সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে দেশটির সহযোগিতা চেয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
রোববার (২৬ জুলাই) ঢাকায় বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলি আবদুল্লাহ আল হামুদির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ আহ্বান জানান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও আরব আমিরাতের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ অভিবাসন নিশ্চিত করা এবং বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের কল্যাণ ও বৈধ স্বার্থ রক্ষায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি জানান, ২০২৬ সালের মধ্যে উভয় দেশের সুবিধাজনক সময়ে ঢাকায় বাংলাদেশ-ইউএই দ্বিতীয় যুগ্ম কনস্যুলার কমিটির বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ। ওই বৈঠকে কনস্যুলার ও অভিবাসন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনার পাশাপাশি এ খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও আরব আমিরাতের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বও পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, অবকাঠামো, বন্দর, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণে উভয় পক্ষ তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
এ ছাড়া, প্রস্তাবিত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ) নিয়ে আলোচনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। উভয় পক্ষের মতে, এ চুক্তি বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার জন্য একটি শক্তিশালী কাঠামো তৈরি হবে।
বৈঠকে বাংলাদেশ-ইউএই যৌথ ব্যবসায়িক কাউন্সিল পুনরায় সক্রিয় করা এবং সুবিধাজনক সময়ে এর বৈঠক আয়োজনের বিষয়েও উভয় দেশ একমত হয়।
এ সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত, সম্প্রতি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির অধিবেশনে ওয়াদি উরাইয়াহ ন্যাশনাল পার্ককে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে বাংলাদেশের সমর্থনের জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানান।
বৈঠকের শেষে উভয় পক্ষ দুই দেশের জনগণের অভিন্ন স্বার্থে বহুমাত্রিক অংশীদারিত্ব আরও গভীর করতে এবং পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।