মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার দিঘীরপাড় ইউনিয়নের কান্দারবাড়ি নদীভাঙন কবলিত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন মুন্সিগঞ্জ-২ (টঙ্গীবাড়ী-লৌহজং) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল সালাম আজাদ।
শনিবার (৪ জুলাই ২০২৬) দুপুর ২টায় তিনি নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ, বসতভিটা ও কৃষিজমি রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দীর্ঘদিনের দাবি দিঘীরপাড় সেতু নির্মাণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
পরিদর্শনকালে এলাকার সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতিতে নদীভাঙন রোধ এবং দিঘীরপাড় সেতু নির্মাণের দাবিতে গণস্বাক্ষরসংবলিত একটি স্মারকলিপি এমপি আব্দুল সালাম আজাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, পদ্মা নদীর অব্যাহত ভাঙনে কান্দারবাড়িসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা হুমকির মুখে রয়েছে।
প্রতি বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন হাজারো মানুষ। ইতোমধ্যে বহু পরিবারের বসতভিটা, ফসলি জমি, গাছপালা ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। দ্রুত টেকসই নদীশাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
এছাড়া এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে দিঘীরপাড়ে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সেতুর অভাবে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীসহ সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বর্ষা মৌসুমে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। একটি সেতু নির্মিত হলে টঙ্গীবাড়ীর বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তারা মনে করেন।
এমপি আব্দুল সালাম আজাদ এলাকাবাসীর বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখেন। তিনি বলেন, “মানুষের কষ্ট আমি নিজের চোখে দেখেছি। নদীভাঙন রোধে দ্রুত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হবে।
একই সঙ্গে দিঘীরপাড় সেতু নির্মাণের বিষয়টিও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা হবে। জনগণের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নে আমি আন্তরিকভাবে কাজ করব।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন টঙ্গীবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি রিপন মল্লিক, দিঘীরপাড় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শামীম মোল্লা, টঙ্গীবাড়ী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লিখন খান, স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুলসংখ্যক এলাকাবাসী।
পরিদর্শন শেষে স্থানীয়রা এমপির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন পর একজন জনপ্রতিনিধি সরেজমিনে এসে তাদের দুর্ভোগ দেখেছেন এবং সমস্যার কথা শুনেছেন। তারা আশা করেন, এমপির উদ্যোগে দ্রুত নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দিঘীরপাড় সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে।
এতে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে এ অঞ্চলের সার্বিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।