ হলে সামনে অবস্থান নেওয়া পারভেজ একটি বড় ইটের টুকরো দিয়ে রাফির মাথায় আঘাত করে। এতে তিনি মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন।

পরে অভিযুক্তরা আহত রাফিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর র‌্যাব-৪-এর আভিযানিক দল জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে বৃহস্পতিবার কাফরুল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফয়সাল ওরফে কালুকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।