মোঃ তাজুল ইসলাম, নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় দিন দিন বেড়েই চলেছে বেওয়ারিশ ও ভবঘুরে কুকুরের উপদ্রব। উপজেলা সদর, বিভিন্ন বাজার, সড়ক ও আবাসিক এলাকায় দলবদ্ধভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে এসব কুকুর। এতে পথচারী, শিক্ষার্থী, নারী ও বয়স্কদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বিভিন্ন সড়ক ও বাজার এলাকায় কুকুরের দল চলাচল করায় অনেকেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। মোটরসাইকেল ও সাইকেল আরোহীদের পিছু নেওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, কিছু এলাকায় কুকুরের সংখ্যা এতটাই বেড়েছে যে রাতে একা চলাচল করতে ভয় পান সাধারণ মানুষ। শিশুদের স্কুলে যাওয়া-আসার সময়ও অভিভাবকদের বাড়তি সতর্ক থাকতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি কোনো কার্যকর ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না। নিয়মিত টিকাদান, বন্ধ্যাকরণ এবং অসুস্থ বা আক্রমণাত্মক কুকুর ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশে জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ব্যাপক হারে কুকুরকে জলাতঙ্কের টিকা দেওয়া। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বাংলাদেশে গণ কুকুর টিকাদান কর্মসূচিকে জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবে উল্লেখ করেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের National Guideline for Animal Bite Management in Bangladesh 2021-এ প্রাণীর কামড়ের পর যথাযথ চিকিৎসা নেওয়া এবং জলাতঙ্ক প্রতিরোধের বিষয়ে নির্দেশনা রয়েছে।
এলাকাবাসী বলছেন, শুধু কুকুর সরিয়ে দিলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। কুকুরের প্রজনন নিয়ন্ত্রণ, জলাতঙ্কের টিকাদান, ময়লা-আবর্জনা যথাযথভাবে অপসারণ এবং আক্রমণাত্মক কুকুর চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
তাদের অভিযোগ, বাজার ও আবাসিক এলাকার যেখানে-সেখানে খাবারের উচ্ছিষ্ট ও বর্জ্য পড়ে থাকায় কুকুরের আনাগোনা আরও বাড়ছে। তাই কুকুর নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগ চান স্থানীয়রা। একই সঙ্গে নিয়মিত কুকুরের টিকাদান ও বন্ধ্যাকরণ কর্মসূচি চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন—বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা আরও বেড়ে যাওয়ার আগে প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নেবে কবে?