পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, অতীতে সরকারি অর্থের লাগামহীন লুটপাট ও অর্থপাচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েই বর্তমান সরকার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আধুনিক, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তুলতে কাজ করছে।
রোববার (২৮ জুন) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ‘স্ট্রেনদেনিং ইনস্টিটিউশনস ফর ট্রান্সপারেন্সি অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি (সিটা)’ প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জোনায়েদ সাকি জানান, প্রকল্পটির আওতায় পরিকল্পনা বিভাগ, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস), বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের কার্যক্রম আরও আধুনিক, সমন্বিত ও প্রযুক্তিনির্ভর করা হবে। এর মাধ্যমে রাজস্ব আহরণ, সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনা, নিরীক্ষা, তথ্য সংগ্রহ এবং উন্নয়ন পরিকল্পনার বাস্তবায়নে গুণগত পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নের জন্য অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ বাড়ানো জরুরি। আর তা নিশ্চিত করতে করব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, কার্যকর ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে হবে। অটোমেশনের মাধ্যমে করদাতার সংখ্যা ও করের আওতা বাড়ানো সম্ভব হলে রাজস্ব সংগ্রহও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনার প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়কে আরও প্রযুক্তিনির্ভর ও কার্যকর করা প্রয়োজন। এতে সরকারি অর্থ ব্যয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত হবে এবং অপচয়, দুর্নীতি ও অনিয়ম কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি ক্রয়ব্যবস্থায় ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) ব্যবস্থার সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর এ ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং অনিয়মের সুযোগ কমবে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়ে জোনায়েদ সাকি বলেন, সঠিক উন্নয়ন পরিকল্পনার জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য অপরিহার্য। তাই তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান, জনসংখ্যা ও অর্থনৈতিক জরিপসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান আরও নির্ভুল ও সময়োপযোগী করা হবে।
তিনি জানান, পরিকল্পনা বিভাগের সক্ষমতা বাড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করা হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সফটওয়্যার ও তথ্যভাণ্ডার সমন্বিত একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা হবে, যাতে তথ্য আদান-প্রদান ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও দ্রুত ও কার্যকর হয়।
পরিকল্পনা কমিশনের সচিব এস এম শাকিল আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান, বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সচিব) মো. মইনুদ্দিন, আইএমইডি সচিব সিরাজুন নুর চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।