বগুড়ার নবগঠিত মোকামতলা উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের দুই ছেলে সীমান্ত, দিগন্তসহ ৩টি নামে নতুন ইউনিয়ন গঠন করে গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। প্রতিমন্ত্রীর নির্বাচনি এলাকায় তার দুই ছেলের নামে ইউনিয়নের নামকরণের অভিযোগ নিয়ে নানা আলোচনা- সমালোচনার পর এ নিয়ে সংসদে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি।
বগুড়ার নবগঠিত মোকামতলা উপজেলায় প্রশাসনিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে রোববার (১৪ জুন) জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান সই করা গেজেটে স্বর্ণগ্রাম, সীমান্ত ও দীগন্ত নামে তিনটি নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয়।
সোমবার (১৫ জুন) সংসদ অধিবেশনে বিরোধী দলের এমপি শফিকুল ইসলাম মাসুদ এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
সংসদে মি. মাসুদ বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর এলাকার দুটি উপজেলায় কয়েকটি ইউনিয়ন হয়েছে। সেখানে ওনার পরিবার বা মীর বংশের নামে একটা ইউনিয়নের নাম করা হয়েছে। ওনার দুই সন্তানের নামে দুইটা ইউনিয়নের নাম করা হয়েছে।
পরে সংসদে ২৭৪ বিধিতে ব্যক্তিগত কৈফিয়ত দেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মি. আলম। বলেন, আমার নির্বাচনি এলাকা মোকামতলার দূরবর্তী দুটি ইউনিয়ন সৈয়দপুর ও দেউলী ইউনিয়ন। এই দুইটি ইউনিয়ন অনেক বড় ছিল। স্থানীয় প্রশাসন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং জেলা প্রশাসক যাচাই বাছাই করে গণশুনানি করে সৈয়দপুর ইউনিয়নটি যেহেতু গাবতলী ও সোনাতলা সীমান্তে, সেই কারণে সৈয়দপুরের সঙ্গে নাম মিল করে সীমান্তবর্তী হওয়ায় নতুন ইউনিয়নের নাম করেছে সীমান্ত ইউনিয়ন।
তিনি বলেন, আরেকটি ইউনিয়নের নাম ছিল দেউলী ইউনিয়ন। যেটি গাইবান্ধার একদম কাছে, অনেক দূরে হওয়ায় যে কারণে স্থানীয় প্রশাসন এবং জনগণের শুনানিতে সেই ইউনিয়নের নাম রাখা হয়েছে দিগন্ত ইউনিয়ন।
একই সঙ্গে মোকামতলা ইউনিয়নকে বিভক্ত করে মোকামতলা পৌরসভা গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। পৌরসভার অনুমোদন মিললে মোকামতলা উপজেলা ৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে পরিচালিত হবে। এর মধ্যে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের দুই পুত্র মীর সীমান্ত ও মীর দিগন্তে নামেও দুটি ইউনিয়ন পরিষদ ঘোষণা করা হয়েছে।
সরকারি গেজেট অনুযায়ী, ময়দানহাট্টা ইউনিয়ন ভেঙে স্বর্ণগ্রাম ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে। এ ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত মৌজাগুলো হলো— পলাশী, হাটগাড়ী, গোকর্ন, চন্দ্রহাটা, কচুয়া, গাথিলা গোপালপুর, ধাওয়াকান্দি, উত্তর কৃষ্টপুর, ছোবাহানপুর, কালুগাড়ী, ময়দানহাট্টা, দাড়িদহ, নিয়ামতপুর, বাগলপুর, চকবাগলপুর, খোর্দ্দ শোকড়া ও বুজরুক শোকড়া। মোট ১৭টি মৌজা নিয়ে গঠিত এ ইউনিয়নের জনসংখ্যা ১৮ হাজার ৯৩৪ জন।
সৈয়দপুর ইউনিয়ন ভেঙে গঠিত সীমান্ত ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত মৌজাগুলো হলো— মানকৈর, ভবানীপুর, অভিরামপুর, খেরুয়াপাড়া, কিশোরীপুর, জগন্নাথপুর, আমঝুপি, জীবনপুর, কুকি কালিদাস ও কুকি জগন্নাথপুর। ১১টি মৌজা নিয়ে গঠিত এ ইউনিয়নের জনসংখ্যা ১৬ হাজার ২৬৭ জন।
দেউলী ইউনিয়ন ভেঙে গঠিত দীগন্ত ইউনিয়নের মৌজাগুলো হলো-ভরিয়া (ভৈরা), মেঘাখর্দ্দ, আলমপুর, রহবল, সাওয়ালদহ, কৃষ্ণপুর, তালিবপুর ও বোয়ালমারী। মোট ৮টি মৌজা নিয়ে গঠিত এ ইউনিয়নের জনসংখ্যা ১৭ হাজার ৭৫৯ জন।
পুনর্গঠিত ইউনিয়নগুলোর মধ্যে নবগঠিত স্বর্ণগ্রাম, সীমান্ত ও দিগন্ত ইউনিয়ন, মোকামতলা পৌরসভা এবং শিবগঞ্জ পৌরসভার বর্ধিত অংশ বাদ দিয়ে অবশিষ্ট মৌজাগুলো নিয়ে পাঁচটি ইউনিয়ন পুনর্গঠন করা হয়েছে।