মোঃআতেফ ভূঁইয়া গাজীপুর সদর প্রতিনিধি:
গাজীপুরের শ্রীপুরে সংরক্ষিত বনভূমি উদ্ধার অভিযানে গিয়ে দখলকারীদের হামলায় বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তাসহ ১৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রেঞ্জ কর্মকর্তাসহ ছয়জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলাকারীরা বন বিভাগের একটি জিপও ভাঙচুর করেছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের ডোমবাড়িচালা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন—শ্রীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মোকলেছুর রহমান (৩৮), সদর বিট কর্মকর্তা আখতার হোসেন (২৯), বিপ্লব হোসেন (৪৫), দেওয়ান মোহাম্মদ সাকিল (৩৪), কামাল মিয়া (৪০), লাভলু মিয়া (৪৫), ফিরোজ (৩৪), আলমগীর (৩২), আব্দুল হাকিম (২৮), আব্দুল মতিন (৪৩), সাজু (২২), শহিদুল (৪০), লাল মিয়া (৩০), ছামাদ (৪০) ও জসিম উদ্দিন (৪০)সহ বন বিভাগের সদস্যরা।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাতখামাইর বিটের আওতাধীন ডোমবাড়িচালা গ্রামের সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে নেত্রকোনার বাসিন্দা মো. দুলাল মিয়া ছয় কক্ষবিশিষ্ট একটি পাকা ভবন নির্মাণ শুরু করেন। বিষয়টি জানতে পেরে শ্রীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তার নেতৃত্বে বন বিভাগের ১৫ থেকে ২০ সদস্য অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করতে যান।
অভিযান চলাকালে দখলকারীরা বাধা দেয়। একপর্যায়ে কয়েকজন নারীকে মারধরের অভিযোগ তুলে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হয়। বন বিভাগের দাবি, মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে স্থানীয়দের উসকে দিয়ে তাদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়।
এ সময় হামলাকারীরা হাতুড়ি দিয়ে রেঞ্জ কর্মকর্তা মোকলেছুর রহমানের হাতে আঘাত করলে তার হাত ভেঙে যায়। হামলায় আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হন এবং বন বিভাগের গাড়িচালকের মাথায় আঘাত করা হয়। প্রাণ বাঁচাতে বন বিভাগের সদস্যরা ছত্রভঙ্গ হয়ে আশ্রয় নেন। হামলাকারীরা বন বিভাগের একটি জিপ গাড়িও ভাঙচুর করে।
তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত মো. দুলাল মিয়াকে পাওয়া যায়নি। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
শ্রীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মোকলেছুর রহমান বলেন, “বনভূমিতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের কাজ চলাকালে হঠাৎ কয়েকজন নারীকে মারধরের অভিযোগ তুলে চিৎকার শুরু করে। এরপর স্থানীয় লোকজনকে উসকে দিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়।
হাতুড়ি দিয়ে আমার হাতে একাধিক আঘাত করা হয়েছে। অনেক সদস্য প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে যায়।”
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আরজিনা জানান, রেঞ্জ কর্মকর্তাসহ ১৬ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ছয়জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঢাকা বিভাগীয় সহকারী বনসংরক্ষক (এসিএফ) মো. শামসুল আরেফিন বলেন, আহতদের চিকিৎসা চলছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং হামলার ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, “পুলিশ ছাড়া বন বিভাগের সদস্যরা অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”