জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে দেওয়া ৩১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের আর্থিক সহায়তা বাড়িয়ে ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে জাপান। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ অতিরিক্ত ১৮৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা পাবে।
বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাপানের বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক সংসদীয় ভাইস মিনিস্টার শিমাদা তোমাকির নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। প্রতিনিধিদলে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)-এর প্রেসিডেন্টও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করার পাশাপাশি জ্বালানি খাতে বাংলাদেশের জন্য জাপানের আর্থিক সহায়তা ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। এ প্রস্তাবের প্রতি জাপান ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে।
এ সময় মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, এমআরটি লাইনসমূহ এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালসহ জাইকার অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আশা প্রকাশ করেন, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের কাজ সম্পন্ন হবে এবং এটি উদ্বোধন করা সম্ভব হবে।
বৈঠকে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। একই সঙ্গে জাপানি প্রতিনিধিদল জানায়, জাপান বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে পাঁচটি প্যাট্রল বোট উপহার দেবে।
রোহিঙ্গা সংকটও বৈঠকের আলোচ্য বিষয়গুলোর অন্যতম ছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেন।
বৈঠকের শেষে জাপানি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীকে জাপান সফরের আমন্ত্রণ জানায়। জবাবে প্রধানমন্ত্রী সুবিধাজনক সময়ে দেশটি সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশের পক্ষে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান।
জাপানের প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি, জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ব্যুরোর পরিচালক হিরোসে আইকো, জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকো এবং জাইকার বাংলাদেশ অফিসের প্রধান প্রতিনিধি তাকাহাশি জুনকো।